০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবকে ঘিরে ফেলছে ইরান!

 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে জটিল হয়ে উঠছে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রগতিতে। ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপের দিকে এগিয়ে গেছে হুথিরা। এতে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে তাদের প্রভাব আরও বেড়েছে।

হুথিদের এই অগ্রগতি শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধকেই নতুন মাত্রা দেয়নি, বরং সৌদি আরবের নিরাপত্তা, তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় সৌদি আরব এখন লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

মোখা দখল, কৌশলগত দ্বীপের দিকে অগ্রসর

১০ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর লোহিত সাগরের উপকূল ধরে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়েছে হুথি বাহিনী। তারা কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও পৌঁছেছে বলে ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্র দাবি করেছে।

এই অগ্রগতির ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর হুথিদের প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের সঙ্গে এডেন উপসাগর এবং পরবর্তী সময়ে ভারত মহাসাগরের যোগাযোগ তৈরি করে এই প্রণালি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

হুথিদের এই অগ্রগতি এমন সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ নভেম্বরের মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনের পর শেষ হতে পারে।

বাব আল-মান্দেব কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

হুথিরা যদি বাব আল-মান্দেবের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে ইরানের জন্য এটি বড় কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির মতো বাব আল-মান্দেবও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ। হরমুজ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। যুদ্ধের কারণে সেই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের রুট আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে বাব আল-মান্দাব দিয়ে সৌদি আরবের সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেড়েছে। ২০২৪ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী এমন পণ্যের মোট পরিবহনের প্রায় ৫ শতাংশ।

ফলে বাব আল-মান্দেবে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা আসতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারেও।

সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করার হুমকি

হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরে অন্যান্য নৌযানের চলাচল নিরাপদ থাকবে। তবে সৌদি আরবের জাহাজগুলো এই নিরাপত্তার আওতায় থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে হুথিদের অবরোধ ও হামলার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছিল হুথিরা। চলতি মাসে তারা হামলা আরও জোরদার করেছে।

হুথিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।

জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন আরও নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

মোখার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের প্রবেশপথে তাদের সরাসরি উপস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্রারাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেনিফার নাইডহার্ট ডি অর্টিজ হুতিদের ইরানের ‘এজেন্ট ও হাতিয়ার’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। তার দাবি, হুথিদের উত্তেজনা বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয় এবং যারা তাদের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করছে, তাদের পরিণতির দায় নিতে হবে।

ইরান-সৌদি সংঘাতের নতুন মাত্রা

ইরান ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। ইরান সরাসরি সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকের মতো দেশে মিত্র ও সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে প্রভাব ধরে রেখেছে বলে মনে করা হয়।

হুথিদের সাধারণত ইরান-সমর্থিত ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে দেখা হলেও তাদের নিজস্ব সংগঠন, স্বার্থ ও রাজনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে। ইয়েমেনের দীর্ঘ যুদ্ধে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা তৈরি করেছে।

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর সংঘাত বড় আকার নেয়। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বড় ধরনের লড়াই বন্ধ হলেও এবার নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। চলতি সপ্তাহে হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের তেল স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।

তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব

হুথিদের অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দামও প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গ্যাসবাডি।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবকে ঘিরে ফেলছে ইরান!

Update Time : ০৬:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে জটিল হয়ে উঠছে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রগতিতে। ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপের দিকে এগিয়ে গেছে হুথিরা। এতে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে তাদের প্রভাব আরও বেড়েছে।

হুথিদের এই অগ্রগতি শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধকেই নতুন মাত্রা দেয়নি, বরং সৌদি আরবের নিরাপত্তা, তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় সৌদি আরব এখন লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

মোখা দখল, কৌশলগত দ্বীপের দিকে অগ্রসর

১০ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর লোহিত সাগরের উপকূল ধরে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়েছে হুথি বাহিনী। তারা কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও পৌঁছেছে বলে ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্র দাবি করেছে।

এই অগ্রগতির ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর হুথিদের প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের সঙ্গে এডেন উপসাগর এবং পরবর্তী সময়ে ভারত মহাসাগরের যোগাযোগ তৈরি করে এই প্রণালি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

হুথিদের এই অগ্রগতি এমন সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ নভেম্বরের মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনের পর শেষ হতে পারে।

বাব আল-মান্দেব কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

হুথিরা যদি বাব আল-মান্দেবের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে ইরানের জন্য এটি বড় কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির মতো বাব আল-মান্দেবও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ। হরমুজ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। যুদ্ধের কারণে সেই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের রুট আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে বাব আল-মান্দাব দিয়ে সৌদি আরবের সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেড়েছে। ২০২৪ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী এমন পণ্যের মোট পরিবহনের প্রায় ৫ শতাংশ।

ফলে বাব আল-মান্দেবে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা আসতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারেও।

সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করার হুমকি

হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরে অন্যান্য নৌযানের চলাচল নিরাপদ থাকবে। তবে সৌদি আরবের জাহাজগুলো এই নিরাপত্তার আওতায় থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে হুথিদের অবরোধ ও হামলার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছিল হুথিরা। চলতি মাসে তারা হামলা আরও জোরদার করেছে।

হুথিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।

জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন আরও নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

মোখার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের প্রবেশপথে তাদের সরাসরি উপস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্রারাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেনিফার নাইডহার্ট ডি অর্টিজ হুতিদের ইরানের ‘এজেন্ট ও হাতিয়ার’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। তার দাবি, হুথিদের উত্তেজনা বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয় এবং যারা তাদের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করছে, তাদের পরিণতির দায় নিতে হবে।

ইরান-সৌদি সংঘাতের নতুন মাত্রা

ইরান ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। ইরান সরাসরি সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকের মতো দেশে মিত্র ও সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে প্রভাব ধরে রেখেছে বলে মনে করা হয়।

হুথিদের সাধারণত ইরান-সমর্থিত ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে দেখা হলেও তাদের নিজস্ব সংগঠন, স্বার্থ ও রাজনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে। ইয়েমেনের দীর্ঘ যুদ্ধে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা তৈরি করেছে।

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর সংঘাত বড় আকার নেয়। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বড় ধরনের লড়াই বন্ধ হলেও এবার নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। চলতি সপ্তাহে হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের তেল স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।

তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব

হুথিদের অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দামও প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গ্যাসবাডি।