০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র কি ফুরিয়ে আসছে?

 

আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ নিয়ে প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুতর হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলার অভিযান সপ্তাহান্তে স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পেছনে এই বিষয়টি প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও হোয়াইট হাউস তা অস্বীকার করেছে।News

আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর একটি হলো টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক ক্ষেপণাস্ত্র, যা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে নিক্ষেপ করে সর্বোচ্চ এক হাজার পাঁচশ মাইল দূরের স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়। বর্তমান ইরান যুদ্ধ শুরুর সময় আমেরিকার কাছে ৩ হাজারের কিছু বেশি টমাহক ছিল। এরপর দেশটি এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ফেলেছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হলো জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিউনিশন বা জ্যাসম। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন বিমান থেকে নিক্ষেপ করে ৫ শ” মাইলেরও বেশি দূরের স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়। ইরান যুদ্ধ শুরুর সময় আমেরিকার কাছে প্রায় ৪ হাজার জ্যাসম ছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে এক হাজারের বেশি ব্যবহার করা হয়ে গেছে।

টমাহক ও জ্যাসম গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলোর মাধ্যমে শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষার আওতায় থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়, ম্যানড বিমান বা যুদ্ধজাহাজকে ঝুঁকির মধ্যে না পাঠিয়েই। তবে, প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে আসা ঝুঁকি কখনোই পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তাই আমেরিকার কাছে কতগুলো টমাহক ও জ্যাসম মজুদ রয়েছে, তা ন্যাটোর সবারই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

.
এপ্রিলে একটি মার্কিন স্ট্রাইক ঈগলের সদস্যরা সংঙ্কটটি উপলব্ধি করেন, যখন তাদের যুদ্ধবিমান আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং তাদের ইরানে প্যারাসুট নিয়ে নামতে বাধ্য করা হয়। মার্কিন বিশেষ অভিযান বাহিনী দুই বিমানসেনাকেই নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে উদ্ধার অভিযানে অন্তত একশ পঞ্চান্নটি বিমান অংশ নেয়।

সেসময়, আকাশ থেকে সহায়তা দেওয়ার সময় আরও একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় এবং হেলিকপ্টারগুলোও স্থলভাগ থেকে গোলাগুলির শিকার হয়। দুটি বড় সি-১৩০ পরিবহন বিমানকে ইরান থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সেগুলোকে মাটিতেই পরিত্যক্ত করে উড়িয়ে দিতে হয়। একপর্যায়ে একশ বিশেষ অভিযানসেনা মাটিতে আটকা পড়েন এবং তাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।

.
গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার বিপরীতে, যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানগুলোকে ইচ্ছামতো ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল, এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের উপর দিয়ে চালকসহ বিমান চলাচল ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতেই সম্ভবত আগ্রহী হবেন।

বর্তমানে এই মজুদ বছরে মাত্র কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র হারে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে এবং আরও সস্তা বিকল্প আসছে, কিন্তু তাতেও কয়েক বছর সময় লাগবে। দুর্ভাগ্যবশত, তিনি যদি এখনও ইরানের উপর ব্যাপক হামলা চালাতে চান, তাহলে তাকে টমাহক এবং জ্যাসম ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুদের উপর নির্ভর করতে হবে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র কি ফুরিয়ে আসছে?

Update Time : ০৬:১২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

 

আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ নিয়ে প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুতর হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলার অভিযান সপ্তাহান্তে স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পেছনে এই বিষয়টি প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও হোয়াইট হাউস তা অস্বীকার করেছে।News

আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর একটি হলো টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক ক্ষেপণাস্ত্র, যা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে নিক্ষেপ করে সর্বোচ্চ এক হাজার পাঁচশ মাইল দূরের স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়। বর্তমান ইরান যুদ্ধ শুরুর সময় আমেরিকার কাছে ৩ হাজারের কিছু বেশি টমাহক ছিল। এরপর দেশটি এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ফেলেছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হলো জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিউনিশন বা জ্যাসম। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন বিমান থেকে নিক্ষেপ করে ৫ শ” মাইলেরও বেশি দূরের স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়। ইরান যুদ্ধ শুরুর সময় আমেরিকার কাছে প্রায় ৪ হাজার জ্যাসম ছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে এক হাজারের বেশি ব্যবহার করা হয়ে গেছে।

টমাহক ও জ্যাসম গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলোর মাধ্যমে শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষার আওতায় থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়, ম্যানড বিমান বা যুদ্ধজাহাজকে ঝুঁকির মধ্যে না পাঠিয়েই। তবে, প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে আসা ঝুঁকি কখনোই পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তাই আমেরিকার কাছে কতগুলো টমাহক ও জ্যাসম মজুদ রয়েছে, তা ন্যাটোর সবারই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

.
এপ্রিলে একটি মার্কিন স্ট্রাইক ঈগলের সদস্যরা সংঙ্কটটি উপলব্ধি করেন, যখন তাদের যুদ্ধবিমান আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং তাদের ইরানে প্যারাসুট নিয়ে নামতে বাধ্য করা হয়। মার্কিন বিশেষ অভিযান বাহিনী দুই বিমানসেনাকেই নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে উদ্ধার অভিযানে অন্তত একশ পঞ্চান্নটি বিমান অংশ নেয়।

সেসময়, আকাশ থেকে সহায়তা দেওয়ার সময় আরও একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় এবং হেলিকপ্টারগুলোও স্থলভাগ থেকে গোলাগুলির শিকার হয়। দুটি বড় সি-১৩০ পরিবহন বিমানকে ইরান থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সেগুলোকে মাটিতেই পরিত্যক্ত করে উড়িয়ে দিতে হয়। একপর্যায়ে একশ বিশেষ অভিযানসেনা মাটিতে আটকা পড়েন এবং তাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।

.
গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার বিপরীতে, যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানগুলোকে ইচ্ছামতো ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল, এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের উপর দিয়ে চালকসহ বিমান চলাচল ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতেই সম্ভবত আগ্রহী হবেন।

বর্তমানে এই মজুদ বছরে মাত্র কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র হারে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে এবং আরও সস্তা বিকল্প আসছে, কিন্তু তাতেও কয়েক বছর সময় লাগবে। দুর্ভাগ্যবশত, তিনি যদি এখনও ইরানের উপর ব্যাপক হামলা চালাতে চান, তাহলে তাকে টমাহক এবং জ্যাসম ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুদের উপর নির্ভর করতে হবে।