০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হবে-মির্জা ফখরুল

 

টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মতে, গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হবে।

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হবে।” সরকারের একার পক্ষে কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গণমাধ্যম, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সব পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকায় কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে।”

বিগত আমলের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, “বিএনপির দুর্ভাগ্য হলো দলটি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই একটি ধ্বংসস্তূপের উত্তরাধিকার পেয়েছে। গত সরকার একটি গ্যাসক্ষেত্রও অনুসন্ধান করেনি; বরং দেশকে আমদানিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে নিয়ে গেছে।”

সহনশীলতার চর্চা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর জোর দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্র কেবল নির্বাচননির্ভর কোনো ব্যবস্থা নয়, এটি মূলত একটি সংস্কৃতি। মানুষের চিন্তা-চেতনা, আচরণ ও দৈনন্দিন চর্চায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন না ঘটলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে, তবে সরকারকে কাজ করার সুযোগও দিতে হবে। সত্য প্রকাশই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আত্মসেন্সরশিপের পরিবর্তে সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে।”

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সাংবাদিক মোস্তফা আকমল বলেন, “গণতন্ত্র কেবল ভোটাধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের নির্ভয়ে সত্য জানার অধিকার রক্ষার ওপরই এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে।”

টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হবে-মির্জা ফখরুল

Update Time : ০৬:১৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

 

টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মতে, গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হবে।

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হবে।” সরকারের একার পক্ষে কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গণমাধ্যম, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সব পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকায় কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে।”

বিগত আমলের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, “বিএনপির দুর্ভাগ্য হলো দলটি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই একটি ধ্বংসস্তূপের উত্তরাধিকার পেয়েছে। গত সরকার একটি গ্যাসক্ষেত্রও অনুসন্ধান করেনি; বরং দেশকে আমদানিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে নিয়ে গেছে।”

সহনশীলতার চর্চা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর জোর দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্র কেবল নির্বাচননির্ভর কোনো ব্যবস্থা নয়, এটি মূলত একটি সংস্কৃতি। মানুষের চিন্তা-চেতনা, আচরণ ও দৈনন্দিন চর্চায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন না ঘটলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে, তবে সরকারকে কাজ করার সুযোগও দিতে হবে। সত্য প্রকাশই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আত্মসেন্সরশিপের পরিবর্তে সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে।”

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সাংবাদিক মোস্তফা আকমল বলেন, “গণতন্ত্র কেবল ভোটাধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের নির্ভয়ে সত্য জানার অধিকার রক্ষার ওপরই এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে।”

টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।