০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

শেরপুরে ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ

 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ৬৬ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে একটি সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও মাটিমিশ্রিত উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের গোসাইবাড়ি বাজার-মহিপুর-গাড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সড়কের নির্মাণকাজে এমন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, পুরোনো ও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করায় সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ধীরগতিতে কাজ চলায় ভোগান্তিতে পড়ছেন তাঁরা।

সরেজমিনে সড়কটির নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে উপকরণের মান নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষের কথা জানা যায়। তাঁদের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন অংশে মাটিমিশ্রিত ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পুরোনো ও ভাঙা ইটের খোয়া দিয়েও নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন বলেন, ‘মাটি মেশানো খোয়া দিয়েই রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে রাস্তাটি বেশিদিন টিকবে না। আগের খারাপ ইটের কিছু অংশও এখানে ব্যবহার করা হয়েছে।’

আরেক বাসিন্দা মো. রাফি বলেন, সড়কে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হলে রাস্তাটি আরও টেকসই হতো। এ ছাড়া কাজের গতিও বেশ ধীর, যার কারণে স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। অভিযোগ ওঠার পর কিছু জায়গায় নতুন করে কাজ করা হলেও মহিপুর বাজার অংশে এখনো নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা বাহার আলী বলেন, আগের মাটিমিশ্রিত খোয়াই সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ঠিকমতো রোলার না করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোয়া বের হয়ে রয়েছে।

সড়কটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ইমপ্রুভমেন্ট অব রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (আইআরআইডিপি) আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। কাজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫৪ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ৬৬ লাখ ৪৮ হাজার ৮১৬ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিফাত ট্রেডার্স কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৬ সালের ১০ জুন কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেসব স্থানে সমস্যা ছিল, সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। সড়কের প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সড়কটিতে আগে থেকেই এইচবিবি ও সলিংয়ের পুরোনো ইট ছিল, যার মূল্য ছিল ১৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। ওই ইট ভেঙে নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত উপকরণ হিসেবে ডব্লিউবিএম ব্যবহার করা হয়েছে। পুরোনো ইটের সঙ্গে থাকা বালু নেটিংয়ের মাধ্যমে পৃথক করে কাজে লাগানো হয়েছে। বাকি অংশে নতুন পিকেট ইট এনে ব্যবহার করা হয়েছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যাশন ফ্রুট চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন নওগাঁর তরুণ উদ্যোক্তা মোরছালিন

শেরপুরে ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ

Update Time : ০৬:৪৫:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ৬৬ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে একটি সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও মাটিমিশ্রিত উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের গোসাইবাড়ি বাজার-মহিপুর-গাড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সড়কের নির্মাণকাজে এমন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, পুরোনো ও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করায় সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ধীরগতিতে কাজ চলায় ভোগান্তিতে পড়ছেন তাঁরা।

সরেজমিনে সড়কটির নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে উপকরণের মান নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষের কথা জানা যায়। তাঁদের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন অংশে মাটিমিশ্রিত ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পুরোনো ও ভাঙা ইটের খোয়া দিয়েও নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন বলেন, ‘মাটি মেশানো খোয়া দিয়েই রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে রাস্তাটি বেশিদিন টিকবে না। আগের খারাপ ইটের কিছু অংশও এখানে ব্যবহার করা হয়েছে।’

আরেক বাসিন্দা মো. রাফি বলেন, সড়কে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হলে রাস্তাটি আরও টেকসই হতো। এ ছাড়া কাজের গতিও বেশ ধীর, যার কারণে স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। অভিযোগ ওঠার পর কিছু জায়গায় নতুন করে কাজ করা হলেও মহিপুর বাজার অংশে এখনো নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা বাহার আলী বলেন, আগের মাটিমিশ্রিত খোয়াই সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ঠিকমতো রোলার না করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোয়া বের হয়ে রয়েছে।

সড়কটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ইমপ্রুভমেন্ট অব রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (আইআরআইডিপি) আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। কাজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫৪ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ৬৬ লাখ ৪৮ হাজার ৮১৬ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিফাত ট্রেডার্স কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৬ সালের ১০ জুন কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেসব স্থানে সমস্যা ছিল, সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। সড়কের প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সড়কটিতে আগে থেকেই এইচবিবি ও সলিংয়ের পুরোনো ইট ছিল, যার মূল্য ছিল ১৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। ওই ইট ভেঙে নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত উপকরণ হিসেবে ডব্লিউবিএম ব্যবহার করা হয়েছে। পুরোনো ইটের সঙ্গে থাকা বালু নেটিংয়ের মাধ্যমে পৃথক করে কাজে লাগানো হয়েছে। বাকি অংশে নতুন পিকেট ইট এনে ব্যবহার করা হয়েছে।