০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

৭ দফা না মানলে এক দফার পাথরের নিচে পিষ্ট হয়ে যাবেন: জামায়াত আমির

১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় রূপান্তরিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এই সাত দফা মেনে নেন। তাহলে এক দফার পাথর আপনাদের উপর চাপবে না। কিন্তু সাত দফা যদি ভালোয় ভালোয় না মানেন, তাহলে এক দফার পাথরের নিচে পিষ্ট হয়ে যাবেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০টায় ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সেখানে তাদের দাবি হবে একান্ন ভাগ মানুষ, একান্ন ভাগ ভোটার তাদেরকে ভোট দিয়েছে। দ্বিতীয় আরেকটি ভোট আপনারা দিয়েছিলেন। তারাও বলেছিল, হ্যাঁ বলুন। আমরা বলেছিলাম, হ্যাঁ বলুন। সেই ভোটে সত্তর ভাগ মানুষ হ্যাঁ-তে ভোট দিয়েছে। একান্ন ভাগ মানুষের ভোটকে তারা সম্মান করে। কিন্তু সত্তর ভাগ মানুষের ভোটকে তারা অপমানিত করেছে। তারা কোন ভোটের রায় বাস্তবায়ন এখনো করেনি। তারা ধানাই-পানাই করছে। ডানে যায় একবার, বামে যায় আরেকবার। আমাদেরকে বিভিন্ন লোভ দেখায়।

তিনি বলেন, আমরা ব্যক্তির জন্য সংসদে যাইনি। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্যও যাইনি। আপনারা সাক্ষী, নির্বাচনের আগেই আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, যদি আমাদের জোট নির্বাচিত হয়, আমরা যদি সরকার গঠনের সুযোগ পাই, তাহলে আমরা সরকারি কোনো প্লট গ্রহণ করবো না। আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমাদের কোন এমপি-মন্ত্রী ট্যাক্সবিহীন গাড়ি বিদেশ থেকে আমদানি করবেন না। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। সরকার বাধ্য হয়ে আমাদের কথার সঙ্গে একমত হয়েছে।

বিরোধী দলের এই নেতা বলেন, তারাও (বিএনপি) বলেছিল, আমরাও বলেছিলাম, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে আমরা অক্ষরে অক্ষরে এই গণভোটের দাবি পূরণ করবো। কিন্তু তারা এখন এখান থেকে সরে গিয়েছে। সংসদে দাঁড়িয়ে তাদের একজন বলেছেন, আমরা সেইদিন অনেক কিছু সবকিছু মেনে নিয়েছিলাম ভোটটা যদি না হয়। অর্থাৎ গদিটা যদি দখল করতে না পারি। কিন্তু চৌদ্দ শত আমাদের বুকের সন্তান তারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে একদলকে সরাইয়ে আরেক দলকে গদিতে বসানোর জন্য এই রক্ত দেয়নি। তারা একটা পরিবর্তন চেয়েছিল। বাংলাদেশকে মেরামত করতে চেয়েছিল। আমরা সেই মেরামত এবং রাষ্ট্র সংস্কার চাই।

তিনি বলেন, আমাদের কথা স্পষ্ট। সরকারকে এটা মানতেই হবে। কারণ এটা জনগণের রায়। সত্তর ভাগ জনগণ রায় দিয়ে বলেছে, এই ভোট অগ্রাহ্য করার কোনো অধিকার সরকারের নেই। যদি সংসদ নির্বাচন অবৈধ হয়, তাইলে গণভোটও অবৈধ। আর গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাইলে সংসদ নির্বাচন কখনো বৈধ হবে না। তাহলে কোন সরকার নেই, কোন বিরোধী দল নেই। এটা হতে পারে না। এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। আমরা এগারো দল বিশ্বাসঘাতকতা করতে দেব না। এই জায়গায় সরকারকে আসতে বাধ্য করবো। এটি আজ হোক, কাল হোক। সোজা আঙুল হলে ভালো, না হলে আঙুল বাঁকা হবে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর, আবেদন শুরু ১ নভেম্বর

