০৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

সরকারের প্রতি চরমোনাই পীরের ৬ পরামর্শ

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তিতে সরকারের প্রতি ছয়টি পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।

পরামর্শগুলো হলো, জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, গণহারে দলীয়করণ না করা, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এবং পাচার করা টাকা উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব পরামর্শ দেন তিনি।

বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও এই সরকার দেশের ৫৫ বছরের গতানুগতিক কোনো নির্বাচন বা সরকার নয়; বরং স্বাধীনতার ৫৪ বছরে রাষ্ট্রের পরতে পরতে জমা জঞ্জাল দূর করার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় জন্ম নেওয়া একটি গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে। পরিবর্তন ও প্রত্যাশার সেই রক্তস্নাত পটভূমি বিবেচনায় নিলে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। কষ্টের বিষয় হলো, আশার আলো ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের পর দায়িত্ব নেওয়া একটি সরকারের মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস হয়তো যথেষ্ট সময় নয়, কিন্তু ছয় মাস সময় হিসেবে কমও নয়। সরকারের মেয়াদের এক-দশমাংশ সময় এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। এই সময়ে অনেক ক্ষেত্রে সফলতা হয়তো দেখা যাবে না, তবে সূচনা ও পদ্ধতি দেখা যায়। সেই বিবেচনায় বিশেষ করে সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জাতির মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

চরমোনাই পীর বলেন, জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটকে কার্যত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রকে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা থেকে রক্ষা করার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন করে যে আইন আনা হয়েছে, তাতে আগের সমস্যার কোনো সমাধান নেই। এগুলো জুলাইয়ে মাঠে নেমে আসা অরাজনৈতিক ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, জনপ্রত্যাশাকে উপেক্ষা করার পরিণতি ভালো হয় না। আজকেই হয়তো মানুষ মাঠে নামবে না; কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি তারা আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

তবে সরকারের কিছু উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা প্রশংসার যোগ্য। বিশেষ করে সরকারপ্রধানের দৃশ্যমান আচরণ ও ব্যতিব্যস্ততা ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেয়। সরকারের অন্যদের কাছ থেকেও একই রকম ভূমিকা আশা করেন তারা।

সরকারের প্রতি দেওয়া ছয় পরামর্শের বিষয়ে চরমোনাই পীর বলেন, জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন করুন। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরুন। নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর ব্যবস্থা করুন। গণহারে দলীয়করণ করবেন না। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনুন। পাচার করা টাকা উদ্ধারে অগ্রগতি দৃশ্যমান করুন।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই এই সরকার সফল হোক।’

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

সরকারের প্রতি চরমোনাই পীরের ৬ পরামর্শ

Update Time : ০৭:২৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তিতে সরকারের প্রতি ছয়টি পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।

পরামর্শগুলো হলো, জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, গণহারে দলীয়করণ না করা, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এবং পাচার করা টাকা উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব পরামর্শ দেন তিনি।

বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও এই সরকার দেশের ৫৫ বছরের গতানুগতিক কোনো নির্বাচন বা সরকার নয়; বরং স্বাধীনতার ৫৪ বছরে রাষ্ট্রের পরতে পরতে জমা জঞ্জাল দূর করার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় জন্ম নেওয়া একটি গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে। পরিবর্তন ও প্রত্যাশার সেই রক্তস্নাত পটভূমি বিবেচনায় নিলে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। কষ্টের বিষয় হলো, আশার আলো ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের পর দায়িত্ব নেওয়া একটি সরকারের মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস হয়তো যথেষ্ট সময় নয়, কিন্তু ছয় মাস সময় হিসেবে কমও নয়। সরকারের মেয়াদের এক-দশমাংশ সময় এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। এই সময়ে অনেক ক্ষেত্রে সফলতা হয়তো দেখা যাবে না, তবে সূচনা ও পদ্ধতি দেখা যায়। সেই বিবেচনায় বিশেষ করে সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জাতির মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

চরমোনাই পীর বলেন, জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটকে কার্যত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রকে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা থেকে রক্ষা করার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন করে যে আইন আনা হয়েছে, তাতে আগের সমস্যার কোনো সমাধান নেই। এগুলো জুলাইয়ে মাঠে নেমে আসা অরাজনৈতিক ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, জনপ্রত্যাশাকে উপেক্ষা করার পরিণতি ভালো হয় না। আজকেই হয়তো মানুষ মাঠে নামবে না; কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি তারা আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

তবে সরকারের কিছু উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা প্রশংসার যোগ্য। বিশেষ করে সরকারপ্রধানের দৃশ্যমান আচরণ ও ব্যতিব্যস্ততা ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেয়। সরকারের অন্যদের কাছ থেকেও একই রকম ভূমিকা আশা করেন তারা।

সরকারের প্রতি দেওয়া ছয় পরামর্শের বিষয়ে চরমোনাই পীর বলেন, জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন করুন। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরুন। নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর ব্যবস্থা করুন। গণহারে দলীয়করণ করবেন না। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনুন। পাচার করা টাকা উদ্ধারে অগ্রগতি দৃশ্যমান করুন।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই এই সরকার সফল হোক।’