আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এই দুই রাজনৈতিক শক্তির কারণে দেশে শান্তি ফিরে আসছে না। বর্তমানে স্বৈরাচার ও চাঁদাবাজ এক হয়ে দেশের বিরুদ্ধে নীলনকশা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে এনসিপির শরীয়তপুর জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সবুজ তালুকদারের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, সদস্য ইমরান হোসেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুব আলম জয় এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির। এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির মধ্যে থাকা চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলদারদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, ছাত্ররা জীবন না দিলে তারেক রহমান লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসতে পারতেন না। আগে যারা অর্থ পাচার করেছিল, এখন তাদের জায়গায় নতুন অর্থ পাচারকারীরা এসেছে। বিদেশে আওয়ামী লীগ এবং দেশে বিএনপি-এই দুই শক্তির কারণে মানুষ অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি ও সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের পর গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা থাকলেও কয়েক দফা দাম বাড়িয়ে বর্তমানে সরকারি হিসাবে তা ১ হাজার ৮০০ টাকা বলা হচ্ছে। অথচ বাজারে সেই সিলিন্ডার আড়াই হাজার থেকে ছাব্বিশ শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডারের বাজারে সিন্ডিকেট করে দুই থেকে তিন গুণ দাম বাড়ানো হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বিএনপি ও দলটির নেতাকর্মীরা লাভবান হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
দেশের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার পর্যাপ্ত গ্যাস দিতে পারছে না ফলে কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহও সংকটাপন্ন। গ্যাসের দাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অর্জন করা সম্ভব নয়।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনে কোনোভাবেই যেন দলীয়করণ, প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার কিংবা কারচুপির ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।
এ ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোনো দলের স্বার্থে নয়, বরং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেন, সারের ডিলার নিয়োগে ব্যবসায়িক যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কে সংসদ সদস্যের ছেলে, কে স্থানীয় বিএনপি নেতার স্ত্রী কিংবা কার শ্যালক-এসব বিবেচনায় সারের ডিলারশিপ দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষকে আবারও বিগত ১৬ বছরের জুলুম-নির্যাতনের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 
























