০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুধু জিপিএ-৫ নয়, সন্তানদের এখন বিজ্ঞানী ও গবেষক বানাতে হবে : ডিসি বগুড়া

 

শুধু জিপিএ ৫ কিংবা ডাক্তার-প্রকৌশলী হওয়ার মধ্যেই সাফল্যের পূর্ণতা সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সন্তানদের এখন বিজ্ঞানী ও গবেষক বানাতে হবে।

সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কতটুকু ভূমিকা রাখা গেল, সেটিই মূল্যায়নের আসল চাবিকাঠি।’
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া ৩৪৩ শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অমলকান্তি’ কবিতার প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, সংবর্ধনা পাওয়া আনন্দের, তবে এর সঙ্গে দায়িত্বও অনেক বেড়ে যায়। পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে গিয়ে বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

শুধু দেশে অর্জিত ডিগ্রিতে থেমে না থেকে বিদেশে গবেষণা ও জ্ঞান আহরণ করে দেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহা. মুস্তাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচে ৫৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৮ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় ৪৩৬ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছে।

এর মধ্যে ৩৪৩ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে যেখানে পাসের হার ৬২ শতাংশ, সেখানে প্রতিষ্ঠানটির জিপিএ ৫ পাওয়ার হার প্রায় ৭৯ শতাংশ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে তৃতীয় ও বগুড়া জেলায় প্রথম স্থান অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থী মোস্তাক মোর্শেদ মাহীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুভূতি প্রকাশ করে মাহী বলে, ‘ভালো ফলাফলের জন্য শুধু মেধা যথেষ্ট নয়। দরকার নিয়মিত পরিশ্রম, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও আত্মবিশ্বাস।

আমাদের সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাঁরা শুধু বইয়ের জ্ঞান দেননি, নীতি-নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার শিক্ষাও দিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে বক্তব্য দেন টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক ডা. ফারজানা আক্তার কনক। তিনি বর্তমান প্রজন্মকে প্রযুক্তির সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করে নিজেদের ওপর কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিয়াম ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক কেন্দ্র বগুড়ার পরিচালক মো. আলমগীর কবির ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী আকন্দ।

বক্তব্য শেষে অতিথিরা জিপিএ ৫ পাওয়া ৩৪৩ কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে সংবর্ধনা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শুধু জিপিএ-৫ নয়, সন্তানদের এখন বিজ্ঞানী ও গবেষক বানাতে হবে : ডিসি বগুড়া

Update Time : ০৮:১৪:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

শুধু জিপিএ ৫ কিংবা ডাক্তার-প্রকৌশলী হওয়ার মধ্যেই সাফল্যের পূর্ণতা সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সন্তানদের এখন বিজ্ঞানী ও গবেষক বানাতে হবে।

সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কতটুকু ভূমিকা রাখা গেল, সেটিই মূল্যায়নের আসল চাবিকাঠি।’
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া ৩৪৩ শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অমলকান্তি’ কবিতার প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, সংবর্ধনা পাওয়া আনন্দের, তবে এর সঙ্গে দায়িত্বও অনেক বেড়ে যায়। পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে গিয়ে বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

শুধু দেশে অর্জিত ডিগ্রিতে থেমে না থেকে বিদেশে গবেষণা ও জ্ঞান আহরণ করে দেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহা. মুস্তাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচে ৫৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৮ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় ৪৩৬ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছে।

এর মধ্যে ৩৪৩ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে যেখানে পাসের হার ৬২ শতাংশ, সেখানে প্রতিষ্ঠানটির জিপিএ ৫ পাওয়ার হার প্রায় ৭৯ শতাংশ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে তৃতীয় ও বগুড়া জেলায় প্রথম স্থান অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থী মোস্তাক মোর্শেদ মাহীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুভূতি প্রকাশ করে মাহী বলে, ‘ভালো ফলাফলের জন্য শুধু মেধা যথেষ্ট নয়। দরকার নিয়মিত পরিশ্রম, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও আত্মবিশ্বাস।

আমাদের সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাঁরা শুধু বইয়ের জ্ঞান দেননি, নীতি-নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার শিক্ষাও দিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে বক্তব্য দেন টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক ডা. ফারজানা আক্তার কনক। তিনি বর্তমান প্রজন্মকে প্রযুক্তির সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করে নিজেদের ওপর কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিয়াম ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক কেন্দ্র বগুড়ার পরিচালক মো. আলমগীর কবির ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী আকন্দ।

বক্তব্য শেষে অতিথিরা জিপিএ ৫ পাওয়া ৩৪৩ কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে সংবর্ধনা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন।