০৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের মানুষ কখনোই স্বৈরাচারী শাসনকে মেনে নেয়নি: স্পিকার

 

গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)। তাই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনে তারা পাশে থাকবে-এমনটাই জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ।

সোমবার জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য রাখেন।

আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বলেন, নেতিবাচক সামাজিক রীতি, কুসংস্কার ও অনলাইন বিদ্বেষসহ নারীদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা মোকাবিলায় আইপিইউ কিছু কার্যকর উপায় তৈরি করেছে। নারীদের মধ্যে সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের নারী সংসদ-সদস্যদের আইপিইউর নারী ফোরাম, জাতিসংঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও অন্য কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় তরুণদের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ উলে­খ করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি নতুন ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতার কথা উলে­খ করেন।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসন এবং নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অন্তত ৪০ নারী সংসদ-সদস্য অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি নির্বাচিত।

স্পিকার জানান, বাংলাদেশে পূর্ববর্তী শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিন পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। তারা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং নির্যাতিত সংসদ-সদস্য, তাদের পরিবার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ চিরকালই গণতন্ত্রকামী এবং তারা গণতন্ত্রের মহান আদর্শ রক্ষায় বারবার জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষ নিজেদের অধিকার আদায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করতে পিছপা হননি। ইতিহাস সাক্ষী দেয় এদেশের সাধারণ মানুষ কখনোই কোনো স্বৈরাচারী শাসনকে মেনে নেয়নি বা সমর্থন করেনি।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের মানুষ অনেক কিছু হারিয়েছে উলে­খ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষ হিসাবে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, তাহসিনা রুশদী, আখতার হোসেন, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তার, সানজিদা ইয়াসমিন, মাধবী মার্মা, মারদিয়া মমতাজ এবং নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি আওয়ামী লীগ আমলের নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

বগুড়ায় স্বর্ণ শিল্পী শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

দেশের মানুষ কখনোই স্বৈরাচারী শাসনকে মেনে নেয়নি: স্পিকার

Update Time : ০৮:০০:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)। তাই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনে তারা পাশে থাকবে-এমনটাই জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ।

সোমবার জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য রাখেন।

আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বলেন, নেতিবাচক সামাজিক রীতি, কুসংস্কার ও অনলাইন বিদ্বেষসহ নারীদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা মোকাবিলায় আইপিইউ কিছু কার্যকর উপায় তৈরি করেছে। নারীদের মধ্যে সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের নারী সংসদ-সদস্যদের আইপিইউর নারী ফোরাম, জাতিসংঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও অন্য কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় তরুণদের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ উলে­খ করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি নতুন ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতার কথা উলে­খ করেন।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসন এবং নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অন্তত ৪০ নারী সংসদ-সদস্য অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি নির্বাচিত।

স্পিকার জানান, বাংলাদেশে পূর্ববর্তী শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিন পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। তারা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং নির্যাতিত সংসদ-সদস্য, তাদের পরিবার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ চিরকালই গণতন্ত্রকামী এবং তারা গণতন্ত্রের মহান আদর্শ রক্ষায় বারবার জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষ নিজেদের অধিকার আদায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করতে পিছপা হননি। ইতিহাস সাক্ষী দেয় এদেশের সাধারণ মানুষ কখনোই কোনো স্বৈরাচারী শাসনকে মেনে নেয়নি বা সমর্থন করেনি।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের মানুষ অনেক কিছু হারিয়েছে উলে­খ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষ হিসাবে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, তাহসিনা রুশদী, আখতার হোসেন, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তার, সানজিদা ইয়াসমিন, মাধবী মার্মা, মারদিয়া মমতাজ এবং নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি আওয়ামী লীগ আমলের নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।