০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

চুনারুঘাটে নজরকাড়া আবাসিক পাখি ‘কালো মথুরা’

 

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও দেখা মিলেছে দেশের অন্যতম বিরল আবাসিক পাখি ‘কালো মথুরা’র।

সম্প্রতি বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আনিস শেখ উদ্যানের গভীর অরণ্যে একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ কালো মথুরার দুর্লভ ছবি ধারণ করেছেন। ছবি প্রকাশের পর প্রকৃতিপ্রেমী, পাখিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

বন বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো মথুরা বাংলাদেশের অতি বিরল প্রজাতির একটি বনমুরগি। এরা সাধারণত ঘন চিরসবুজ বনাঞ্চলে বসবাস করে এবং অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের হওয়ায় মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত ঝোপঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। এ কারণে বনের মধ্যে এদের দেখা পাওয়া যেমন কঠিন, তেমনি ক্যামেরাবন্দি করাও অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আনিস শেখ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন পর্যবেক্ষণের পর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের একটি নির্জন এলাকায় তিনি পাখিটির সন্ধান পান। সে সময় কালো মথুরাটি বনের ঝরাপাতার ওপর খাবার খুঁজছিল। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ধৈর্যের সঙ্গে তিনি পাখিটির কয়েকটি ছবি ধারণ করেন।

তিনি বলেন, বনাঞ্চলে এমন বিরল প্রজাতির উপস্থিতি দেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, উপযুক্ত পরিবেশ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বিপন্ন বন্যপ্রাণীর টিকে থাকার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পায়।

প্রকৃতিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ কালো মথুরার শরীর চকচকে নীলাভ-কালো পালকে আবৃত থাকে। চোখের চারপাশে লাল রঙের খোলা চামড়া এবং সাদা-কালোর মিশ্রণে গঠিত লম্বা লেজ এ পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বনজ ফল, বিভিন্ন বীজ এবং ছোট পোকামাকড় এদের প্রধান খাদ্য।

উল্লেখ্য, ২৪৩ হেক্টর আয়তনের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণসহ অসংখ্য বিরল বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। সেখানে কালো মথুরার পুনরায় দেখা মেলা উদ্যানটির সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত গুরুত্বকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

চুনারুঘাটে নজরকাড়া আবাসিক পাখি ‘কালো মথুরা’

Update Time : ০৭:২৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

 

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও দেখা মিলেছে দেশের অন্যতম বিরল আবাসিক পাখি ‘কালো মথুরা’র।

সম্প্রতি বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আনিস শেখ উদ্যানের গভীর অরণ্যে একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ কালো মথুরার দুর্লভ ছবি ধারণ করেছেন। ছবি প্রকাশের পর প্রকৃতিপ্রেমী, পাখিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

বন বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো মথুরা বাংলাদেশের অতি বিরল প্রজাতির একটি বনমুরগি। এরা সাধারণত ঘন চিরসবুজ বনাঞ্চলে বসবাস করে এবং অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের হওয়ায় মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত ঝোপঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। এ কারণে বনের মধ্যে এদের দেখা পাওয়া যেমন কঠিন, তেমনি ক্যামেরাবন্দি করাও অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আনিস শেখ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন পর্যবেক্ষণের পর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের একটি নির্জন এলাকায় তিনি পাখিটির সন্ধান পান। সে সময় কালো মথুরাটি বনের ঝরাপাতার ওপর খাবার খুঁজছিল। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ধৈর্যের সঙ্গে তিনি পাখিটির কয়েকটি ছবি ধারণ করেন।

তিনি বলেন, বনাঞ্চলে এমন বিরল প্রজাতির উপস্থিতি দেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, উপযুক্ত পরিবেশ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বিপন্ন বন্যপ্রাণীর টিকে থাকার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পায়।

প্রকৃতিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ কালো মথুরার শরীর চকচকে নীলাভ-কালো পালকে আবৃত থাকে। চোখের চারপাশে লাল রঙের খোলা চামড়া এবং সাদা-কালোর মিশ্রণে গঠিত লম্বা লেজ এ পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বনজ ফল, বিভিন্ন বীজ এবং ছোট পোকামাকড় এদের প্রধান খাদ্য।

উল্লেখ্য, ২৪৩ হেক্টর আয়তনের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণসহ অসংখ্য বিরল বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। সেখানে কালো মথুরার পুনরায় দেখা মেলা উদ্যানটির সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত গুরুত্বকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।