রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার পর বিএনপি ও সরকারে নতুন করে সমীকরণ শুরু হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য—এই চারটি পদ শূন্য হচ্ছে। ফলে এই চারটি পদে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই এসব পদে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের ঘোষণা আসতে পারে। সম্ভাব্য নতুন সমীকরণে সংসদ উপনেতা হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নাম, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কিংবা মহাসচিব হিসেবে বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নাম এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে আলোচনায় আছেন আরেক যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
আর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আপাতত কোনো মন্ত্রী না-ও দেওয়া হতে পারে। মহাসচিব যিনি হবেন তাঁকে স্থানীয় সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। রুহুল কবীর রিজভী দলের মহাসচিব বা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হতে পারেন। এদিকে সংসদ উপনেতা হিসেবে আরো আলোচনায় আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ ও ড. আব্দুল মঈন খান।
সরকারের মন্ত্রিসভার এক প্রভাবশালী সদস্য বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুপুরে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলের স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।
মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পরই সর্বাধিক আলোচনা শুরু হয় দলের পরবর্তী মহাসচিব পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে? মহাসচিব পদে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে দলীয় কাঠামোতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে। তাঁকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নাকি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হবে—তা নিয়েও আছে আলোচনা। এ ছাড়া রিজভী মহাসচিব হলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে কে আসছেন এই ইস্যুটিও সামনে আসে।
দলের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, ২০ আগস্টের পর দলের মহাসচিব এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে কারা আসছেন তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তার আগেও হতে পরে। যেহেতু মহাসচিব পদ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন।
দলের একটি সূত্র বলছে, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশে এত দিন বসতেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর অবর্তমানে সংসদে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ভূমিকা থাকাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অবর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সংসদে প্রশ্ন-উত্তর দেন। এ অবস্থায় সংসদ উপনেতার পদে সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় আছে।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 





