৭ দফা না মানলে এক দফার পাথরের নিচে পিষ্ট হয়ে যাবেন: জামায়াত আমির

Update Time : ০৪:২৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় রূপান্তরিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এই সাত দফা মেনে নেন। তাহলে এক দফার পাথর আপনাদের উপর চাপবে না। কিন্তু সাত দফা যদি ভালোয় ভালোয় না মানেন, তাহলে এক দফার পাথরের নিচে পিষ্ট হয়ে যাবেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০টায় ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সেখানে তাদের দাবি হবে একান্ন ভাগ মানুষ, একান্ন ভাগ ভোটার তাদেরকে ভোট দিয়েছে। দ্বিতীয় আরেকটি ভোট আপনারা দিয়েছিলেন। তারাও বলেছিল, হ্যাঁ বলুন। আমরা বলেছিলাম, হ্যাঁ বলুন। সেই ভোটে সত্তর ভাগ মানুষ হ্যাঁ-তে ভোট দিয়েছে। একান্ন ভাগ মানুষের ভোটকে তারা সম্মান করে। কিন্তু সত্তর ভাগ মানুষের ভোটকে তারা অপমানিত করেছে। তারা কোন ভোটের রায় বাস্তবায়ন এখনো করেনি। তারা ধানাই-পানাই করছে। ডানে যায় একবার, বামে যায় আরেকবার। আমাদেরকে বিভিন্ন লোভ দেখায়।

তিনি বলেন, আমরা ব্যক্তির জন্য সংসদে যাইনি। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্যও যাইনি। আপনারা সাক্ষী, নির্বাচনের আগেই আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, যদি আমাদের জোট নির্বাচিত হয়, আমরা যদি সরকার গঠনের সুযোগ পাই, তাহলে আমরা সরকারি কোনো প্লট গ্রহণ করবো না। আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমাদের কোন এমপি-মন্ত্রী ট্যাক্সবিহীন গাড়ি বিদেশ থেকে আমদানি করবেন না। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। সরকার বাধ্য হয়ে আমাদের কথার সঙ্গে একমত হয়েছে।

বিরোধী দলের এই নেতা বলেন, তারাও (বিএনপি) বলেছিল, আমরাও বলেছিলাম, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে আমরা অক্ষরে অক্ষরে এই গণভোটের দাবি পূরণ করবো। কিন্তু তারা এখন এখান থেকে সরে গিয়েছে। সংসদে দাঁড়িয়ে তাদের একজন বলেছেন, আমরা সেইদিন অনেক কিছু সবকিছু মেনে নিয়েছিলাম ভোটটা যদি না হয়। অর্থাৎ গদিটা যদি দখল করতে না পারি। কিন্তু চৌদ্দ শত আমাদের বুকের সন্তান তারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে একদলকে সরাইয়ে আরেক দলকে গদিতে বসানোর জন্য এই রক্ত দেয়নি। তারা একটা পরিবর্তন চেয়েছিল। বাংলাদেশকে মেরামত করতে চেয়েছিল। আমরা সেই মেরামত এবং রাষ্ট্র সংস্কার চাই।

তিনি বলেন, আমাদের কথা স্পষ্ট। সরকারকে এটা মানতেই হবে। কারণ এটা জনগণের রায়। সত্তর ভাগ জনগণ রায় দিয়ে বলেছে, এই ভোট অগ্রাহ্য করার কোনো অধিকার সরকারের নেই। যদি সংসদ নির্বাচন অবৈধ হয়, তাইলে গণভোটও অবৈধ। আর গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাইলে সংসদ নির্বাচন কখনো বৈধ হবে না। তাহলে কোন সরকার নেই, কোন বিরোধী দল নেই। এটা হতে পারে না। এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। আমরা এগারো দল বিশ্বাসঘাতকতা করতে দেব না। এই জায়গায় সরকারকে আসতে বাধ্য করবো। এটি আজ হোক, কাল হোক। সোজা আঙুল হলে ভালো, না হলে আঙুল বাঁকা হবে।