০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

সোনাতলায় পেঁপে চাষ করে তানজিলা বেগম এখন স্বাবলম্বী

বগুড়ার সোনাতলায় পেঁপে চাষ করে তানজিলা বেগম এখন স্বাবলম্বী। অভাবের সংসারে এখন সুখের দিন এসেছে। একসময় সংসারের নানা প্রয়োজন মেটাতে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হতো উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের লোহাগাড়া গ্রামের তানজিলা বেগম (৪২) ও তার পরিবারের সদস্যদের। এখন নিজের হাতে গড়া পেঁপের বাগানই হয়ে উঠেছে আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

সোনাতলার গ্রামীণ পরিবেশে নিজের ৩৩ শতক জমিতে শাহী জাতের পেঁপে চাষ শুরু করেন তানজিলা। প্রথমদিকে অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু অন্যের কথায় কান না দিয়ে প্রথমে অল্প পরিসরে শুরু করলেও তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার পেঁপে বাগানে সারি সারি গাছে ঝুলছে কাঁচা ও পরিপক্ব পেঁপে। কৃষিতে তার এ সাফল্য অন্য নারী কৃষকদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে।

তানজিলা বেগম বলেন, তার স্বামীও একজন কৃষক। অন্যের জমি এগ্রিমেন্ট নিয়ে বছর ৭-৮ আগে পেঁপে চাষ শুরু করেন তিনি। এখন তার নিজের জমিও হয়েছে। প্রথমে তাদের সংসারে ছিল অভাব, অনটন। বর্তমানে সবজি জাতীয় ফসল পেঁপেঁ চাষ করে দুঃখকে দূরে ফেলে সুখের দেখা পেয়েছেন। সবজির পাশাপাশি হাঁস,মুরগী পালন করে বাড়তি অর্থ আয় করেন তিনি। প্রতি মাসে ৪০-৪৫ হাজার টাকা আয় করেন।

বছরে তিনি উৎপাদন খরচ করেও ৩-৪ লাখ টাকা আয় করেন। ৪ সদস্যের সংসারে এখন সুখের শেষ নেই। তিনি আরও বলেন তার স্বামী নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাগানের পরিচর্যায় তাকে সহযোগিতা করেন। তিনি নিয়মিত পেঁপে সংগ্রহ করার পর তার স্বামী স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন।

তানজিলার স্বামী শামছুল হক বলেন, “তার স্ত্রী একজন পরিশ্রমী গৃহিনী। সে নিজের হাতে চাষ করে আয় করতে পেরে অনেক আনন্দিত। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, সোনাতলার মাটি ও আবহাওয়া বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল চাষের জন্য উপযোগী।

পেঁপে চাষে সঠিক জাত নির্বাচন, সময়মতো পরিচর্যা এবং রোগবালাই দমন করতে পারলে কৃষকরা ভালো ফলন ও লাভ পেতে পারেন। তানজিলার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য নারীরাও কৃষিকাজে আগ্রহী হচ্ছেন।

তানজিলার স্বপ্ন এখন আরও বড়। ভবিষ্যতে পেঁপের পাশাপাশি অন্যান্য সবজি চাষের পরিসর বাড়াতে চান তিনি। তার প্রত্যাশা, কৃষি বিভাগের পরামর্শ, উন্নত জাতের চারা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে নিজের কৃষি উদ্যোগকে আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

সোনাতলায় পেঁপে চাষ করে তানজিলা বেগম এখন স্বাবলম্বী

Update Time : ০৭:০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ার সোনাতলায় পেঁপে চাষ করে তানজিলা বেগম এখন স্বাবলম্বী। অভাবের সংসারে এখন সুখের দিন এসেছে। একসময় সংসারের নানা প্রয়োজন মেটাতে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হতো উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের লোহাগাড়া গ্রামের তানজিলা বেগম (৪২) ও তার পরিবারের সদস্যদের। এখন নিজের হাতে গড়া পেঁপের বাগানই হয়ে উঠেছে আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

সোনাতলার গ্রামীণ পরিবেশে নিজের ৩৩ শতক জমিতে শাহী জাতের পেঁপে চাষ শুরু করেন তানজিলা। প্রথমদিকে অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু অন্যের কথায় কান না দিয়ে প্রথমে অল্প পরিসরে শুরু করলেও তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার পেঁপে বাগানে সারি সারি গাছে ঝুলছে কাঁচা ও পরিপক্ব পেঁপে। কৃষিতে তার এ সাফল্য অন্য নারী কৃষকদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে।

তানজিলা বেগম বলেন, তার স্বামীও একজন কৃষক। অন্যের জমি এগ্রিমেন্ট নিয়ে বছর ৭-৮ আগে পেঁপে চাষ শুরু করেন তিনি। এখন তার নিজের জমিও হয়েছে। প্রথমে তাদের সংসারে ছিল অভাব, অনটন। বর্তমানে সবজি জাতীয় ফসল পেঁপেঁ চাষ করে দুঃখকে দূরে ফেলে সুখের দেখা পেয়েছেন। সবজির পাশাপাশি হাঁস,মুরগী পালন করে বাড়তি অর্থ আয় করেন তিনি। প্রতি মাসে ৪০-৪৫ হাজার টাকা আয় করেন।

বছরে তিনি উৎপাদন খরচ করেও ৩-৪ লাখ টাকা আয় করেন। ৪ সদস্যের সংসারে এখন সুখের শেষ নেই। তিনি আরও বলেন তার স্বামী নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাগানের পরিচর্যায় তাকে সহযোগিতা করেন। তিনি নিয়মিত পেঁপে সংগ্রহ করার পর তার স্বামী স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন।

তানজিলার স্বামী শামছুল হক বলেন, “তার স্ত্রী একজন পরিশ্রমী গৃহিনী। সে নিজের হাতে চাষ করে আয় করতে পেরে অনেক আনন্দিত। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, সোনাতলার মাটি ও আবহাওয়া বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল চাষের জন্য উপযোগী।

পেঁপে চাষে সঠিক জাত নির্বাচন, সময়মতো পরিচর্যা এবং রোগবালাই দমন করতে পারলে কৃষকরা ভালো ফলন ও লাভ পেতে পারেন। তানজিলার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য নারীরাও কৃষিকাজে আগ্রহী হচ্ছেন।

তানজিলার স্বপ্ন এখন আরও বড়। ভবিষ্যতে পেঁপের পাশাপাশি অন্যান্য সবজি চাষের পরিসর বাড়াতে চান তিনি। তার প্রত্যাশা, কৃষি বিভাগের পরামর্শ, উন্নত জাতের চারা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে নিজের কৃষি উদ্যোগকে আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবেন।