০৪:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

চলনবিলে শিকারিরা অতিথি পাখি শিকারে মেতে উঠেছে

 

দেশের সর্ববৃহৎ চলনবিলে শীতের শুরুতেই বিভিন্ন প্রজাতির পাখি খাবার খেতে বিলের পানিতে নামছে। আর এই সুযোগে এক শ্রেণির পাখি শিকারিরা পাখি শিকারে মেতে উঠেছে।
জানা যায়, প্রতিবছর শীত মৌসুমের শুরুতেই সুদূর সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন শীত প্রধান দেশ থেকে আসতে থাকে বালিহাঁস, চখাচখি, ল্যাঞ্জা, ইটালি, সরালিসহ নানা প্রজাতির পাখি। নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের খোঁজে এসব পাখি ছুটে আসে চলনবিলের বিভিন্ন জলাশয়ে। এ বছরও শীতের শুরুতেই ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসছে। তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে চলনবিলের বিভিন্ন জলাভূমি ও বিল পাড়ের গ্রাম গুলি। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া বিনোদ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, বিলে অতিথি পাখি আসার শুরুতেই কিছু পেশাদার শিকারি কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন ফাঁদ পেতে অবাধে অতিথি পাখি শিকার করছে। শিকারিরা পাখি শিকার করে প্রকাশ্যে বিক্রি করলেও প্রসাশনের নজরদারি নেই বললেই চলে।

তাড়াশ উপজেলার সৈয়দপুর, বিনোদনপুর, মাগুড়া বিনোদ, বারুহাস, বিনসাড়া ও কুন্দইল বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রকাশ্যে পাখি বিক্রি করতে। এসময় স্থানীয়রা জানায়, প্রসাশনের ভয়ে বেশির ভাগ শিকারি ক্রেতাদের সাথে আগে থেকেই গোপনে দামদর ঠিক করে রাখে। শিকারের পরই তারা মোবাইল ফোনে ক্রেতাকে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে পাখি বুঝিয়ে দেয়।

এ কারণে এলাকায় পাখি বিক্রির একটি চোরাবাজারও রয়েছে। তবে কোনো কোনো এলাকায় সচেতন মানুষ পাখির অভয়াশ্রম তৈরিতে সহায়তা করার পাশাপাশি, কেউ যেন পাখিদের বিরক্ত না করে, সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখছেন। তাড়াশ উপজেলার উলিপুর ও নওগাঁর মথুরা দীঘি তার অন্যতম দৃষ্টান্ত।

প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা ‘পাখি গ্রাম উলিপুর’ গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে পাখিগুলো পাহারা দিই। এ কারণে এ গ্রামে শত শত পাখির নিরাপদ আবাসস্থল থাকার পরও কেউ শিকার করার সাহস পায় না।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, বেশিরভাগ শিকারি রাতে পাখি শিকার করেন। সচেতনতা বাড়াতে তাড়াশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গুলোকে সচেতন করা হচ্ছে। সেই সাথে থাকছে প্রশাসনিক কঠোর নজরদারি। শিকারিদের অবস্থান জেনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

চলনবিলে শিকারিরা অতিথি পাখি শিকারে মেতে উঠেছে

Update Time : ০৭:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

 

দেশের সর্ববৃহৎ চলনবিলে শীতের শুরুতেই বিভিন্ন প্রজাতির পাখি খাবার খেতে বিলের পানিতে নামছে। আর এই সুযোগে এক শ্রেণির পাখি শিকারিরা পাখি শিকারে মেতে উঠেছে।
জানা যায়, প্রতিবছর শীত মৌসুমের শুরুতেই সুদূর সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন শীত প্রধান দেশ থেকে আসতে থাকে বালিহাঁস, চখাচখি, ল্যাঞ্জা, ইটালি, সরালিসহ নানা প্রজাতির পাখি। নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের খোঁজে এসব পাখি ছুটে আসে চলনবিলের বিভিন্ন জলাশয়ে। এ বছরও শীতের শুরুতেই ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসছে। তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে চলনবিলের বিভিন্ন জলাভূমি ও বিল পাড়ের গ্রাম গুলি। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া বিনোদ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, বিলে অতিথি পাখি আসার শুরুতেই কিছু পেশাদার শিকারি কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন ফাঁদ পেতে অবাধে অতিথি পাখি শিকার করছে। শিকারিরা পাখি শিকার করে প্রকাশ্যে বিক্রি করলেও প্রসাশনের নজরদারি নেই বললেই চলে।

তাড়াশ উপজেলার সৈয়দপুর, বিনোদনপুর, মাগুড়া বিনোদ, বারুহাস, বিনসাড়া ও কুন্দইল বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রকাশ্যে পাখি বিক্রি করতে। এসময় স্থানীয়রা জানায়, প্রসাশনের ভয়ে বেশির ভাগ শিকারি ক্রেতাদের সাথে আগে থেকেই গোপনে দামদর ঠিক করে রাখে। শিকারের পরই তারা মোবাইল ফোনে ক্রেতাকে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে পাখি বুঝিয়ে দেয়।

এ কারণে এলাকায় পাখি বিক্রির একটি চোরাবাজারও রয়েছে। তবে কোনো কোনো এলাকায় সচেতন মানুষ পাখির অভয়াশ্রম তৈরিতে সহায়তা করার পাশাপাশি, কেউ যেন পাখিদের বিরক্ত না করে, সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখছেন। তাড়াশ উপজেলার উলিপুর ও নওগাঁর মথুরা দীঘি তার অন্যতম দৃষ্টান্ত।

প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা ‘পাখি গ্রাম উলিপুর’ গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে পাখিগুলো পাহারা দিই। এ কারণে এ গ্রামে শত শত পাখির নিরাপদ আবাসস্থল থাকার পরও কেউ শিকার করার সাহস পায় না।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, বেশিরভাগ শিকারি রাতে পাখি শিকার করেন। সচেতনতা বাড়াতে তাড়াশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গুলোকে সচেতন করা হচ্ছে। সেই সাথে থাকছে প্রশাসনিক কঠোর নজরদারি। শিকারিদের অবস্থান জেনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।