০৭:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেরপুরে সঞ্চয় সমিতির কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনের অভিযোগ

 

বগুড়ার শেরপুরে ‘রিলিফ ঋণ ও সঞ্চয় সমিতি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম সরদারের বিরুদ্ধে সদস্যদের কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনের অভিযোগ উঠেছে। পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাঁর বাড়িতে গেলে ভুক্তভোগী সঞ্চয়দাতাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ডবলুবাড়ি এলাকায় ‘রিলিফ ঋণ ও সঞ্চয় সমিতি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সময় এলাকার লোকজন সমিতিতে সঞ্চয় ও এফডিআর করেন। নির্ধারিত সময়ে জমাকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও টাকা না দিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরদার আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করেন সঞ্চয়দাতারা।
ভুক্তভোগী ঝর্না বেগম বলেন, তিনি একজন বিধবা। সমিতিতে তাঁর এক লাখ টাকা জমা রয়েছে। টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ দিন ধরে তিনি টাকা পাচ্ছেন না। আহত রেবেকা বলেন, গত ১০ জুলাই তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে শাহ আলম সরদার আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তাঁরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগীরা কুসুম্বী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শাহ আলম পান্নার কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের উদ্যোগ নেন। শুক্রবারও (১৮ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে বসার কথা ছিল। তবে শাহ আলম সরদার উপস্থিত না থাকায় চেয়ারম্যান ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পরে ক্ষুব্ধ সঞ্চয়দাতারা তাঁদের পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে শাহ আলম সরদারের বাড়িতে গিয়ে তালা লাগানোর চেষ্টা করেন। এই সময় তাঁর বাবা বাদশাহ সরদারের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
বাদশাহ সরদার বলেন, “আমার ছেলে সমিতি থেকে টাকা নিয়েছে, এটা জানি। তবে কত টাকা নিয়েছে, তা জানি না। বিষয়টি নিয়ে বসার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ পাওনাদারেরা বাড়িতে এসে তালা লাগাতে চাইলে আমি বাধা দিই। এই সময় তাঁরা আমাকে মারধর করেছে।”

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যমতে, রেবেকার এক লাখ, খালেদা আক্তারের ৪৫ হাজার, ঝর্না বেগের এক লাখ, পারুলের দুই লাখ ৪৫ হাজার, ডলি বেগের দুটি এফডিআরে দুই লাখ, দিশা আক্তারের এক লাখ ৫০ হাজার, আমিনুল ইসলামের তিন লাখ, এলিনার ৫০ হাজার, দিলবর আকন্দের তিন লাখ এবং রোকেচনা বেগের দুই লাখ টাকাসহ আরও বেশ কয়েকজনের টাকা সমিতিতে জমা রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
তবে ভুক্তভোগীদের দাব্কিৃত টাকার পরিমাণ ও সমিতির মোট দায়ের হিসাব সংশ্লিষ্ট নথিভিত্তিক যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ‘রিলিফ ঋণ ও সঞ্চয় সমিতি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম সরদার পালিয়ে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে সঞ্চয় সমিতির কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনের অভিযোগ

শেরপুরে সঞ্চয় সমিতির কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনের অভিযোগ

Update Time : ০৬:২৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বগুড়ার শেরপুরে ‘রিলিফ ঋণ ও সঞ্চয় সমিতি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম সরদারের বিরুদ্ধে সদস্যদের কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনের অভিযোগ উঠেছে। পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাঁর বাড়িতে গেলে ভুক্তভোগী সঞ্চয়দাতাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ডবলুবাড়ি এলাকায় ‘রিলিফ ঋণ ও সঞ্চয় সমিতি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সময় এলাকার লোকজন সমিতিতে সঞ্চয় ও এফডিআর করেন। নির্ধারিত সময়ে জমাকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও টাকা না দিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরদার আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করেন সঞ্চয়দাতারা।
ভুক্তভোগী ঝর্না বেগম বলেন, তিনি একজন বিধবা। সমিতিতে তাঁর এক লাখ টাকা জমা রয়েছে। টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ দিন ধরে তিনি টাকা পাচ্ছেন না। আহত রেবেকা বলেন, গত ১০ জুলাই তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে শাহ আলম সরদার আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তাঁরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগীরা কুসুম্বী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শাহ আলম পান্নার কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের উদ্যোগ নেন। শুক্রবারও (১৮ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে বসার কথা ছিল। তবে শাহ আলম সরদার উপস্থিত না থাকায় চেয়ারম্যান ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পরে ক্ষুব্ধ সঞ্চয়দাতারা তাঁদের পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে শাহ আলম সরদারের বাড়িতে গিয়ে তালা লাগানোর চেষ্টা করেন। এই সময় তাঁর বাবা বাদশাহ সরদারের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
বাদশাহ সরদার বলেন, “আমার ছেলে সমিতি থেকে টাকা নিয়েছে, এটা জানি। তবে কত টাকা নিয়েছে, তা জানি না। বিষয়টি নিয়ে বসার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ পাওনাদারেরা বাড়িতে এসে তালা লাগাতে চাইলে আমি বাধা দিই। এই সময় তাঁরা আমাকে মারধর করেছে।”

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যমতে, রেবেকার এক লাখ, খালেদা আক্তারের ৪৫ হাজার, ঝর্না বেগের এক লাখ, পারুলের দুই লাখ ৪৫ হাজার, ডলি বেগের দুটি এফডিআরে দুই লাখ, দিশা আক্তারের এক লাখ ৫০ হাজার, আমিনুল ইসলামের তিন লাখ, এলিনার ৫০ হাজার, দিলবর আকন্দের তিন লাখ এবং রোকেচনা বেগের দুই লাখ টাকাসহ আরও বেশ কয়েকজনের টাকা সমিতিতে জমা রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
তবে ভুক্তভোগীদের দাব্কিৃত টাকার পরিমাণ ও সমিতির মোট দায়ের হিসাব সংশ্লিষ্ট নথিভিত্তিক যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ‘রিলিফ ঋণ ও সঞ্চয় সমিতি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম সরদার পালিয়ে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।