০৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে 

 

পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা। সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলে ২০১১ সালে চট্টগ্রামের একটি আদালত মামলাটির সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর গত জুলাইয়ে অভিযুক্ত পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কুশীলবদের খুঁজতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে অভিযুক্ত পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ঘটনার আগের দিন, অর্থাৎ ১৯৮১ সালের ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল নিজের প্রতিষ্ঠা করা রাজনৈতিক দল-বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার বিরোধ নিরসন করা।

চট্টগ্রামে পৌঁছে সফরের প্রথম দিনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক শেষে মধ্যরাতে ঘুমাতে যান জিয়াউর রহমান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেনাবাহিনীর একটি দল তার ওপর গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থলেই সাবেক এই রাষ্ট্রপতি নিহত হন। পরবর্তীতে ৩০ মে সকালে রেডিওতে প্রথমবারের মতো জিয়াউর রহমানকে হত্যার খবর প্রচারিত হয়।

এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিনের নাম উঠে আসে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলা সংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান,

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। এ ছাড়া ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে তখন মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘসময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। অবশেষে ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে 

Update Time : ০৬:১২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

 

পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা। সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলে ২০১১ সালে চট্টগ্রামের একটি আদালত মামলাটির সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর গত জুলাইয়ে অভিযুক্ত পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কুশীলবদের খুঁজতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে অভিযুক্ত পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ঘটনার আগের দিন, অর্থাৎ ১৯৮১ সালের ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল নিজের প্রতিষ্ঠা করা রাজনৈতিক দল-বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার বিরোধ নিরসন করা।

চট্টগ্রামে পৌঁছে সফরের প্রথম দিনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক শেষে মধ্যরাতে ঘুমাতে যান জিয়াউর রহমান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেনাবাহিনীর একটি দল তার ওপর গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থলেই সাবেক এই রাষ্ট্রপতি নিহত হন। পরবর্তীতে ৩০ মে সকালে রেডিওতে প্রথমবারের মতো জিয়াউর রহমানকে হত্যার খবর প্রচারিত হয়।

এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিনের নাম উঠে আসে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলা সংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান,

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। এ ছাড়া ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে তখন মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘসময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। অবশেষে ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো।