বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। বিতর্কের মুখে গত ৩ আগস্টের সেই রেজুলেশন বাতিল করে আগের পদ্ধতিই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
একই সঙ্গে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রচলিত কাঠামোও বহাল থাকছে। অর্থাৎ, আগের মতো প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে নিবন্ধন সনদ অর্জন করতে হবে প্রার্থীদের। নিবন্ধন সনদধারীদের মধ্য থেকেই এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে সভায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান আলিফ রুদাবা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব হেলালুজ্জামান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশ নেওয়া মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ও নিয়োগের আগের ব্যবস্থাই কার্যকর থাকবে। গত ৩ আগস্টের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই পরিপত্র জারি করা হবে।
এর আগে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই সভার কার্যবিবরণী পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এনটিআরসিএ কেবল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে না।
এর ফলে এনটিআরসিএর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসার আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জনকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
রেজুলেশনের এসব সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরই দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেন।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 
























