১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়-রিজভী

 

জুলাই বিপ্লব বা ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়, বরং এটি ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, এই আন্দোলন ব্যর্থ হলে অনেকেরই ফাঁসি হয়ে যেত।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব) বিএমইউ শাখা।

রিজভী বলেন, ‘বিএনপির একটি সামাজিক ভিত্তি আছে এবং আন্দোলনে সেই ভিত্তিটি কাজে লেগেছে। জুলাই বিপ্লব কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে এক দফার আন্দোলনে রূপ নিলেও এর পেছনে বিএনপির ১৭ বছরের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলনের ইতিহাস আছে। ২৪-এর জুলাইতে এসে সেই দীর্ঘ সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

আন্দোলনের সময় ঝুঁকি ও বিএনপির সমর্থনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘যদি শেখ হাসিনার পতন না হতো, তবে আমাদের অনেকের ফাঁসি হয়ে যেত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের প্রতিটি কর্মসূচিতে বিএনপি শুরু থেকেই পূর্ণ সমর্থন দিয়ে এসেছে। তাদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবির পাশে দাঁড়িয়েছে দলের নেতা-কর্মীরা।’

জুলাই বিপ্লবকে প্যারিস বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থান কোনো অংশেই ছোট নয়। এ সময় তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন শেখ হাসিনার ‘নোংরা’ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা পথ অনুসরণ না করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা মানুষের কথা বলার ও রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে মানুষের নাগরিক অধিকার রুদ্ধ করেছিলেন। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালি করতেন। আমরা এত জুলুম, নির্যাতন ও রিমান্ডের পরও তার সমালোচনা করেছি, কিন্তু কখনো বাজে কথা বলিনি।’

নার্সদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নার্সরা মানবতার সেবায় প্রথম সারির সৈনিক। বর্তমান সরকার তাদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া, সুখ-দুঃখ ও পেশাগত সমস্যার সমাধানে সব সময় পাশে থাকবে।’

ন্যাব বিএমইউ শাখার সভাপতি শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব সুজন মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং বিএনপি সহ-সম্পাদক (নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী) ও ন্যাব সভাপতি জাহানারা খাতুন।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়-রিজভী

Update Time : ০৮:০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

 

জুলাই বিপ্লব বা ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়, বরং এটি ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, এই আন্দোলন ব্যর্থ হলে অনেকেরই ফাঁসি হয়ে যেত।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব) বিএমইউ শাখা।

রিজভী বলেন, ‘বিএনপির একটি সামাজিক ভিত্তি আছে এবং আন্দোলনে সেই ভিত্তিটি কাজে লেগেছে। জুলাই বিপ্লব কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে এক দফার আন্দোলনে রূপ নিলেও এর পেছনে বিএনপির ১৭ বছরের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলনের ইতিহাস আছে। ২৪-এর জুলাইতে এসে সেই দীর্ঘ সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

আন্দোলনের সময় ঝুঁকি ও বিএনপির সমর্থনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘যদি শেখ হাসিনার পতন না হতো, তবে আমাদের অনেকের ফাঁসি হয়ে যেত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের প্রতিটি কর্মসূচিতে বিএনপি শুরু থেকেই পূর্ণ সমর্থন দিয়ে এসেছে। তাদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবির পাশে দাঁড়িয়েছে দলের নেতা-কর্মীরা।’

জুলাই বিপ্লবকে প্যারিস বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থান কোনো অংশেই ছোট নয়। এ সময় তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন শেখ হাসিনার ‘নোংরা’ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা পথ অনুসরণ না করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা মানুষের কথা বলার ও রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে মানুষের নাগরিক অধিকার রুদ্ধ করেছিলেন। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালি করতেন। আমরা এত জুলুম, নির্যাতন ও রিমান্ডের পরও তার সমালোচনা করেছি, কিন্তু কখনো বাজে কথা বলিনি।’

নার্সদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নার্সরা মানবতার সেবায় প্রথম সারির সৈনিক। বর্তমান সরকার তাদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া, সুখ-দুঃখ ও পেশাগত সমস্যার সমাধানে সব সময় পাশে থাকবে।’

ন্যাব বিএমইউ শাখার সভাপতি শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব সুজন মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং বিএনপি সহ-সম্পাদক (নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী) ও ন্যাব সভাপতি জাহানারা খাতুন।