১১:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহানায়ক উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মদিন আজ

বাংলা সিনেমায় ‘মহানায়ক’ উপাধির কথা স্মরণ করলেই সবার আগে যার ছবি সিনেমাপ্রেমীদের মনে উঁকি দেয় তিনি ওপার বাংলার প্রয়াত কিংবদন্তি নায়ক উত্তম কুমার। কলকাতার এক সাধারণ পরিবারে অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় নামে যিনি জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেলুলয়েডের পর্দায় কঠোর পরিশ্রম ও অসাধারণ অভিনয় প্রতিভার জোরে তিনি পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের দর্শকের হৃদয়েও চিরস্থায়ী আসন গড়ে নেন।

১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাঙালির ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমার জন্মগ্রহণ করেন। আজ তার জন্মের ১০০তম বছর পূর্ণ হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রের নায়ক হলেও উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা বহু আগেই ছুঁয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশেও। এদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভালোবাসার এক তারকা হিসেবে। তাই মৃত্যুর চার দশকেরও বেশি সময় পর দুই বাংলায় তার সিনেমা নিয়ে দর্শকের ভালোবাসা আজও চলমান।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি কলকাতার চলচ্চিত্র পূর্ব পাকিস্তানে প্রদর্শন বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ঢাকার দর্শকেরা উত্তম-সুচিত্রা জুটির বহু সিনেমা দেখেছেন। নারী ও পুরুষ উভয় শ্রেণীর দর্শকের কাছে উত্তম কুমার আজও অমর।

চলচ্চিত্রের পর্দায় তার এক চিলতে হাসি, সংলাপ উচ্চারণের স্বতন্ত্র ভঙ্গি, চোখজুড়ানো ব্যক্তিত্ব এবং নিখুঁত অভিনয়শৈলী চার দশক পেরিয়েও এতটুকুও ফিকে হয়নি।

বাংলা সিনেমার রোমান্টিক ধারার কথা উঠলেই সবার আগে ভেসে ওঠে ঐতিহাসিক উত্তম-সুচিত্রা জুটির নাম। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, ‘সবার উপরে’ কিংবা ‘চাওয়া পাওয়া’র মতো মাস্টারপিস সিনেমাগুলো দুই বাংলার দর্শকদের হৃদয়ে যুগ যুগ ধরে অমর হয়ে আছে।

তবে উত্তম কুমার কেবল রোমান্টিক নায়কের পরিচয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। রূপালি পর্দায় তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য উদাহরণ।

সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ কিংবা তপন সিংহের ‘ঝিন্দের বন্দী’র মতো চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন তার গভীর অভিনয়ক্ষমতা। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ছবিতে তার অভিনয় ভারতীয় সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমা পরিচালনা, প্রযোজনা এবং সংগীতচর্চাতেও ছিল তার সমান পদচারণা ও সৃজনশীল উপস্থিতি।

১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে এই মহানায়কের জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুর এত বছর পরেও তার জনপ্রিয়তার আভা একটুও ম্লান হয়নি। জন্মশতবর্ষের এই ঐতিহাসিক দিনে দুই বাংলার চলচ্চিত্র অঙ্গন ও কোটি কোটি অনুরাগী গভীর ভালোবাসায় স্মরণ করছে বাংলা সিনেমার রূপালি জগতের এই অবিসংবাদিত ‘মহানায়ক’কে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মহানায়ক উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মদিন আজ

Update Time : ০৬:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা সিনেমায় ‘মহানায়ক’ উপাধির কথা স্মরণ করলেই সবার আগে যার ছবি সিনেমাপ্রেমীদের মনে উঁকি দেয় তিনি ওপার বাংলার প্রয়াত কিংবদন্তি নায়ক উত্তম কুমার। কলকাতার এক সাধারণ পরিবারে অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় নামে যিনি জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেলুলয়েডের পর্দায় কঠোর পরিশ্রম ও অসাধারণ অভিনয় প্রতিভার জোরে তিনি পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের দর্শকের হৃদয়েও চিরস্থায়ী আসন গড়ে নেন।

১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাঙালির ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমার জন্মগ্রহণ করেন। আজ তার জন্মের ১০০তম বছর পূর্ণ হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রের নায়ক হলেও উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা বহু আগেই ছুঁয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশেও। এদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভালোবাসার এক তারকা হিসেবে। তাই মৃত্যুর চার দশকেরও বেশি সময় পর দুই বাংলায় তার সিনেমা নিয়ে দর্শকের ভালোবাসা আজও চলমান।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি কলকাতার চলচ্চিত্র পূর্ব পাকিস্তানে প্রদর্শন বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ঢাকার দর্শকেরা উত্তম-সুচিত্রা জুটির বহু সিনেমা দেখেছেন। নারী ও পুরুষ উভয় শ্রেণীর দর্শকের কাছে উত্তম কুমার আজও অমর।

চলচ্চিত্রের পর্দায় তার এক চিলতে হাসি, সংলাপ উচ্চারণের স্বতন্ত্র ভঙ্গি, চোখজুড়ানো ব্যক্তিত্ব এবং নিখুঁত অভিনয়শৈলী চার দশক পেরিয়েও এতটুকুও ফিকে হয়নি।

বাংলা সিনেমার রোমান্টিক ধারার কথা উঠলেই সবার আগে ভেসে ওঠে ঐতিহাসিক উত্তম-সুচিত্রা জুটির নাম। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, ‘সবার উপরে’ কিংবা ‘চাওয়া পাওয়া’র মতো মাস্টারপিস সিনেমাগুলো দুই বাংলার দর্শকদের হৃদয়ে যুগ যুগ ধরে অমর হয়ে আছে।

তবে উত্তম কুমার কেবল রোমান্টিক নায়কের পরিচয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। রূপালি পর্দায় তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য উদাহরণ।

সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ কিংবা তপন সিংহের ‘ঝিন্দের বন্দী’র মতো চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন তার গভীর অভিনয়ক্ষমতা। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ছবিতে তার অভিনয় ভারতীয় সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমা পরিচালনা, প্রযোজনা এবং সংগীতচর্চাতেও ছিল তার সমান পদচারণা ও সৃজনশীল উপস্থিতি।

১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে এই মহানায়কের জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুর এত বছর পরেও তার জনপ্রিয়তার আভা একটুও ম্লান হয়নি। জন্মশতবর্ষের এই ঐতিহাসিক দিনে দুই বাংলার চলচ্চিত্র অঙ্গন ও কোটি কোটি অনুরাগী গভীর ভালোবাসায় স্মরণ করছে বাংলা সিনেমার রূপালি জগতের এই অবিসংবাদিত ‘মহানায়ক’কে।