০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

অসুস্থ নাবিকদের নিয়ে ফিরে যাচ্ছে মার্কিন রণতরি

 

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েন করা রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৬৬ দিন পর দেশে ফিরে যাচ্ছে। রণতরিটিতে থাকা পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা মানসিকভাবে অসুস্থ; তাদের কেউ কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন-এমন নানা খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসছিল। এ অবস্থায় শনিবার রণতরি পরিদর্শন করেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার এ পরিদর্শনের পরই ‘লিংকন’ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে রওয়ানা করছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমটি জানায়, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক কার্যক্রমের তদারকিতে থাকা মার্কিন অ্যাডমিরাল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পরিদর্শন করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধকালীন মোতায়েন শেষে বিমানবাহী রণতরিটি এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের এ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তার ১০ দিনের সফর সমাপ্ত করেন। এ সফরে তিনি বাহরাইন, ইরাক, ইসরাইল, জর্ডান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও পরিদর্শন করেছিলেন। কোনো বন্দরে নোঙর না করে টানা ৯ মাস সমুদ্রে মোতায়েন থাকার ফলে নাবিকদের জীবনযাত্রার মান খারাপ হওয়া এবং কারও কারও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মুখে পড়ার খবরের মধ্যেই ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ পরিদর্শনের ঘটনাটি ঘটল। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে জড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও মার্কিন সেনাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তারা মনে করেন ইসরাইলের যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মাসের পর মাস টানা সাগরে থাকায় এবং পরিবারের সংস্পর্শে না থাকায় সেনাদের মধ্যে হতাশা বাড়তে থাকে। সম্প্রতি আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই রণতরি থেকে এক মার্কিন সেনা সাগরে ঝাঁপ দিয়েছেন। তবে এটা আত্মহত্যার চেষ্টা ছিল কিনা, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, গত মে মাসে এ নৌবহরের সদস্যদের দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হং কাও জানিয়েছেন, তাদের মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কারণ, মিশনের প্রয়োজনে এটা করা জরুরি।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কুপার রণতরি ‘লিংকন’ পরিদর্শন করেন। সে সময় সেন্টকম জানিয়েছিল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে জাহাজটি ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে।

আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন ইরানের সেনা কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মন্তব্য নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করাটা বড় ভুল। কারণ, এটি ইরান ও এর এমন সব রক্ষক রয়েছে, যারা আপনার পা ভেঙে দেবে।’ তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনীকে কার্যত সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের অনুমতি তাদের আর নেই। ইরানের জেনারেল বলেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে তাদের আগের অবস্থায় ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।

ইরান কখনোই তা হতে দেবে না।

দ্য ডন অনলাইন জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তার দেশ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি চুক্তি করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আর ইরানের পার্লামেন্টর স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান সত্যিকার জয় পেয়েছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

অসুস্থ নাবিকদের নিয়ে ফিরে যাচ্ছে মার্কিন রণতরি

Update Time : ০৭:২৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

 

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েন করা রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৬৬ দিন পর দেশে ফিরে যাচ্ছে। রণতরিটিতে থাকা পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা মানসিকভাবে অসুস্থ; তাদের কেউ কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন-এমন নানা খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসছিল। এ অবস্থায় শনিবার রণতরি পরিদর্শন করেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার এ পরিদর্শনের পরই ‘লিংকন’ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে রওয়ানা করছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমটি জানায়, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক কার্যক্রমের তদারকিতে থাকা মার্কিন অ্যাডমিরাল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পরিদর্শন করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধকালীন মোতায়েন শেষে বিমানবাহী রণতরিটি এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের এ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তার ১০ দিনের সফর সমাপ্ত করেন। এ সফরে তিনি বাহরাইন, ইরাক, ইসরাইল, জর্ডান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও পরিদর্শন করেছিলেন। কোনো বন্দরে নোঙর না করে টানা ৯ মাস সমুদ্রে মোতায়েন থাকার ফলে নাবিকদের জীবনযাত্রার মান খারাপ হওয়া এবং কারও কারও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মুখে পড়ার খবরের মধ্যেই ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ পরিদর্শনের ঘটনাটি ঘটল। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে জড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও মার্কিন সেনাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তারা মনে করেন ইসরাইলের যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মাসের পর মাস টানা সাগরে থাকায় এবং পরিবারের সংস্পর্শে না থাকায় সেনাদের মধ্যে হতাশা বাড়তে থাকে। সম্প্রতি আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই রণতরি থেকে এক মার্কিন সেনা সাগরে ঝাঁপ দিয়েছেন। তবে এটা আত্মহত্যার চেষ্টা ছিল কিনা, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, গত মে মাসে এ নৌবহরের সদস্যদের দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হং কাও জানিয়েছেন, তাদের মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কারণ, মিশনের প্রয়োজনে এটা করা জরুরি।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কুপার রণতরি ‘লিংকন’ পরিদর্শন করেন। সে সময় সেন্টকম জানিয়েছিল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে জাহাজটি ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে।

আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন ইরানের সেনা কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মন্তব্য নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করাটা বড় ভুল। কারণ, এটি ইরান ও এর এমন সব রক্ষক রয়েছে, যারা আপনার পা ভেঙে দেবে।’ তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনীকে কার্যত সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের অনুমতি তাদের আর নেই। ইরানের জেনারেল বলেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে তাদের আগের অবস্থায় ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।

ইরান কখনোই তা হতে দেবে না।

দ্য ডন অনলাইন জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তার দেশ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি চুক্তি করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আর ইরানের পার্লামেন্টর স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান সত্যিকার জয় পেয়েছে।