০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা পরিষ্কার করুন: মান্না

 

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী, তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘জ্বালানি ও জীবনের নিরাপত্তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হাসান মামুন, প্রেসিডিয়াম সদস্য দেলোয়ার হোসেন রাজা, জিন্নুর চৌধুরী দিপু ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সারসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

সভাপতির বক্তব্যে মান্না বলেন, সরকার জ্বালানি খাতে এখন পর্যন্ত যা করছে, তার মধ্যে বড়জোর পপুলিজম দেখা যাচ্ছে; কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের কী পরিকল্পনা, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনেক অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এত বড় বিদ্যুৎ সংকট হয়নি। তাহলে এখন কেন এমন সংকট তৈরি হলো যে সরকারকে বলতে হচ্ছে, আগামী দুই বছরেও পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন সম্ভব হবে না?

‘দুই বছর ধরে যদি বিদ্যুতের এই পরিস্থিতি থাকে, তাহলে দেশের অর্থনীতি, গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও অন্যান্য শিল্প কীভাবে টিকে থাকবে?’—প্রশ্ন রাখেন তিনি।

মান্না বলেন, গার্মেন্টস মালিকরা নিজেদের উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ চেয়েছেন। ঢাকার গার্মেন্টস মালিকদের দাবি, সুযোগ ও অনুমতি দেওয়া হলে তারা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনার মতো বড় শহরে সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন বাঁচার তাগিদে এমন কিছু করতে হবে, যা হয়তো অসম্ভব মনে হয়। কিন্তু সরকারের মধ্যে সেই তাগিদ আমি দেখছি না।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, জ্বালানি সংকটের একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা পকেটের আস্তিনের মধ্যে লুকিয়ে রাখলে চলবে না, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করতে হবে।

ছয়টি এলএনজি কার্গো আসার কথা থাকলেও একটি আসেনি—এমন অভিযোগের তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, কার দায়িত্বে ছিল, কার নির্দেশে এসব কার্গো আসেনি এবং এর ফলে গ্যাস সংকট কতটা বেড়েছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সিএনজি পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মান্না। তিনি বলেন, সংসদের সামনে এক শিক্ষিকার মৃত্যু এবং রংপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অত্যন্ত মর্মান্তিক। এসব ঘটনায় সরকারকে আরও স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি থেকে আমরা তুলনামূলক ভালো পরিস্থিতিতে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে চরম খারাপ অবস্থা থেকে উঠে এসে সামান্য কম খারাপ পরিস্থিতিতে বাস করব।’

সরকারের বিভিন্ন ধরনের কার্ড বিতরণের সমালোচনা করে মান্না বলেন, সঠিক ডেটাবেজ ছাড়া কার্ড বিতরণ করা হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হতে পারেন। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ভালো উদ্যোগ হলেও এগুলোর কার্যকারিতা যাচাইয়ে সুনির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে সেটি জনগণকে জানানো উচিত। সরকার যদি সময়সীমাসহ পরিকল্পনা জানিয়ে মানুষের কাছে সহযোগিতা চাইত, তাহলে মানুষও বিষয়টি বুঝতে পারত।

সংসদের কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মান্না। গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারের আরও সতর্ক হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গুমের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে পুলিশ ও র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠেছে। সেই বাহিনীগুলোর বাইরে বেসামরিক ব্যক্তিদের নিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা করা হলে তা বেশি গ্রহণযোগ্য হতো।

মান্না বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ের। বিরোধী দলের আপত্তি ও পরামর্শ উপেক্ষা করে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আইন পাস করা হলে তা সরকারের জন্য ভবিষ্যতে ভালো ফল বয়ে আনবে না।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা পরিষ্কার করুন: মান্না

Update Time : ০৭:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী, তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘জ্বালানি ও জীবনের নিরাপত্তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হাসান মামুন, প্রেসিডিয়াম সদস্য দেলোয়ার হোসেন রাজা, জিন্নুর চৌধুরী দিপু ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সারসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

সভাপতির বক্তব্যে মান্না বলেন, সরকার জ্বালানি খাতে এখন পর্যন্ত যা করছে, তার মধ্যে বড়জোর পপুলিজম দেখা যাচ্ছে; কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের কী পরিকল্পনা, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনেক অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এত বড় বিদ্যুৎ সংকট হয়নি। তাহলে এখন কেন এমন সংকট তৈরি হলো যে সরকারকে বলতে হচ্ছে, আগামী দুই বছরেও পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন সম্ভব হবে না?

‘দুই বছর ধরে যদি বিদ্যুতের এই পরিস্থিতি থাকে, তাহলে দেশের অর্থনীতি, গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও অন্যান্য শিল্প কীভাবে টিকে থাকবে?’—প্রশ্ন রাখেন তিনি।

মান্না বলেন, গার্মেন্টস মালিকরা নিজেদের উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ চেয়েছেন। ঢাকার গার্মেন্টস মালিকদের দাবি, সুযোগ ও অনুমতি দেওয়া হলে তারা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনার মতো বড় শহরে সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন বাঁচার তাগিদে এমন কিছু করতে হবে, যা হয়তো অসম্ভব মনে হয়। কিন্তু সরকারের মধ্যে সেই তাগিদ আমি দেখছি না।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, জ্বালানি সংকটের একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা পকেটের আস্তিনের মধ্যে লুকিয়ে রাখলে চলবে না, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করতে হবে।

ছয়টি এলএনজি কার্গো আসার কথা থাকলেও একটি আসেনি—এমন অভিযোগের তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, কার দায়িত্বে ছিল, কার নির্দেশে এসব কার্গো আসেনি এবং এর ফলে গ্যাস সংকট কতটা বেড়েছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সিএনজি পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মান্না। তিনি বলেন, সংসদের সামনে এক শিক্ষিকার মৃত্যু এবং রংপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অত্যন্ত মর্মান্তিক। এসব ঘটনায় সরকারকে আরও স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি থেকে আমরা তুলনামূলক ভালো পরিস্থিতিতে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে চরম খারাপ অবস্থা থেকে উঠে এসে সামান্য কম খারাপ পরিস্থিতিতে বাস করব।’

সরকারের বিভিন্ন ধরনের কার্ড বিতরণের সমালোচনা করে মান্না বলেন, সঠিক ডেটাবেজ ছাড়া কার্ড বিতরণ করা হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হতে পারেন। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ভালো উদ্যোগ হলেও এগুলোর কার্যকারিতা যাচাইয়ে সুনির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে সেটি জনগণকে জানানো উচিত। সরকার যদি সময়সীমাসহ পরিকল্পনা জানিয়ে মানুষের কাছে সহযোগিতা চাইত, তাহলে মানুষও বিষয়টি বুঝতে পারত।

সংসদের কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মান্না। গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারের আরও সতর্ক হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গুমের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে পুলিশ ও র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠেছে। সেই বাহিনীগুলোর বাইরে বেসামরিক ব্যক্তিদের নিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা করা হলে তা বেশি গ্রহণযোগ্য হতো।

মান্না বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ের। বিরোধী দলের আপত্তি ও পরামর্শ উপেক্ষা করে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আইন পাস করা হলে তা সরকারের জন্য ভবিষ্যতে ভালো ফল বয়ে আনবে না।