বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে হাসনাপাড়া স্পার। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে স্পারের একটি অংশে হঠাৎ তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এতে স্পারের মাটি ধসে পড়ার পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো একটি বটগাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙনের কারণে স্পারের সঙ্গে সংযুক্ত চলাচল সড়কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীপাড়ের জনগণের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন ভাঙন ঠেকাতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বগুড়ার সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাসনাপাড়া স্পারের একাংশে মাটি সরে যেতে শুরু করে। পরে নদীর পানির স্রোতে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। কিছু সময়ের মধ্যেই প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তে স্পারের ৩০ মিটার স্যাংক (মাটির অংশ) ধসে নদীতে পড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে স্পারের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য লাগানো একটি বটগাছও নদীতে বিলীন হয়। স্পারে ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয় জনগণের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্পারের সঙ্গে থাকা সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে জনগণের চলাচলের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন, মিজানুর রহমান, রাসেল মিয়া প্রমুখ বলেন, হাসনাপাড়া স্পারটি এই এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এর উপর নির্মিত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারও মানুষ চলাচল করেন। ফলে এই ভাঙন কেবল একটি স্থাপনার ক্ষতি নয়; পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর আঘাত হেনেছে। অনতিবিলম্বে এখানে স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এদিকে হাসনাপাড়া স্পারে ভাঙন ঠেকাতে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করেছে। নদীর স্রোতের চাপ ও মাটি সরে যাওয়ার প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের কাজ চলছে। তবে স্পারের সঙ্গে চলাচল সড়কের স্থায়ী ও টেকসই সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তীতে উদ্যোগ নেয়া হবে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সোহেল রানা জানান, উজানে নতুন করে চর জেগে ওঠার কারণে নদীর পানির মূল গতিপথ এখন সরাসরি স্পারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে সেখানে প্রচণ্ড ঘূর্ণাবর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও বস্তা ফেলার কাজ চলছে।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মিকাইল ইসলাম জানান, ভাঙন কবলিত স্থানে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। খুব দ্রুত তারা ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করবে। এছাড়া পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শেরপুর নিউজ প্রতিবেদকঃ 
























