১১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সীমা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (২.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, এর ফলে খরা, বন্যা ও ঝড়ের মতো চরম আবহাওয়া আরও বাড়বে এবং প্রকৃতি, বরফাবৃত অঞ্চল ও সমুদ্রপারের নিচু শহরগুলোর ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি হবে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি বা ইউএনইপি-এর মতে, তাপমাত্রাকে আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে নামিয়ে আনা তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও তা বেশ অনিশ্চিত। এর জন্য একদিকে যেমন দ্রুত কার্বন বা গ্যাস নির্গমন কমাতে হবে, অন্যদিকে বাতাসে জমে থাকা ক্ষতিকর কার্বন ডাই অক্সাইড টেনে নেওয়ার মতো কার্যকর ব্যবস্থাও নিতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বিশ্বনেতারা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যাতে চরম আবহাওয়ার হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচানো যায়।

তবে বর্তমানে তাপমাত্রা এই নির্দিষ্ট সীমা পার করে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হওয়ায়, তাপমাত্রা কত কম সময় এই সীমার ওপরে থাকে, সেদিকেই এখন বেশি নজর দিতে হবে বলে জানিয়েছে ইউএনইপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদক্ষেপে দেরি হওয়ার প্রতিটি মুহূর্ত এবং তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রির ওপরে যাওয়ার প্রতিটি মুহূর্তই ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে। এমনকি ভবিষ্যতে তাপমাত্রা কমানো গেলেও এর ফলে প্রকৃতির যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে, তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটি।

সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি বিবেচনা করলেও, দেশগুলো যদি তাদের বর্তমান প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তবুও তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকতে পারে। আর বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে এই তাপমাত্রা প্রায় ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাড়তি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে নতুন গাছ লাগানোর মতো কার্বন অপসারণের উপায়গুলো অত্যন্ত জরুরি। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন টেনে নেওয়ার এই পদ্ধতিগুলো কখনোই কলকারখানা ও অন্যান্য উৎস থেকে সরাসরি কার্বন নির্গমন কমানোর কোনো বিকল্প হতে পারে না।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পৃথিবীর তাপমাত্রা খুব শিগগিরই ১.৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম করতে পারে। তাই অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

Update Time : ০৫:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সীমা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (২.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, এর ফলে খরা, বন্যা ও ঝড়ের মতো চরম আবহাওয়া আরও বাড়বে এবং প্রকৃতি, বরফাবৃত অঞ্চল ও সমুদ্রপারের নিচু শহরগুলোর ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি হবে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি বা ইউএনইপি-এর মতে, তাপমাত্রাকে আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে নামিয়ে আনা তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও তা বেশ অনিশ্চিত। এর জন্য একদিকে যেমন দ্রুত কার্বন বা গ্যাস নির্গমন কমাতে হবে, অন্যদিকে বাতাসে জমে থাকা ক্ষতিকর কার্বন ডাই অক্সাইড টেনে নেওয়ার মতো কার্যকর ব্যবস্থাও নিতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বিশ্বনেতারা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যাতে চরম আবহাওয়ার হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচানো যায়।

তবে বর্তমানে তাপমাত্রা এই নির্দিষ্ট সীমা পার করে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হওয়ায়, তাপমাত্রা কত কম সময় এই সীমার ওপরে থাকে, সেদিকেই এখন বেশি নজর দিতে হবে বলে জানিয়েছে ইউএনইপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদক্ষেপে দেরি হওয়ার প্রতিটি মুহূর্ত এবং তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রির ওপরে যাওয়ার প্রতিটি মুহূর্তই ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে। এমনকি ভবিষ্যতে তাপমাত্রা কমানো গেলেও এর ফলে প্রকৃতির যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে, তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটি।

সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি বিবেচনা করলেও, দেশগুলো যদি তাদের বর্তমান প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তবুও তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকতে পারে। আর বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে এই তাপমাত্রা প্রায় ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাড়তি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে নতুন গাছ লাগানোর মতো কার্বন অপসারণের উপায়গুলো অত্যন্ত জরুরি। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন টেনে নেওয়ার এই পদ্ধতিগুলো কখনোই কলকারখানা ও অন্যান্য উৎস থেকে সরাসরি কার্বন নির্গমন কমানোর কোনো বিকল্প হতে পারে না।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পৃথিবীর তাপমাত্রা খুব শিগগিরই ১.৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম করতে পারে। তাই অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।