০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই ক্লাসে নিয়মিত অনুপস্থিত

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাসে উপস্থিতি ক্রমেই আশঙ্কাজনক হারে কমছে, যার সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে। বর্তমানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে গড়ে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত থাকছে, যার অর্থ হলো বাকি ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই পাঠদানে অনিয়মিত। দীর্ঘদিনের এ ব্যাপক অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ শিখন ঘাটতি।

সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ধস নামায় এই বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন দেশের শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে মনোযোগের অভাব রয়েছে। আমরা বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণায় দেখছি, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে গড়ে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত থাকছে। বাকি ৬৫-৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে আমরা নিয়মিত ক্লাসে আনতে পারছি না। এটা তো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ফল খারাপ হওয়ার পেছনে এটি হয়তো বড় কারণ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরপত্র বা খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে নির্ভুল করার কাজ আমরা করছি। এটা সুষ্ঠুভাবে করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনো একটি যৌক্তিক ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। সে কারণে নিম্নমুখী ফল দেখতে হচ্ছে আমাদের।’

ফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের একাগ্রতা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অবহেলা রয়েছে। তারা ক্লাসে কম যাচ্ছে, বাইরে ঘোরাঘুরি ও মোবাইল ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এগুলো ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। এবারের ফলাফলে সারাদেশের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন ও হতাশ।’

তবে শুধু ফল বিশ্লেষণ বা দুর্বলতা চিহ্নিত করেই সংকট কাটানো যাবে না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট রয়েছে। দ্রুত শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ, বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তরে ইংরেজি, গণিত ও আইসির ভিত্তি শক্তিশালী করা জরুরি। অন্যথায় উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল প্রত্যাশা করা কঠিন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আইসিটি ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিসুবিধাও বাড়াতে হবে।’ তিনি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। এমনকি ২০০৪ সালের পর গত ২১ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সর্বনিম্ন। এছাড়া এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন, যা গত বছরের চেয়ে ২৯ হাজার ১৩ জন কম। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই ক্লাসে নিয়মিত অনুপস্থিত

Update Time : ০৫:২১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাসে উপস্থিতি ক্রমেই আশঙ্কাজনক হারে কমছে, যার সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে। বর্তমানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে গড়ে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত থাকছে, যার অর্থ হলো বাকি ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই পাঠদানে অনিয়মিত। দীর্ঘদিনের এ ব্যাপক অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ শিখন ঘাটতি।

সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ধস নামায় এই বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন দেশের শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে মনোযোগের অভাব রয়েছে। আমরা বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণায় দেখছি, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে গড়ে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত থাকছে। বাকি ৬৫-৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে আমরা নিয়মিত ক্লাসে আনতে পারছি না। এটা তো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ফল খারাপ হওয়ার পেছনে এটি হয়তো বড় কারণ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরপত্র বা খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে নির্ভুল করার কাজ আমরা করছি। এটা সুষ্ঠুভাবে করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনো একটি যৌক্তিক ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। সে কারণে নিম্নমুখী ফল দেখতে হচ্ছে আমাদের।’

ফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের একাগ্রতা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অবহেলা রয়েছে। তারা ক্লাসে কম যাচ্ছে, বাইরে ঘোরাঘুরি ও মোবাইল ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এগুলো ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। এবারের ফলাফলে সারাদেশের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন ও হতাশ।’

তবে শুধু ফল বিশ্লেষণ বা দুর্বলতা চিহ্নিত করেই সংকট কাটানো যাবে না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট রয়েছে। দ্রুত শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ, বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তরে ইংরেজি, গণিত ও আইসির ভিত্তি শক্তিশালী করা জরুরি। অন্যথায় উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল প্রত্যাশা করা কঠিন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আইসিটি ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিসুবিধাও বাড়াতে হবে।’ তিনি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। এমনকি ২০০৪ সালের পর গত ২১ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সর্বনিম্ন। এছাড়া এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন, যা গত বছরের চেয়ে ২৯ হাজার ১৩ জন কম। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন।