১১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন একটি অতি সংবেদনশীল ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অতি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি বিএনপির একটি নির্দিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিককে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি চরম প্রতারণা। এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অবিলম্বে মো. সামসুল আলমের বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ বাতিল করতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক সংস্থায় সর্বজনগ্রাহ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় ঘোষিত স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংকীর্ণ দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। অথচ বাস্তবে দেশবাসী দেখতে পাচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি’। বর্তমানে এই নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংস্কার এবং দলীয়করণের অবসানের যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল, বাস্তবে তার উলটো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সাংবিধানিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জনগণের দেওয়া গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পরিবর্তে সংবিধানের আলোকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারের উচিত স্থানীয় সরকার পরিচালনা করা। একই সঙ্গে তিনি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

Update Time : ০৮:০০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন একটি অতি সংবেদনশীল ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অতি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি বিএনপির একটি নির্দিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিককে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি চরম প্রতারণা। এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অবিলম্বে মো. সামসুল আলমের বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ বাতিল করতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক সংস্থায় সর্বজনগ্রাহ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় ঘোষিত স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংকীর্ণ দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। অথচ বাস্তবে দেশবাসী দেখতে পাচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি’। বর্তমানে এই নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংস্কার এবং দলীয়করণের অবসানের যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল, বাস্তবে তার উলটো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সাংবিধানিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জনগণের দেওয়া গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পরিবর্তে সংবিধানের আলোকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারের উচিত স্থানীয় সরকার পরিচালনা করা। একই সঙ্গে তিনি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান।