০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

দুপচাঁচিয়ায় পাকা ধানের ক্ষেতে বাবুই পাখির উপদ্রব

 

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় চলতি রোপা আউশ ধান কাটার এই ভরা মৌসুমে পাকা ধানের ক্ষেতে ঝাঁকে ঝাঁকে বাবুই পাখির তীব্র উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক।

উত্তরাঞ্চলের শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত দুপচাঁচিয়া উপজেলার ২টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে প্রায় ২৫ হেক্টর ক্ষেতে একযোগে রোপা আউশ ধানের চাষ করা হয়েছে। ধানগুলো পাকতে শুরু হয়েছে। এরই মাঝে অনেকে ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছে।

পাকা রোপা আউশ ধানের ক্ষেতে বাবুই পাখির তীব্র উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে বাবুই পাখির আক্রমণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এইসব পাকা ধান। ধান কাটার ঠিক এইমুহূর্তে বাবুই পাখির আক্রমণে ধানের ক্ষতি আশংকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

উপজেলার তারাজুন গ্রামের সেলিম হোসেন, আব্দুল হামিদ ও ছাতিয়াগাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, সংসারের অতিরিক্ত খরচ যোগানোর জন্য রোপা আউশ ধান চাষে গুরুত্ব দিয়েছে। এবার ধানের বাম্পার ফলনও হয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ ক্ষেতের ধান পেকেও গেছে। পাকা ধান কাটার ঠিক আগমুহূর্তে জমিতে ঝাঁকে ঝাঁকে বাবুই পাখি ধানক্ষেতে নেমে ধানের শীষ ভেঙে ফেলছে এবং ধানের দুধ খেয়ে নিচ্ছে।

এতে ধানের শীষ শুকিয়ে চিটায় পরিণত হচ্ছে। তারা আরও জানান দিন-রাত ক্ষেত পাহারা দিয়েও পাখির দল ঠেকানো যাচ্ছে না। পাখির উপদ্রব অব্যাহত থাকলে চাষকৃত জমির অধিকাংশ পাকা ধান শেষ মুহূর্তে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এতে তাদের উৎপাদন খরচ ওঠানো তো দূরের কথা, উল্টো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশংকা বাড়ছে।

গতকাল শুক্রবার উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মুরছালিন প্রামানিক জানান, রোপা আউশ ধান পাকার মৌসুমে বাবুইসহ বিভিন্ন ছোট পাখির উপস্থিতি স্বাভাবিক। তবে এবার উপজেলার কয়েকটি এলাকায় এদের উপদ্রবের তীব্রতা বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব ধানক্ষেতের আশপাশে তালগাছ ও উঁচু গাছপালা বেশি রয়েছে, সেসব এলাকায় এই বাবুই পাখির আনাগোনা বেশি দেখা যাচ্ছে।

ধান কচি বা ক্ষীর অবস্থায় যখন থাকে তখন একসাথে জমিতে ঝাঁকে ঝাঁকে তারা উড়ে এসে বসছে। এবং ধানের ক্ষতিও করছে। কৃষকদেরকে এইসব বাবুই পাখির হাত থেকে পাকা ধান রক্ষার্থে পাহারা দেওয়াসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন বলেন, রোপা আউশ ধানের জমিতে বাবুই পাখির আক্রমণের বিষয়টি জেনেছেন। বাবুই পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাণী।

তাই কোনো অবস্থাতেই বিষটোপ, ফাঁদ বা কারেন্ট জাল ব্যবহার করে এইসব পাখি মারা সম্ভব নয়। পরিবেশবান্ধব উপায়ে পাখি তাড়াতে ক্ষেতের চারপাশে চকচকে পলিথিন টাঙানো, ঝুনঝুনি বাজানো ও কাকতাড়ুয়া ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ধান পেকে গেলেই দ্রুত কেটে ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

দুপচাঁচিয়ায় পাকা ধানের ক্ষেতে বাবুই পাখির উপদ্রব

Update Time : ০৬:৪৪:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

 

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় চলতি রোপা আউশ ধান কাটার এই ভরা মৌসুমে পাকা ধানের ক্ষেতে ঝাঁকে ঝাঁকে বাবুই পাখির তীব্র উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক।

উত্তরাঞ্চলের শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত দুপচাঁচিয়া উপজেলার ২টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে প্রায় ২৫ হেক্টর ক্ষেতে একযোগে রোপা আউশ ধানের চাষ করা হয়েছে। ধানগুলো পাকতে শুরু হয়েছে। এরই মাঝে অনেকে ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছে।

পাকা রোপা আউশ ধানের ক্ষেতে বাবুই পাখির তীব্র উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে বাবুই পাখির আক্রমণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এইসব পাকা ধান। ধান কাটার ঠিক এইমুহূর্তে বাবুই পাখির আক্রমণে ধানের ক্ষতি আশংকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

উপজেলার তারাজুন গ্রামের সেলিম হোসেন, আব্দুল হামিদ ও ছাতিয়াগাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, সংসারের অতিরিক্ত খরচ যোগানোর জন্য রোপা আউশ ধান চাষে গুরুত্ব দিয়েছে। এবার ধানের বাম্পার ফলনও হয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ ক্ষেতের ধান পেকেও গেছে। পাকা ধান কাটার ঠিক আগমুহূর্তে জমিতে ঝাঁকে ঝাঁকে বাবুই পাখি ধানক্ষেতে নেমে ধানের শীষ ভেঙে ফেলছে এবং ধানের দুধ খেয়ে নিচ্ছে।

এতে ধানের শীষ শুকিয়ে চিটায় পরিণত হচ্ছে। তারা আরও জানান দিন-রাত ক্ষেত পাহারা দিয়েও পাখির দল ঠেকানো যাচ্ছে না। পাখির উপদ্রব অব্যাহত থাকলে চাষকৃত জমির অধিকাংশ পাকা ধান শেষ মুহূর্তে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এতে তাদের উৎপাদন খরচ ওঠানো তো দূরের কথা, উল্টো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশংকা বাড়ছে।

গতকাল শুক্রবার উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মুরছালিন প্রামানিক জানান, রোপা আউশ ধান পাকার মৌসুমে বাবুইসহ বিভিন্ন ছোট পাখির উপস্থিতি স্বাভাবিক। তবে এবার উপজেলার কয়েকটি এলাকায় এদের উপদ্রবের তীব্রতা বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব ধানক্ষেতের আশপাশে তালগাছ ও উঁচু গাছপালা বেশি রয়েছে, সেসব এলাকায় এই বাবুই পাখির আনাগোনা বেশি দেখা যাচ্ছে।

ধান কচি বা ক্ষীর অবস্থায় যখন থাকে তখন একসাথে জমিতে ঝাঁকে ঝাঁকে তারা উড়ে এসে বসছে। এবং ধানের ক্ষতিও করছে। কৃষকদেরকে এইসব বাবুই পাখির হাত থেকে পাকা ধান রক্ষার্থে পাহারা দেওয়াসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন বলেন, রোপা আউশ ধানের জমিতে বাবুই পাখির আক্রমণের বিষয়টি জেনেছেন। বাবুই পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাণী।

তাই কোনো অবস্থাতেই বিষটোপ, ফাঁদ বা কারেন্ট জাল ব্যবহার করে এইসব পাখি মারা সম্ভব নয়। পরিবেশবান্ধব উপায়ে পাখি তাড়াতে ক্ষেতের চারপাশে চকচকে পলিথিন টাঙানো, ঝুনঝুনি বাজানো ও কাকতাড়ুয়া ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ধান পেকে গেলেই দ্রুত কেটে ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।