০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

শেরপুরে রামদয়াল আর পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে পারলেন না

 

এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রামদয়াল সরকার (১৮)। হঠাৎ বাবার কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি বগুড়া শহরে যান। রোববার সকালে ছিল তাঁর পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষার হলে যাওয়ার বদলে রামদয়ালের মরদেহ ফিরেছে বাড়িতে। সঙ্গে ছিল তাঁর বাবার লাশ।

বগুড়ার ছিলিমপুর এলাকায় রবিবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় রামদয়াল সরকার ও তাঁর বাবা তাপস কুমার সরকার (৪৩) নিহত হয়েছেন। তাঁদের বাড়ি শেরপুর পৌরসভার রামচন্দ্রপুর পাড়ায়। রামদয়াল শেরপুরের সামিট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ওই কেন্দ্রে তাঁর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাপস কুমার পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর দুটি ট্রাকের একটি তিনি নিজেই চালাতেন। গত শনিবার রাতে বগুড়ার ছিলিমপুর এলাকায় ট্রাকটি বিকল হয়। মেরামতের জন্য বাড়ি থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে সেখানে যান রামদয়াল। সেখানে থেমে থাকা ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয় আরেকটি ট্রাক। এতে বাবা, ছেলেসহ তিনজন নিহত হন।

বাবা-ছেলের মৃত্যুতে রামচন্দ্রপুর পাড়া–মহল্লায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন রামদয়ালের মা দিপালী রানী সরকার (৩৫)। চেতনা ফিরে পেয়েই তিনি বলে উঠলেন, ‘আমার আর কেউ রইল না।’

নির্বাক হয়ে বসে আছেন তাপসের বাবা আনন্দমোহন সরকার (৮০)। আনন্দমোহন সরকার বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের মোড়দিয়া। নাতিকে ভালোভাবে লেখাপড়া করানোর জন্যই প্রায় ১৫ বছর আগে শেরপুরে এসেছিলাম। এখন ছেলেও নেই, নাতিও নেই। আমাকে দেখবে কে?’

তাপস কুমারের আত্মীয় সাগর কুমার রায় জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাবা–ছেলের লাশ নেওয়া হবে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

শেরপুরে রামদয়াল আর পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে পারলেন না

Update Time : ০৬:১৬:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

 

এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রামদয়াল সরকার (১৮)। হঠাৎ বাবার কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি বগুড়া শহরে যান। রোববার সকালে ছিল তাঁর পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষার হলে যাওয়ার বদলে রামদয়ালের মরদেহ ফিরেছে বাড়িতে। সঙ্গে ছিল তাঁর বাবার লাশ।

বগুড়ার ছিলিমপুর এলাকায় রবিবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় রামদয়াল সরকার ও তাঁর বাবা তাপস কুমার সরকার (৪৩) নিহত হয়েছেন। তাঁদের বাড়ি শেরপুর পৌরসভার রামচন্দ্রপুর পাড়ায়। রামদয়াল শেরপুরের সামিট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ওই কেন্দ্রে তাঁর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাপস কুমার পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর দুটি ট্রাকের একটি তিনি নিজেই চালাতেন। গত শনিবার রাতে বগুড়ার ছিলিমপুর এলাকায় ট্রাকটি বিকল হয়। মেরামতের জন্য বাড়ি থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে সেখানে যান রামদয়াল। সেখানে থেমে থাকা ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয় আরেকটি ট্রাক। এতে বাবা, ছেলেসহ তিনজন নিহত হন।

বাবা-ছেলের মৃত্যুতে রামচন্দ্রপুর পাড়া–মহল্লায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন রামদয়ালের মা দিপালী রানী সরকার (৩৫)। চেতনা ফিরে পেয়েই তিনি বলে উঠলেন, ‘আমার আর কেউ রইল না।’

নির্বাক হয়ে বসে আছেন তাপসের বাবা আনন্দমোহন সরকার (৮০)। আনন্দমোহন সরকার বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের মোড়দিয়া। নাতিকে ভালোভাবে লেখাপড়া করানোর জন্যই প্রায় ১৫ বছর আগে শেরপুরে এসেছিলাম। এখন ছেলেও নেই, নাতিও নেই। আমাকে দেখবে কে?’

তাপস কুমারের আত্মীয় সাগর কুমার রায় জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাবা–ছেলের লাশ নেওয়া হবে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে।