বগুড়ার ধুনট উপজেলার ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষাথীরা। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ওই কর্মসূচি পালন করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্র্থীরা।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম সৎ, পরিশ্রমী ও মেধাবী শিক্ষক। পরিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীর দায়েরকৃত মিথ্যা হত্যা চেষ্টা মামলায় তাকে জেল খাটতে হয়েছে এবং তাকে চাকরিচ্যুতও করা হয়েছে। আমরা এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠ তদন্ত করে তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানাই।
মামলা ও স্থানীয়সূত্রে জানাযায়, ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াহাটা গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে ২০০৬ সালে চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে মিনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কণ্যা সন্তান রয়েছে।
এমতাবস্থায় ২০২০ সালের ২৮ আগষ্ট পারিবারিক কলহের জের ধরে মিনা খাতুন বগুড়ার আদালতে যৌতুক ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা চলাকালীন সময়ে মিনা খাতুন ও জাহাঙ্গীর আলমের ডিভোর্স হয়। এদিকে ওই মামলায় শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলমকে তিন বছরের কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জারিমানা করে রায় ঘোষণা করেন। এরপর আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানামূলে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
এদিকে আদালতের রায় ঘোষণার পর বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) জাহাঙ্গীর আলমকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
এবিষয়ে ভুক্তেভোগি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদালতের হাজিরা নোটিশ গোপন করে আমাকে পলাতক আসামী দেখিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে আমি উচ্চ আদালতে যাব। আদালত অবশ্যই ন্যায় বিচার করবেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং বেতন ভাতাদিও স্থগিত রাখা রয়েছে।
তবে মানববন্ধন কর্মসূচিতে ন্যায় পরায়ন শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে তাকে চাকরিতে পুনবর্হাল করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 
























