বগুড়ার শেরপুর থেকে চলাচলকারি করতোয়া গেটলক সার্ভিস যাত্রী সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। এতে শেরপুরের মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ৩০/৩৫ বছর ধরে শেরপুর থেকে বগুড়া শহরের মধ্যে দিয়ে চলাচলকারি পরিবহন করতোয়া গেটলক সার্ভিস বন্ধের পায়তারা হওয়ায় মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। করতোয়া গেটলক গাড়ীগুলো বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল হয়ে খান্দার দিয়ে ষ্টেশন রোডে পৌছার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাতে যাত্রী হয়রানী ও সময়ের অপচয়ের কারনে যাত্রী সংকট দেখা দেবে এবং আপনা আপনি এই গাড়িগুলো বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন শ্রমিক ও মালিকরা। ফলে এর সাথে জড়িত ৫/৬শ পরিবারের আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় শংকা রয়েছে। এই ঘটনায় শেরপুরের সকল পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের এক জরুরী সভা শনিবার বিকাল ৪ টায় বাসষ্ট্যান্ড শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বক্তব্য রাখেন শেরপুর-ধুনট মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটির আহবায়ক বিএইচএম কামারুজ্জামান রাফু, প্রভাষক সেলিম রেজা, শ্রমিক নেতা আরিফুর রহামন মিলন, মতিয়ার রহমান মতি ও আবু রায়হান আজাদ প্রমূখ।
বগুড়া শহরকে যানজটমুক্ত করতে শুধুমাত্র করতোয়া গেটলককে দায়ী করা ঠিক নয় বলে মনে করেন এই রোডে চলাচলকারি যাত্রীরাও। শেরপুর থেকে নিয়মিত করতোয়া গেটলকে যাতায়াতকারি যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা যানজট। তেমনি বগুড়া শহরে যে পরিমান যানজট লেগে থাকে তা থেকে পরিত্রান পেতে হলে অবশ্যই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। করতোয়া গেটলকের চাইতে সিএনজি, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ও কোচগুলো যানজটের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী কিন্ত সবগুলো রেখে শুধুমাত্র করতোয়া গেটলককে শহরের বাইরে দিয়ে চলাচল করতে বলা বন্ধ করে দেয়ার শামিল। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ ও অর্থের অপচয় বাড়বে।
তহমিনা আক্তার বগুড়াতে যাবেন ডাক্তার দেখাতে করতোয়া গেটলকে চলাচলের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা যারা চিকিৎসার জন্য বগুড়াতে যাই তারা করতোয়া গেটলকে উঠলে ডাক্তারের চেম্বারের সামনে নামিয়ে দেয়। এতে আমাদের সময় ও অর্থের অপচয় রোধ হয় কিন্ত এখন বেশি টাকার পাশাপাশি সময় ও হয়রানির শিকার হতে হবে, তাই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হোক যাতে যাত্রীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন। যদি করতোয়া গেটলক শহরের বাইরে দিয়ে চলাচল করে তাহলে যাত্রীরা সিএনজির কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে।
এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা বাস মিনিমাস ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান মিলন বলেন, আমরা পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সকল সংগঠন এক হয়ে জরুরি সভা করেছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমরা তা পুনর্বিবেচনার দাবি করছি। যদি আমাদেরকে খান্দার হয়ে চলতে হয় এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের নিকটে দাড়ানোর ব্যবস্থা করেন তাহলে সিএনজিগুলোকেও আমাদের পাশেই ব্যবস্থা করতে হবে। কারন যানজট আমাদের কারনে নয় সিএনজি, অটোরিক্সা, কোচ ও কুরিয়ার সার্ভিসের বড়গাড়িগুলোর জন্য হয়।
বগুড়া জেলা মোটর মালিক সমিতি শেরপুর শাখার সাধারণ সস্পাদক সেলিম রেজা বলেন, করতোয়া গেটলককে যানজটের জন্য দায়ি করা ঠিক নয়। তিন যুগের বেশি সময় ধরে আমরা যেভাবে যাত্রী সার্ভিস দিচ্ছি সেদিকে বিবেচনা করে হলেও এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা উচিত। তেলের দাম বৃদ্ধি হলেও আমরা কোন ভাড়া বৃদ্ধি করিনি, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে আদালতে যাতায়াতকারি, অফিসগামী ও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই ভোগান্তিতে পড়বেন। তিনি আরো বলেন আমরা ঈদ সহ কোন সময়েই ভাড়া বৃদ্ধি না করে যাত্রী সার্ভিস অব্যাহত রেখেছি, এই পরিবহনগুলোর সাথে ৫শ অধিক পরিবার জড়িত সেদিকে খেয়াল রেখে সমযোপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়ার আহবান জানাচ্ছি।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 












