সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় রায়গঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোক্তাদির ওরফে মুত্তাকিনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার গোলাম মোক্তাদির মামলার ৮ নম্বর এবং আলমগীর হোসেন ১১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলা সদরের ধানগড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে একটি ক্যাফে ফাস্টফুডে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেন (২৫) রায়গঞ্জ উপজেলার রনতিথা গ্রামের বাবলুর ছেলে। অন্যদিকে গোলাম মোক্তাদির ওরফে মুত্তাকিন (৪২) উপজেলার গুনগাতী গ্রামের মোশাররফ আকন্দের ছেলে। তাকে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই রাতেই রায়গঞ্জ থানায় মামলা করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান।
মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে।
এদিকে এমপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াত। উপজেলা জামায়াতের আমির আলী মর্তুজা ও সেক্রেটারি এস এম মুনসুর আলী এক বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করার বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে, এমপি আয়নুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)কে দায়ী করে দেওয়া বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটির সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটি।
এনসিপির সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) হযরত আলী উসমান এক বিবৃতিতে বলেন, তদন্ত ছাড়াই এ ঘটনায় এনসিপির নেতাকর্মীদের দোষারোপ করা হয়েছে। তিনি হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 
























