০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারিয়াকান্দিতে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত, স্কুল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে না পেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ছাগলধরা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে ছাগলধরা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহী। এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ছাগলধরা গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে রাবিউল হাসান রানা। তিনি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরেই এর বিরোধিতা করছিলেন, একই গ্রামের মফিজ উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে আব্দুল মান্নান, তার ভাই শাহজাহান আলী মেম্বার, মাহমুদ আলীর ছেলে মাসুদ মিয়া, আব্দুল জলিলের ছেলে মাহবুব হোসেন এবং কছিম উদ্দিনের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সকালে তাদের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত লোক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। পরে তারা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্ন নথিপত্র তছনছ করে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এসময় তারা প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং তাকে লাঞ্ছিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে।

এ বিষয়ে কথা হলে প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করেছে। যেখানে আমাদের কোনও হাত নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনাধিকারভাবে প্রবেশ করে আমাকে চূড়ান্তভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। সময়মতো আমার চিকিৎসা করা না হলে খারাপ কোনও ঘটনা হতে পারতো। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন নিরাপত্তা নেই, এ ঘটনার আমি উপযুক্ত বিচার চাই।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সারিয়াকান্দি থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অসুস্থ প্রধান শিক্ষকের শারিরীক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেয়া হয়েছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সারিয়াকান্দিতে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত, স্কুল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

Update Time : ০৭:৪০:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে না পেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ছাগলধরা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে ছাগলধরা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহী। এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ছাগলধরা গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে রাবিউল হাসান রানা। তিনি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরেই এর বিরোধিতা করছিলেন, একই গ্রামের মফিজ উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে আব্দুল মান্নান, তার ভাই শাহজাহান আলী মেম্বার, মাহমুদ আলীর ছেলে মাসুদ মিয়া, আব্দুল জলিলের ছেলে মাহবুব হোসেন এবং কছিম উদ্দিনের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সকালে তাদের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত লোক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। পরে তারা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্ন নথিপত্র তছনছ করে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এসময় তারা প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং তাকে লাঞ্ছিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে।

এ বিষয়ে কথা হলে প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করেছে। যেখানে আমাদের কোনও হাত নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনাধিকারভাবে প্রবেশ করে আমাকে চূড়ান্তভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। সময়মতো আমার চিকিৎসা করা না হলে খারাপ কোনও ঘটনা হতে পারতো। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন নিরাপত্তা নেই, এ ঘটনার আমি উপযুক্ত বিচার চাই।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সারিয়াকান্দি থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অসুস্থ প্রধান শিক্ষকের শারিরীক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেয়া হয়েছে।