০৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

শিবগঞ্জ ও মোকামতলায় বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে!

বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। আমন ধানসহ খরিব- ২ ও রবি আগাম জাতের সবজি চারা উৎপাদনে ব্যস্ত কৃষক।

ভালো ফসল উৎপাদন করতে হলে জমিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে হয়। বাজার থেকে সার কিনতে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে প্রতারণায় শিকার হচ্ছেন কৃষক।

সার বিক্রির জন্য ওই দুই উপজেলায় বিসিআইসি ১৫ জন এবং বিএডিসি ১৯ জন ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু ওই সংখ্যা ডিলার ছাড়াও দুই উপজেলায় বিভিন্ন হাট বাজার ও বন্দরে গড়ে উঠেছে রাসায়নিক সারের দোকান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় সরকারের বেধে দেওয়া সারের দাম ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার ১৩৫০ টাকা, ডিএপি সার ১০৫০ টাকা, টিএসপি সার ১৩৫০ টাকা, এমওপি (পটাশ) সার ১০০০ টাকা বস্তা।

কিন্তু একাধিক কৃষকের অভিযোগ বাজার থেকে তারা ইউরিয়া বস্তাপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ডিএপি বস্তা প্রতি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা টিএসপি বস্তাপ্রতি ১৫৫০ থেকে ১৬০০ টাকা এমওপি (পটাশ) বস্তা প্রতি ৮০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

সারের মূল্য তালিকা নিয়োগ প্রাপ্ত ডিলারদের দোকানের টানিয়ে রাখা নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কৃষকের অভিযোগ মূল্য তালিকা ব্যানার হাতে গোনা কয়েকজন বাদে বাকি ডিলারগণ তাদের দোকানে এমন স্থানে রাখা হয়েছে যা থাকে কৃষকের দৃষ্টির আড়ালে।

বিভিন্ন বাজার ও বন্দর ঘুরে দেখা যায় ডিলার বাদেও যারা সার ব্যবসা করছেন তাদের দোকানে মূল্য তালিকা নেই। তারপরও বেশিরভাগ দোকানদার সরকারের নিয়ম উপেক্ষা করে প্রচুর পরিমাণ সার মজুদ রেখে বেচাকেনা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অনেকেই বলেন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে রাসায়নিক সারের বাজার তদারকি করা দরকার। উপজেলা কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান বাজারের বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে কিনা বিষয়টি তিনি জানেন না।

তবে ফসল উৎপাদনে বেশিরভাগ কৃষক অভিজ্ঞ নন এবং তারাই জমিতে সার প্রয়োগ চাহিদার তুলনায় বেশি সার প্রয়োগ করে থাকেন। এবং কেউ কেউ নিজ বাড়িতে সার মজুদ রাখেন। ওই কর্মকর্তা জানান সেই ক্ষেত্রে সরকারিভাবে সারের চাহিদা বাড়ানোর দরকার।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হান্নান জানান নিয়মিতভাবে সারের বাজার তদারকি করা হয়। তারপরও বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

শিবগঞ্জ ও মোকামতলায় বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে!

Update Time : ০৬:৪৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। আমন ধানসহ খরিব- ২ ও রবি আগাম জাতের সবজি চারা উৎপাদনে ব্যস্ত কৃষক।

ভালো ফসল উৎপাদন করতে হলে জমিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে হয়। বাজার থেকে সার কিনতে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে প্রতারণায় শিকার হচ্ছেন কৃষক।

সার বিক্রির জন্য ওই দুই উপজেলায় বিসিআইসি ১৫ জন এবং বিএডিসি ১৯ জন ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু ওই সংখ্যা ডিলার ছাড়াও দুই উপজেলায় বিভিন্ন হাট বাজার ও বন্দরে গড়ে উঠেছে রাসায়নিক সারের দোকান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় সরকারের বেধে দেওয়া সারের দাম ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার ১৩৫০ টাকা, ডিএপি সার ১০৫০ টাকা, টিএসপি সার ১৩৫০ টাকা, এমওপি (পটাশ) সার ১০০০ টাকা বস্তা।

কিন্তু একাধিক কৃষকের অভিযোগ বাজার থেকে তারা ইউরিয়া বস্তাপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ডিএপি বস্তা প্রতি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা টিএসপি বস্তাপ্রতি ১৫৫০ থেকে ১৬০০ টাকা এমওপি (পটাশ) বস্তা প্রতি ৮০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

সারের মূল্য তালিকা নিয়োগ প্রাপ্ত ডিলারদের দোকানের টানিয়ে রাখা নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কৃষকের অভিযোগ মূল্য তালিকা ব্যানার হাতে গোনা কয়েকজন বাদে বাকি ডিলারগণ তাদের দোকানে এমন স্থানে রাখা হয়েছে যা থাকে কৃষকের দৃষ্টির আড়ালে।

বিভিন্ন বাজার ও বন্দর ঘুরে দেখা যায় ডিলার বাদেও যারা সার ব্যবসা করছেন তাদের দোকানে মূল্য তালিকা নেই। তারপরও বেশিরভাগ দোকানদার সরকারের নিয়ম উপেক্ষা করে প্রচুর পরিমাণ সার মজুদ রেখে বেচাকেনা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অনেকেই বলেন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে রাসায়নিক সারের বাজার তদারকি করা দরকার। উপজেলা কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান বাজারের বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে কিনা বিষয়টি তিনি জানেন না।

তবে ফসল উৎপাদনে বেশিরভাগ কৃষক অভিজ্ঞ নন এবং তারাই জমিতে সার প্রয়োগ চাহিদার তুলনায় বেশি সার প্রয়োগ করে থাকেন। এবং কেউ কেউ নিজ বাড়িতে সার মজুদ রাখেন। ওই কর্মকর্তা জানান সেই ক্ষেত্রে সরকারিভাবে সারের চাহিদা বাড়ানোর দরকার।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হান্নান জানান নিয়মিতভাবে সারের বাজার তদারকি করা হয়। তারপরও বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।