১২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

চলনবিলাঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও নান্দনিক নৃত্য

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার চলনবিলসহ বিভিন্ন স্থানীয় বিলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও সারি গানে মাতোয়ার হয়ে উঠেছে। এসকল জলপথ নানা রঙের বাহারী পানসী নৌকার বাইচের সমাবেশে পরিনত হয়েছে।

সেই সাথে বাইচের নৌকায় জমে উঠেছে সারী গানের সাথে নৃত্য। বর্তমানে উল্লাপাড়ায় ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার নদী-বিলে নৌকা বাইচ উপলক্ষে এলাকার জলাশয় ও বিল নদীপাড়ের মানুষেরা উৎসবে মেতে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই চলছে এই উৎসব।

উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের ব্রহ্মকপালিয়া গ্রামের নৌকা বাইচ আয়োজক কমিটি সংগঠক জুয়েল রানা জানান, উল্লাপাড়া উপজেলায় প্রায় ৩০টি বাইচ নৌকা রয়েছে। তার মধ্যে কিছু পুরানো ও এবছর অনেক ক’টি নৌকা নতুন করে গড়া হয়েছে। এ সকল নৌকাগুলোর মধ্যে গুয়াগাঁতী গ্রামের ছুরি বলাকা, পূর্বলেুয়া গ্রামের বিজয় বাংলা, চক চৌবিলা গ্রামের দূর্জয় বাংলা, মানিক দিয়ার গ্রামের সোনার বাংলা, ব্রহ্মকপালিয়া গ্রামের ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার, অলিপুর গ্রামের স্বাধীন বাংলা, বাহিমান গ্রামের সোনার বাংলা, হাড়িভাঙ্গা গ্রামের একতা এক্সপ্রেস, কৈতব গাতী গ্রামের একতা এক্সপ্রেস, কৈবতগাঁতী গ্রামের এক্সপ্রেস একতা, গোহলা গ্রামের দুরন্ত,খাদুলী গ্রামে বিজয় নিশান, বড় কৈয়ালিবেড় গ্রামের সোনাবাজু এক্সপ্রেস, চাকশা গ্রামের মায়ের দোয়া এলংকজানি এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য।

চাকশা গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বর্ষার পানি আসার আগেই বাইচ নৌকাগুলো মেরামত, রং করার সেরে ফেলা হয়। সেই সাথে এলাকার গানের ওস্তাদ দিয়ে রচনা করা হয় সারি গান। পানিতে বাইচ নৌকাগুলো নামানো পর চলে নিয়মিত মোহরা বা অনুশীলন। নির্বাচন করা দুইসেট বাইচাল বা মাঝিমাল্লার দল। ফাইনাল টানে বা প্রতিযোগিতায় নৌকার মাঝিদের অধিনায়ক চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করেন মাইচালদের।

টানের পূর্ব মুহূর্তে অধিনায়ক বিজয়ী হওয়ার জন্য পানির স্রোত, পরিবেশ ও আবহাওয়া দেখে শেষ কৌশলের গোপন নির্দেশনা দেন। বাইচের সময় নানা রকমের উৎসাহ সূচক সারি গান ও নৌকার মাঝখানে বয়স্ক কোন লোকের নান্দনিক নৃত্যের তালে তালে মাঝিরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

বর্তমানে গ্রামের সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন নৌকা বাইচের আয়োজন করছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

চলনবিলাঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও নান্দনিক নৃত্য

Update Time : ০৬:০৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার চলনবিলসহ বিভিন্ন স্থানীয় বিলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও সারি গানে মাতোয়ার হয়ে উঠেছে। এসকল জলপথ নানা রঙের বাহারী পানসী নৌকার বাইচের সমাবেশে পরিনত হয়েছে।

সেই সাথে বাইচের নৌকায় জমে উঠেছে সারী গানের সাথে নৃত্য। বর্তমানে উল্লাপাড়ায় ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার নদী-বিলে নৌকা বাইচ উপলক্ষে এলাকার জলাশয় ও বিল নদীপাড়ের মানুষেরা উৎসবে মেতে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই চলছে এই উৎসব।

উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের ব্রহ্মকপালিয়া গ্রামের নৌকা বাইচ আয়োজক কমিটি সংগঠক জুয়েল রানা জানান, উল্লাপাড়া উপজেলায় প্রায় ৩০টি বাইচ নৌকা রয়েছে। তার মধ্যে কিছু পুরানো ও এবছর অনেক ক’টি নৌকা নতুন করে গড়া হয়েছে। এ সকল নৌকাগুলোর মধ্যে গুয়াগাঁতী গ্রামের ছুরি বলাকা, পূর্বলেুয়া গ্রামের বিজয় বাংলা, চক চৌবিলা গ্রামের দূর্জয় বাংলা, মানিক দিয়ার গ্রামের সোনার বাংলা, ব্রহ্মকপালিয়া গ্রামের ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার, অলিপুর গ্রামের স্বাধীন বাংলা, বাহিমান গ্রামের সোনার বাংলা, হাড়িভাঙ্গা গ্রামের একতা এক্সপ্রেস, কৈতব গাতী গ্রামের একতা এক্সপ্রেস, কৈবতগাঁতী গ্রামের এক্সপ্রেস একতা, গোহলা গ্রামের দুরন্ত,খাদুলী গ্রামে বিজয় নিশান, বড় কৈয়ালিবেড় গ্রামের সোনাবাজু এক্সপ্রেস, চাকশা গ্রামের মায়ের দোয়া এলংকজানি এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য।

চাকশা গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বর্ষার পানি আসার আগেই বাইচ নৌকাগুলো মেরামত, রং করার সেরে ফেলা হয়। সেই সাথে এলাকার গানের ওস্তাদ দিয়ে রচনা করা হয় সারি গান। পানিতে বাইচ নৌকাগুলো নামানো পর চলে নিয়মিত মোহরা বা অনুশীলন। নির্বাচন করা দুইসেট বাইচাল বা মাঝিমাল্লার দল। ফাইনাল টানে বা প্রতিযোগিতায় নৌকার মাঝিদের অধিনায়ক চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করেন মাইচালদের।

টানের পূর্ব মুহূর্তে অধিনায়ক বিজয়ী হওয়ার জন্য পানির স্রোত, পরিবেশ ও আবহাওয়া দেখে শেষ কৌশলের গোপন নির্দেশনা দেন। বাইচের সময় নানা রকমের উৎসাহ সূচক সারি গান ও নৌকার মাঝখানে বয়স্ক কোন লোকের নান্দনিক নৃত্যের তালে তালে মাঝিরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

বর্তমানে গ্রামের সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন নৌকা বাইচের আয়োজন করছে।