০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর খুচরা বাজারে স্বস্তি নেই!

 

রাজধানীর খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে মাছ, ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম। তবে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে মাছের বাজারে। প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর সামুদ্রিক মাছের দাম এতটাই চড়া যে, অধিকাংশ মাছ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সময় স্বল্প আয়ের মানুষের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের দামও এখন ২০০ টাকার ওপরে। বর্তমানে জীবিত পাঙাশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। তেলাপিয়ার দাম বেড়ে হয়েছে ২৬০ টাকা। এছাড়া রুই, কাতলা, মৃগেল, পোয়া ও অন্যান্য চাষের মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে বাজারে মানভেদে চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং টেংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে রূপচাঁদা, বড় শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাদের প্রতি কেজিতে হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, বাজারে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। তার ভাষ্য, আকার ও মানভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, সাদা রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাল কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সামুদ্রিক সুরমা ৭০০ টাকা এবং টুনা মাছ ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে। বাজার ও মাছের আকারভেদে এসব দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলেও জানান তিনি।

মাছের পাশাপাশি ডিমের বাজারেও বেড়েছে দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়।

মাংসের বাজারে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। আর খাসির মাংস কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

এদিকে মুরগির বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিনই কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা রুবেল আহমেদ বলেন, মাছের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। প্রায় সব ধরনের মাছের দামই বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাজার করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

শেরপুরে রূপালী ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ স্মার্ট কেনাকাটার উদ্বোধন করলেন এমডি

রাজধানীর খুচরা বাজারে স্বস্তি নেই!

Update Time : ০৬:৩৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

 

রাজধানীর খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে মাছ, ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম। তবে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে মাছের বাজারে। প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর সামুদ্রিক মাছের দাম এতটাই চড়া যে, অধিকাংশ মাছ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সময় স্বল্প আয়ের মানুষের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের দামও এখন ২০০ টাকার ওপরে। বর্তমানে জীবিত পাঙাশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। তেলাপিয়ার দাম বেড়ে হয়েছে ২৬০ টাকা। এছাড়া রুই, কাতলা, মৃগেল, পোয়া ও অন্যান্য চাষের মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে বাজারে মানভেদে চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং টেংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে রূপচাঁদা, বড় শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাদের প্রতি কেজিতে হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, বাজারে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। তার ভাষ্য, আকার ও মানভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, সাদা রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাল কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সামুদ্রিক সুরমা ৭০০ টাকা এবং টুনা মাছ ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে। বাজার ও মাছের আকারভেদে এসব দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলেও জানান তিনি।

মাছের পাশাপাশি ডিমের বাজারেও বেড়েছে দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়।

মাংসের বাজারে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। আর খাসির মাংস কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

এদিকে মুরগির বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিনই কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা রুবেল আহমেদ বলেন, মাছের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। প্রায় সব ধরনের মাছের দামই বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাজার করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।