বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং খড়ি-কাঠের সংকটে রান্নার কাজে গোবরের ঘুঁটার কদর বাড়ছে। সাশ্রয়ী রান্নার মাধ্যম হিসাবে টিকে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী শুকনো গোবর বা ঘুঁটা ও লাকড়ি। পরিবেশ বান্ধব এবং স¤পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি এই জ্বালানি গ্রামীণ গৃহবধুদের কাছে এখনও জনপ্রিয়তার স্থান দখল করে আছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাঁক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে গ্রামীণ নারীরা ঘুঁটে তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা গোয়াল ঘর থেকে গোবর সংগ্রহ করে এর সাথে ধানের তুষ (কুঁড়া) মিশিয়ে বিশেষ এই লাকড়ি তৈরি করছেন। কেউ কেউ পাটকাঠি বা বাঁশের কঞ্চিতে গোবর মেখে লম্বা আকৃতির লাকড়িও তৈরি করছে।
আবার কেউ কেউ হাতের তালুতে শুধু কাঁচা গোবর গোল বা চেপ্টা চাকতির মতো বানিয়ে রোদে শুকাতে দিচ্ছে। পাঁচ থেকে ছয় দিন প্রখর রোদে শুকানোর পর এগুলো রান্নার জ্বালানির উপযোগী করছে। তবে সনাতন ধর্মালম্বীর লোকজন বসবাসরত গ্রামে এই ঘুঁটার প্রচলন বেশি দেখা যায়।
উপজেলা সদরের পূর্বপাড়ার মুক্তি রানী, নিরা বসাক, লক্ষী রানী, আদর্শ গ্রামের রাশেদা আক্তার, তালোড়ার ফেঁপিড়া গ্রামে বিশাখা রানী ও নিয়তি রানীসহ অনেকেই জানান এখন বাজারে সবকিছুর দাম চড়া। সম্প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। সিলিন্ডার গ্যাস কেনার সামর্থ্য তাদের মতো সাধারণ মানুষের নেই।
নিজ বাড়ির গোবরের ঘুঁটেতে রান্না করলে কোন খরচ নেই। আর ধোঁয়াও তুলনামূলক কম হয়। পরিবেশবিদ ও কৃষি গবেষকদের মতে, শুকনো গোবর একটি নবায়নযোগ্য এবং কার্বন-নিউট্রাল জ্বালানি উৎস। এটি পোড়ালে ক্ষতিকর রাসায়নিক গ্যাস নির্গত হয় না এবং এর অবশিষ্ট ছাই পরে জমিতে উৎকৃষ্ট জৈবসার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ক্ষতিকারক প্লাস্টিক বা টায়ার পোড়ানোর চেয়ে গোবরের ঘুঁটে ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনেক বেশি কার্যকর।
গ্রামাঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে এই শুকনো গোবর বা ঘুঁটা ও লাকড়ি বাণিজ্যিকভাবেও বিক্রি হচ্ছে। অনেকে গোবরের লাকড়ি তৈরি ও বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন। যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 


























