০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় ৬৩ কোটি টাকার প্রাকৃতিক জলাশয় উদ্ধার

 

দীর্ঘদিনের জটিলতা ও দখলচেষ্টার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বগুড়া শহরের স্টেশন রোডসংলগ্ন চকবৃন্দাবন মৌজার আলোচিত রেলওয়ের প্রাকৃতিক জলাশয়টি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে জলাশয়ের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে পুকুরটির সীমানা নির্ধারণ ও মাটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, ১ একর ২৮ শতক আয়তনের এই জলাশয়টি দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাটের ঝুঁকিতে ছিল। ২০২৩ সালে কৃষি লিজ নেওয়ার পর পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি নথিতে জমির শ্রেণি ‘ভিটা’ হিসেবে পরিবর্তন করে প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যমানের এই জমিতে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা চলে। ওই সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বাধার মুখে ভরাট বন্ধ হয়েছিল।

আজ অভিযান পরিচালনাকারী বগুড়া সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, নগরে জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের ব্যবহারের উপযোগী জলাশয় নেই। জনস্বার্থে জরুরি পানি সংরক্ষণ, অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা এবং বিনোদনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এটি উদ্ধার করা হচ্ছে। দাখিল করা শ্রেণি পরিবর্তনের নথি তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে এবং আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিজগ্রহীতারা দাবি করেন, রেলওয়ের কাছ থেকে নিয়ম মেনে লিজ নিয়ে খাজনা বাবদ প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে দেওয়া হয়েছে। চার গ্রুপের প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়ী সেখানে যুক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের বগুড়ার কানুনগো রাজিবুজ্জামান জানান, মূল আরএস খতিয়ানে জমিটি ‘পুকুর’ শ্রেণিভুক্ত এবং সেভাবেই বাণিজ্যিক লিজ দেওয়া হয়েছিল, ভিটা হিসেবে নয়। পরবর্তীতে শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদন জেলা প্রশাসন নাকচ করে দেয়।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই প্রাকৃতিক জলাশয়টি সম্পূর্ণ পুনঃখনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে এবং পরবর্তীতে একটি দৃষ্টিনন্দন বিনোদনকেন্দ্র ও লেক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় ৬৩ কোটি টাকার প্রাকৃতিক জলাশয় উদ্ধার

Update Time : ০৭:১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

দীর্ঘদিনের জটিলতা ও দখলচেষ্টার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বগুড়া শহরের স্টেশন রোডসংলগ্ন চকবৃন্দাবন মৌজার আলোচিত রেলওয়ের প্রাকৃতিক জলাশয়টি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে জলাশয়ের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে পুকুরটির সীমানা নির্ধারণ ও মাটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, ১ একর ২৮ শতক আয়তনের এই জলাশয়টি দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাটের ঝুঁকিতে ছিল। ২০২৩ সালে কৃষি লিজ নেওয়ার পর পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি নথিতে জমির শ্রেণি ‘ভিটা’ হিসেবে পরিবর্তন করে প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যমানের এই জমিতে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা চলে। ওই সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বাধার মুখে ভরাট বন্ধ হয়েছিল।

আজ অভিযান পরিচালনাকারী বগুড়া সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, নগরে জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের ব্যবহারের উপযোগী জলাশয় নেই। জনস্বার্থে জরুরি পানি সংরক্ষণ, অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা এবং বিনোদনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এটি উদ্ধার করা হচ্ছে। দাখিল করা শ্রেণি পরিবর্তনের নথি তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে এবং আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিজগ্রহীতারা দাবি করেন, রেলওয়ের কাছ থেকে নিয়ম মেনে লিজ নিয়ে খাজনা বাবদ প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে দেওয়া হয়েছে। চার গ্রুপের প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়ী সেখানে যুক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের বগুড়ার কানুনগো রাজিবুজ্জামান জানান, মূল আরএস খতিয়ানে জমিটি ‘পুকুর’ শ্রেণিভুক্ত এবং সেভাবেই বাণিজ্যিক লিজ দেওয়া হয়েছিল, ভিটা হিসেবে নয়। পরবর্তীতে শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদন জেলা প্রশাসন নাকচ করে দেয়।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই প্রাকৃতিক জলাশয়টি সম্পূর্ণ পুনঃখনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে এবং পরবর্তীতে একটি দৃষ্টিনন্দন বিনোদনকেন্দ্র ও লেক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।