০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রুনা লায়লার গানে স্মরণীয় সন্ধ্যা

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় শুধু একটি কনসার্ট হয়নি, উদযাপিত হয়েছে বাংলা গানের ছয় দশকেরও বেশি সময়ের এক গৌরবময় যাত্রা। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লাকে ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, সম্মাননা প্রদান এবং তাঁর একক পরিবেশনা মিলিয়ে পুরো আয়োজন পরিণত হয় আবেগঘন সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায়।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এ অনুষ্ঠান হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সঙ্গে রুনা লায়লা মঞ্চে উঠতেই দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে অভিবাদন জানান দর্শকরা। আসনভর্তি মিলনায়তনে মুহূর্তেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। দীর্ঘ ৬২ বছরের সংগীতজীবনে দেশে-বিদেশের অসংখ্য মঞ্চে গান গাইলেও শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে এটিই ছিল তাঁর প্রথম একক কনসার্ট।

সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রুনা লায়লা বলেন, ‘অনেক বছর পরে হলেও এ ধরনের আয়োজনের জন্য শিল্পকলা একাডেমিকে সাধুবাদ জানাই। ভালো লাগছে যে আপনারা একটা ভালো কাজে এগিয়ে এসেছেন। আমরা সবাই যেন দেশকে ভালোবেসে কাজ করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংগীতের দীর্ঘ পথচলা, গান আর স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে শিল্পকলা একাডেমিতে দুই-তিনবার গান গেয়েছি, তবে একক কনসার্ট এবারই প্রথম। এই ভালোবাসা আমাকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছে।’

বক্তব্যের পরই মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি অনুষ্ঠানের প্রথম গান হিসেবে পরিবেশন করেন ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ’। এরপর একে একে পরিবেশন করেন তাঁর জনপ্রিয় গান ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’, ‘যখন থামবে কোলাহল/ঘুমে নিঝুম চারপাশ’সহ ১০টি কালজয়ী ও শ্রোতাপ্রিয় গান। প্রায় দেড় ঘণ্টার পরিবেশনায় আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান এবং দেশাত্মবোধক সংগীতের সমন্বয়ে তিনি যেন তাঁর ছয় দশকের সংগীতজীবনের নির্বাচিত মুহূর্তগুলো দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। প্রতিটি গান শেষে দীর্ঘ করতালি আর দর্শকদের কণ্ঠ মিশে যায় শিল্পীর সুরে।

অনুষ্ঠানজুড়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই মোবাইল ফোনে প্রিয় শিল্পীর পরিবেশনা ধারণ করেন, আবার অনেকেই পরিচিত গানে কণ্ঠ মিলিয়ে স্মরণীয় করে রাখেন সন্ধ্যাটি। পুরো মিলনায়তন যেন একসময় পরিণত হয় সম্মিলিত গানের আসরে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ কনসার্টের টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

রুনা লায়লার গানে স্মরণীয় সন্ধ্যা

Update Time : ১২:০১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় শুধু একটি কনসার্ট হয়নি, উদযাপিত হয়েছে বাংলা গানের ছয় দশকেরও বেশি সময়ের এক গৌরবময় যাত্রা। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লাকে ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, সম্মাননা প্রদান এবং তাঁর একক পরিবেশনা মিলিয়ে পুরো আয়োজন পরিণত হয় আবেগঘন সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায়।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এ অনুষ্ঠান হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সঙ্গে রুনা লায়লা মঞ্চে উঠতেই দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে অভিবাদন জানান দর্শকরা। আসনভর্তি মিলনায়তনে মুহূর্তেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। দীর্ঘ ৬২ বছরের সংগীতজীবনে দেশে-বিদেশের অসংখ্য মঞ্চে গান গাইলেও শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে এটিই ছিল তাঁর প্রথম একক কনসার্ট।

সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রুনা লায়লা বলেন, ‘অনেক বছর পরে হলেও এ ধরনের আয়োজনের জন্য শিল্পকলা একাডেমিকে সাধুবাদ জানাই। ভালো লাগছে যে আপনারা একটা ভালো কাজে এগিয়ে এসেছেন। আমরা সবাই যেন দেশকে ভালোবেসে কাজ করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংগীতের দীর্ঘ পথচলা, গান আর স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে শিল্পকলা একাডেমিতে দুই-তিনবার গান গেয়েছি, তবে একক কনসার্ট এবারই প্রথম। এই ভালোবাসা আমাকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছে।’

বক্তব্যের পরই মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি অনুষ্ঠানের প্রথম গান হিসেবে পরিবেশন করেন ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ’। এরপর একে একে পরিবেশন করেন তাঁর জনপ্রিয় গান ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’, ‘যখন থামবে কোলাহল/ঘুমে নিঝুম চারপাশ’সহ ১০টি কালজয়ী ও শ্রোতাপ্রিয় গান। প্রায় দেড় ঘণ্টার পরিবেশনায় আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান এবং দেশাত্মবোধক সংগীতের সমন্বয়ে তিনি যেন তাঁর ছয় দশকের সংগীতজীবনের নির্বাচিত মুহূর্তগুলো দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। প্রতিটি গান শেষে দীর্ঘ করতালি আর দর্শকদের কণ্ঠ মিশে যায় শিল্পীর সুরে।

অনুষ্ঠানজুড়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই মোবাইল ফোনে প্রিয় শিল্পীর পরিবেশনা ধারণ করেন, আবার অনেকেই পরিচিত গানে কণ্ঠ মিলিয়ে স্মরণীয় করে রাখেন সন্ধ্যাটি। পুরো মিলনায়তন যেন একসময় পরিণত হয় সম্মিলিত গানের আসরে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ কনসার্টের টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।