০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

প্যাশন ফ্রুট চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন নওগাঁর তরুণ উদ্যোক্তা মোরছালিন

 

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’ চাষ করে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. মোরছালিন আহমেদ। স্থানীয়ভাবে যা ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং’ নামে পরিচিত, সেই ফলের বাগান করে এখন এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন তিনি। মাত্র ১৪ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা তার এই বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো ফল। তার এই অভাবনীয় সাফল্য দেখতে এবং চাষের পদ্ধতি শিখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক মানুষেরা।

উদ্যোক্তা মোরছালিন আহমেদের মূল বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায় হলেও বদলগাছী উপজেলার পাঁচঘড়িয়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি। সেই সুবাদে চাচা শ্বশুরের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে তিনি এই চাষাবাদ শুরু করেন। মূলত ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ফলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও চাষপদ্ধতি দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। পরে কক্সবাজার থেকে ৬২টি উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে পরম যত্নে গড়ে তোলেন এই বাগান।

মোরছালিন জানান, জমি তৈরি, মাচা নির্মাণ, চারা কেনা ও জৈব সার ব্যবহার করে বাগানটি তৈরি করতে তার প্রথম দফায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। গাছ লাগানোর মাত্র তিন মাসের মাথায় বাগানে ফুল ও ফল ধরতে শুরু করে। বর্তমানে বাগান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ কেজি ফল সংগ্রহ করছেন তিনি। স্থানীয় বড় ফলের দোকান ও সুপারশপগুলোতে প্রতি কেজি প্যাশন ফ্রুট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা বেশ লাভজনক।

সরেজমিনে মোরছালিনের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, মাচার ওপর সবুজ লতানো গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে প্যাশন ফ্রুট। কোনোটি কাঁচা সবুজ, আবার কোনোটি পেকে বেগুনি বা আকর্ষণীয় হলুদ রং ধারণ করেছে। চমৎকার সুগন্ধ এবং টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলটির ভেতরে রয়েছে রসালো শাঁস ও প্রচুর বীজ। পুষ্টিবিদদের মতে, প্যাশন ফ্রুট অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি জুস, জ্যাম বা বিভিন্ন সুস্বাদু খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন এই ফল চাষের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোরছালিন অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি মনে করেন, সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও নিয়মিত বাজার নিশ্চিত করা গেলে এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। তবে স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা বা পরামর্শ পাননি বলে আক্ষেপ করেন এই তরুণ। তার দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই অঞ্চলে বিদেশি এই ফলের চাষ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

কৃষি বিভাগের উদাসীনতার অভিযোগের বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা ওই উদ্যোক্তাকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং কারিগরিভাবে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনা এলে তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে।’

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরের পর আশুলিয়ায় বিক্ষোভ, ৩০ কারখানা ছুটি

প্যাশন ফ্রুট চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন নওগাঁর তরুণ উদ্যোক্তা মোরছালিন

Update Time : ০৭:৩৪:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

 

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’ চাষ করে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. মোরছালিন আহমেদ। স্থানীয়ভাবে যা ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং’ নামে পরিচিত, সেই ফলের বাগান করে এখন এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন তিনি। মাত্র ১৪ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা তার এই বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো ফল। তার এই অভাবনীয় সাফল্য দেখতে এবং চাষের পদ্ধতি শিখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক মানুষেরা।

উদ্যোক্তা মোরছালিন আহমেদের মূল বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায় হলেও বদলগাছী উপজেলার পাঁচঘড়িয়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি। সেই সুবাদে চাচা শ্বশুরের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে তিনি এই চাষাবাদ শুরু করেন। মূলত ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ফলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও চাষপদ্ধতি দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। পরে কক্সবাজার থেকে ৬২টি উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে পরম যত্নে গড়ে তোলেন এই বাগান।

মোরছালিন জানান, জমি তৈরি, মাচা নির্মাণ, চারা কেনা ও জৈব সার ব্যবহার করে বাগানটি তৈরি করতে তার প্রথম দফায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। গাছ লাগানোর মাত্র তিন মাসের মাথায় বাগানে ফুল ও ফল ধরতে শুরু করে। বর্তমানে বাগান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ কেজি ফল সংগ্রহ করছেন তিনি। স্থানীয় বড় ফলের দোকান ও সুপারশপগুলোতে প্রতি কেজি প্যাশন ফ্রুট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা বেশ লাভজনক।

সরেজমিনে মোরছালিনের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, মাচার ওপর সবুজ লতানো গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে প্যাশন ফ্রুট। কোনোটি কাঁচা সবুজ, আবার কোনোটি পেকে বেগুনি বা আকর্ষণীয় হলুদ রং ধারণ করেছে। চমৎকার সুগন্ধ এবং টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলটির ভেতরে রয়েছে রসালো শাঁস ও প্রচুর বীজ। পুষ্টিবিদদের মতে, প্যাশন ফ্রুট অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি জুস, জ্যাম বা বিভিন্ন সুস্বাদু খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন এই ফল চাষের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোরছালিন অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি মনে করেন, সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও নিয়মিত বাজার নিশ্চিত করা গেলে এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। তবে স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা বা পরামর্শ পাননি বলে আক্ষেপ করেন এই তরুণ। তার দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই অঞ্চলে বিদেশি এই ফলের চাষ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

কৃষি বিভাগের উদাসীনতার অভিযোগের বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা ওই উদ্যোক্তাকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং কারিগরিভাবে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনা এলে তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে।’