০৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

সোনাতলায় উন্নত জাতের আমের চারা বিক্রি করে একদল যুবকের ভাগ্য বদল

শিক্ষা জীবনের ইতি টেনে চাকরির পেছনে না ছুটে বগুড়ার সোনাতলায় উন্নত জাতের আমের চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে ভাগ্য ফিরিয়েছেন উপজেলার বালুয়াহাট ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের একদল শিক্ষিত বেকার যুবক। তাদের এই সাফল্য শুধু তাদের নিজেদেরই স্বাবলম্বী করেনি, বরং এলাকায় এক নতুন কৃষি-উদ্যোক্তা গোষ্ঠী তৈরি করেছে।

সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামে অনাবাদী ও পতিত জমি লিজ নিয়ে ওই গ্রামের শিক্ষিত যুবকেরা গড়ে তুলেছেন বাণিজ্যিক নার্সারি। এসব নার্সারিতে শোভা পাচ্ছে হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, কাটিমন, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, কিউজাই ও মিয়াজাকির মতো বিভিন্ন দেশি-বিদেশি উন্নত ও হাইব্রিড জাতের আমের চারা।

আধুনিক কলম বা গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব চারা দ্রুত ফলনশীল ও উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় স্থানীয়রা ছাড়াও দূর-দূরান্তের ক্রেতারা ভিড় করছেন তাদের নার্সারিগুলোতে।

ওই গ্রামের রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, সাইদুর রহমান বলেন, প্রথাগত চাকরির সুযোগ সীমিত হওয়ায় নিজেদের মেধা ও শ্রমকে তারা কৃষিখাতে প্রয়োগ করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ এবং অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে জ্ঞান অর্জন করে তারা বৈজ্ঞানিক উপায়ে আমের চারা প্রস্তুত শুরু করেন।

বর্তমানে জমি প্রস্তুত, কলম বাঁধাই এবং পরিচর্যার কাজে এলাকা ও আশেপাশের অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। তুহিন মিয়া নামের একজন উদ্যোক্ত বলেন, “পড়াশোনা শেষ করে বেকার বসে থাকাটা কষ্টের ছিল। নার্সারি শুরু করার পর প্রথম বছর কিছুটা চ্যালেঞ্জিং থাকলেও এখন প্রতি মৌসুমে হাজার হাজার চারা বিক্রি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইনের মাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি অর্ডারের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।”বগুড়া স্থানীয় খবর

ওই গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে ১৪-১৫ বছর আগে তিনি চারা তৈরির কাজ শুরু করেন। এখন তিনি বর্তমানে ৬-৭ বিঘা জমিতে চারা করেন। প্রতিবছর খরচ করেও ৩-৪ লাখ টাকা আয় করেন। এতে তার ৪ সদস্যের সংসার বেশ ভাল চলে। এছাড়াও তিনি চারা উৎপাদনের কাজ করে ২-৩ বিঘা জমি কিনেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, উচ্চমূল্যের ফল ও উন্নত জাতের চারা উৎপাদনে যুবকদের এই আগ্রহ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ফলে সোনাতলা এখন মানসম্মত আমের চারা উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

 

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

সোনাতলায় উন্নত জাতের আমের চারা বিক্রি করে একদল যুবকের ভাগ্য বদল

Update Time : ০৬:৫২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

শিক্ষা জীবনের ইতি টেনে চাকরির পেছনে না ছুটে বগুড়ার সোনাতলায় উন্নত জাতের আমের চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে ভাগ্য ফিরিয়েছেন উপজেলার বালুয়াহাট ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের একদল শিক্ষিত বেকার যুবক। তাদের এই সাফল্য শুধু তাদের নিজেদেরই স্বাবলম্বী করেনি, বরং এলাকায় এক নতুন কৃষি-উদ্যোক্তা গোষ্ঠী তৈরি করেছে।

সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামে অনাবাদী ও পতিত জমি লিজ নিয়ে ওই গ্রামের শিক্ষিত যুবকেরা গড়ে তুলেছেন বাণিজ্যিক নার্সারি। এসব নার্সারিতে শোভা পাচ্ছে হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, কাটিমন, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, কিউজাই ও মিয়াজাকির মতো বিভিন্ন দেশি-বিদেশি উন্নত ও হাইব্রিড জাতের আমের চারা।

আধুনিক কলম বা গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব চারা দ্রুত ফলনশীল ও উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় স্থানীয়রা ছাড়াও দূর-দূরান্তের ক্রেতারা ভিড় করছেন তাদের নার্সারিগুলোতে।

ওই গ্রামের রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, সাইদুর রহমান বলেন, প্রথাগত চাকরির সুযোগ সীমিত হওয়ায় নিজেদের মেধা ও শ্রমকে তারা কৃষিখাতে প্রয়োগ করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ এবং অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে জ্ঞান অর্জন করে তারা বৈজ্ঞানিক উপায়ে আমের চারা প্রস্তুত শুরু করেন।

বর্তমানে জমি প্রস্তুত, কলম বাঁধাই এবং পরিচর্যার কাজে এলাকা ও আশেপাশের অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। তুহিন মিয়া নামের একজন উদ্যোক্ত বলেন, “পড়াশোনা শেষ করে বেকার বসে থাকাটা কষ্টের ছিল। নার্সারি শুরু করার পর প্রথম বছর কিছুটা চ্যালেঞ্জিং থাকলেও এখন প্রতি মৌসুমে হাজার হাজার চারা বিক্রি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইনের মাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি অর্ডারের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।”বগুড়া স্থানীয় খবর

ওই গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে ১৪-১৫ বছর আগে তিনি চারা তৈরির কাজ শুরু করেন। এখন তিনি বর্তমানে ৬-৭ বিঘা জমিতে চারা করেন। প্রতিবছর খরচ করেও ৩-৪ লাখ টাকা আয় করেন। এতে তার ৪ সদস্যের সংসার বেশ ভাল চলে। এছাড়াও তিনি চারা উৎপাদনের কাজ করে ২-৩ বিঘা জমি কিনেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, উচ্চমূল্যের ফল ও উন্নত জাতের চারা উৎপাদনে যুবকদের এই আগ্রহ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ফলে সোনাতলা এখন মানসম্মত আমের চারা উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।