১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাটোরে নিখোঁজের ১৪ মাস পর যশোর থেকে এক শিশু উদ্ধার

 

নাটোরের বাগাতিপাড়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৪ মাস পর ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে যশোর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটিকে অপহরণ ও ভারতে পাচারের অভিযোগে বন্ধন কুমার (২২) নামে এক যুবকসহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শিশুটির নানি আছমা খাতুন বাগাতিপাড়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত বন্ধন কুমার একই উপজেলার জামনগর মাঝিপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক শ্রী সুনীলের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা ঢাকায় কর্মরত থাকায় সে বাগাতিপাড়ার জামনগর পশ্চিমপাড়ায় নানির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। গত বছরের জুন মাসে বাড়ির পাশ থেকে সে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘদিনেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১২ জুলাই বাগাতিপাড়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

দীর্ঘ ১৪ মাস পর চলতি বছরের ২৫ আগস্ট শিশুটি যশোরের মনিহার এলাকা থেকে এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে বাবা-মায়ের কাছে ঢাকায় নিয়ে যান। পরবর্তীতে তারা বাগাতিপাড়ায় এসে শনিবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

শিশুটি পরিবারের সদস্যদের জানায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন অভিযুক্ত বন্ধন তাকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে বাড়ির কাছে একটি আমবাগানে যেতে বলে। সেখানে পৌঁছালে একটি সাদা প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ফুসলিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

পরিবারের অভিযোগ, পরে শিশুটিকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়। সেখানে একটি পাচারকারী চক্র তাকে দিয়ে বিভিন্ন অবৈধ কাজ করাত। কয়েকবার পালানোর চেষ্টা করেও সে ব্যর্থ হয়। অবশেষে সুযোগ পেয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে এবং যশোরের মনিহার এলাকা থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

শিশুটির নানি আছমা খাতুন বলেন, নাতি নিখোঁজ হওয়ার পর বন্ধন আমাদের জানিয়েছিল, সে নাকি তাকে তিনটি ভিন্ন রেল স্টেশনে দেখেছে। তখন আমরা তাকে সন্দেহ করিনি। কিন্তু এখন নাতির কাছ থেকে সব শুনে বুঝতে পারছি, সে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বন্ধন কুমার। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস ঢাকা পোস্টকে বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরে নিখোঁজের ১৪ মাস পর যশোর থেকে এক শিশু উদ্ধার

Update Time : ০৮:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নাটোরের বাগাতিপাড়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৪ মাস পর ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে যশোর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটিকে অপহরণ ও ভারতে পাচারের অভিযোগে বন্ধন কুমার (২২) নামে এক যুবকসহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শিশুটির নানি আছমা খাতুন বাগাতিপাড়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত বন্ধন কুমার একই উপজেলার জামনগর মাঝিপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক শ্রী সুনীলের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা ঢাকায় কর্মরত থাকায় সে বাগাতিপাড়ার জামনগর পশ্চিমপাড়ায় নানির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। গত বছরের জুন মাসে বাড়ির পাশ থেকে সে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘদিনেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১২ জুলাই বাগাতিপাড়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

দীর্ঘ ১৪ মাস পর চলতি বছরের ২৫ আগস্ট শিশুটি যশোরের মনিহার এলাকা থেকে এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে বাবা-মায়ের কাছে ঢাকায় নিয়ে যান। পরবর্তীতে তারা বাগাতিপাড়ায় এসে শনিবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

শিশুটি পরিবারের সদস্যদের জানায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন অভিযুক্ত বন্ধন তাকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে বাড়ির কাছে একটি আমবাগানে যেতে বলে। সেখানে পৌঁছালে একটি সাদা প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ফুসলিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

পরিবারের অভিযোগ, পরে শিশুটিকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়। সেখানে একটি পাচারকারী চক্র তাকে দিয়ে বিভিন্ন অবৈধ কাজ করাত। কয়েকবার পালানোর চেষ্টা করেও সে ব্যর্থ হয়। অবশেষে সুযোগ পেয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে এবং যশোরের মনিহার এলাকা থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

শিশুটির নানি আছমা খাতুন বলেন, নাতি নিখোঁজ হওয়ার পর বন্ধন আমাদের জানিয়েছিল, সে নাকি তাকে তিনটি ভিন্ন রেল স্টেশনে দেখেছে। তখন আমরা তাকে সন্দেহ করিনি। কিন্তু এখন নাতির কাছ থেকে সব শুনে বুঝতে পারছি, সে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বন্ধন কুমার। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস ঢাকা পোস্টকে বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।