০৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

উল্লাপাড়ার সোনাকান্ত বিলে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে পদ্মফুল

দু’বছর বিরতি দিয়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সোনাকান্ত বিলে আবারও ফুটেছে পদ্মফুল। গোলাপী ও লাল ফুলে ছেয়ে গেছে গোটা বিল। প্রতিদিনই বিল পাড়ে দেখা মিলছে দর্শনার্থীদের। এর আগে ২০২২ সালে এই বিলে কিছু পদ্ম ফুল দেখা গিয়েছিল।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামের পাশে সোনাকান্ত বিলের অবস্থান। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ৪০-৪৫ বিঘা নিচু জমি মূলতঃ বর্ষায় বিলে রূপ নেয়। এসব জমিতে বছরে শুধু একবার ইরি বোরোর চাষ করা যায়। তাছাড়া বাকি সময়টা থাকে পানিতে পরিপূর্ণ।

বিলের পাশের সড়াতৈল, আমডাঙ্গা, অলিপুর ও বাগদা গ্রামের বাসিন্দারা এই বিলের ভূমির মালিক। সোনাকান্ত বিলে পদ্ম ফুলের প্রাণ মোহনীয় দৃশ্য দেখতে আসা পার্শ্ববর্তী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, বিশ শতকের গোড়ার দিকে এসব নিচু জমিতে পদ্মফুলের দেখা মেলেনি। ২০১৪ সাল থেকে সোনাকান্ত বিলে প্রচুর পদ্ম ফুল ফুটতে শুরু করে।

তবে যে বছর বর্ষায় পানি কম হয় সে বছর বিলে ফুলও কম ফোটে। এবছর বন্যা তেমন না হলেও প্রচুর বৃষ্টির কারণে বিল পুরোপুরি পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফুলও ফুটেছে অনেক। প্রতিদিনই বিল পাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমীরা।

সোনাকান্ত বিলে পদ্ম ফুল দেখতে আসা সালমা খাতুন, শিক্ষক ছন্দা তলাপত্র ও নাঈম হোসেন বলেন, এখানে আসার পর মনে হচ্ছে শহরের কোলাহল থেকে দূরে অন্যরকম এক সুন্দর পরিবেশ। তবে বিলের পাশে ভালো রাস্তা না থাকায় যানবাহন নিয়ে এখানে আসার কোন সুযোগ নেই।

বিলের ভূমির মালিকদের মধ্যে বাগদা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও আমডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস সাত্তার জানান, এই বিলে প্রায় এক যুগ ধরে বর্ষা মৌসুমে পদ্ম ফুল ফুটছে। এসময় বিলের সৌন্দর্য একেবারেই মনকাড়া। সারি সারি পদ্ম ফুটে থাকে পুরো বিল জুড়ে।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান, পদ্ম একটি জলজ উদ্ভিদ। পাখির মাধ্যমে পদ্ম ফুলের বীজ বিলে ছড়ায়। এই বীজ থেকে গাছ জন্মায় এবং গোটা বিলে বিস্তৃত হয় পদ্ম গাছ। পদ্মফুলের জীবনচক্র শুধুই সৌন্দর্য বিলানের জন্য। এই ফুল প্রকৃতির কোন ক্ষতি করে না।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

উল্লাপাড়ার সোনাকান্ত বিলে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে পদ্মফুল

Update Time : ০৭:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

দু’বছর বিরতি দিয়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সোনাকান্ত বিলে আবারও ফুটেছে পদ্মফুল। গোলাপী ও লাল ফুলে ছেয়ে গেছে গোটা বিল। প্রতিদিনই বিল পাড়ে দেখা মিলছে দর্শনার্থীদের। এর আগে ২০২২ সালে এই বিলে কিছু পদ্ম ফুল দেখা গিয়েছিল।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামের পাশে সোনাকান্ত বিলের অবস্থান। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ৪০-৪৫ বিঘা নিচু জমি মূলতঃ বর্ষায় বিলে রূপ নেয়। এসব জমিতে বছরে শুধু একবার ইরি বোরোর চাষ করা যায়। তাছাড়া বাকি সময়টা থাকে পানিতে পরিপূর্ণ।

বিলের পাশের সড়াতৈল, আমডাঙ্গা, অলিপুর ও বাগদা গ্রামের বাসিন্দারা এই বিলের ভূমির মালিক। সোনাকান্ত বিলে পদ্ম ফুলের প্রাণ মোহনীয় দৃশ্য দেখতে আসা পার্শ্ববর্তী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, বিশ শতকের গোড়ার দিকে এসব নিচু জমিতে পদ্মফুলের দেখা মেলেনি। ২০১৪ সাল থেকে সোনাকান্ত বিলে প্রচুর পদ্ম ফুল ফুটতে শুরু করে।

তবে যে বছর বর্ষায় পানি কম হয় সে বছর বিলে ফুলও কম ফোটে। এবছর বন্যা তেমন না হলেও প্রচুর বৃষ্টির কারণে বিল পুরোপুরি পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফুলও ফুটেছে অনেক। প্রতিদিনই বিল পাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমীরা।

সোনাকান্ত বিলে পদ্ম ফুল দেখতে আসা সালমা খাতুন, শিক্ষক ছন্দা তলাপত্র ও নাঈম হোসেন বলেন, এখানে আসার পর মনে হচ্ছে শহরের কোলাহল থেকে দূরে অন্যরকম এক সুন্দর পরিবেশ। তবে বিলের পাশে ভালো রাস্তা না থাকায় যানবাহন নিয়ে এখানে আসার কোন সুযোগ নেই।

বিলের ভূমির মালিকদের মধ্যে বাগদা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও আমডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস সাত্তার জানান, এই বিলে প্রায় এক যুগ ধরে বর্ষা মৌসুমে পদ্ম ফুল ফুটছে। এসময় বিলের সৌন্দর্য একেবারেই মনকাড়া। সারি সারি পদ্ম ফুটে থাকে পুরো বিল জুড়ে।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান, পদ্ম একটি জলজ উদ্ভিদ। পাখির মাধ্যমে পদ্ম ফুলের বীজ বিলে ছড়ায়। এই বীজ থেকে গাছ জন্মায় এবং গোটা বিলে বিস্তৃত হয় পদ্ম গাছ। পদ্মফুলের জীবনচক্র শুধুই সৌন্দর্য বিলানের জন্য। এই ফুল প্রকৃতির কোন ক্ষতি করে না।