০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই কারও একার নয়, এটা ২০ কোটি মানুষের-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

স্বৈরাচারের শেকল ভেঙে অর্জিত গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পদে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মুক্তির পর যদি প্রশ্ন তোলা হয় জুলাই কার, তবে এই অর্জন আর কারও থাকবে না।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিজের আয়নাঘরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পৃথিবীর জঘন্যতম স্বৈরাচারকে আমরা দেখেছি। যদি আমরা আয়নাঘরে যাই, যেখানে আমার ৬১ দিনের অভিজ্ঞতা আছে, সেখানে একটা জানোয়ার ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারে না, আমরা সেখানে থেকেছি।” এ সময় শহীদ মীর কাসেম আলীর পরিবারের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “আমি একটা জীবন্ত ইতিহাস… বাবা এ জন্য ফিরে এসেছিলেন তার সন্তানকে রক্ষা করবেন, কিন্তু সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি।”

আন্দোলনের কোনো দলীয়করণের সুযোগ নেই উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সে রকম একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারওই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।”

লেনিনের উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি জানান, নিউটনের কোনো আপেলের মতো বিপ্লব নিজে থেকে টপকিয়ে পড়ে না, তাকে পাকাতে হয়। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রামের সোপান পার হয়েই ৩৬ দিনের ঐতিহাসিক জুলাই এসে পৌঁছেছে।

সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আসুন, একসঙ্গে বসি। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আপনাদের আহ্বান জানিয়েছি, আপনারা এখনো নাম দেননি। গতকাল প্রথম বৈঠক করেছি। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।”

চেতনা বেচাকেনার রাজনীতির পরিণাম স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “একাত্তরের চেতনাকে বিক্রি করতে করতে শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।”

জুলাইয়ের চেতনাকে সবার ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুলাই আমাদের সবার, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের। আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, যারা শহীদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা।”

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জুলাই কারও একার নয়, এটা ২০ কোটি মানুষের-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৭:২০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

 

স্বৈরাচারের শেকল ভেঙে অর্জিত গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পদে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মুক্তির পর যদি প্রশ্ন তোলা হয় জুলাই কার, তবে এই অর্জন আর কারও থাকবে না।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিজের আয়নাঘরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পৃথিবীর জঘন্যতম স্বৈরাচারকে আমরা দেখেছি। যদি আমরা আয়নাঘরে যাই, যেখানে আমার ৬১ দিনের অভিজ্ঞতা আছে, সেখানে একটা জানোয়ার ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারে না, আমরা সেখানে থেকেছি।” এ সময় শহীদ মীর কাসেম আলীর পরিবারের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “আমি একটা জীবন্ত ইতিহাস… বাবা এ জন্য ফিরে এসেছিলেন তার সন্তানকে রক্ষা করবেন, কিন্তু সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি।”

আন্দোলনের কোনো দলীয়করণের সুযোগ নেই উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সে রকম একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারওই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।”

লেনিনের উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি জানান, নিউটনের কোনো আপেলের মতো বিপ্লব নিজে থেকে টপকিয়ে পড়ে না, তাকে পাকাতে হয়। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রামের সোপান পার হয়েই ৩৬ দিনের ঐতিহাসিক জুলাই এসে পৌঁছেছে।

সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আসুন, একসঙ্গে বসি। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আপনাদের আহ্বান জানিয়েছি, আপনারা এখনো নাম দেননি। গতকাল প্রথম বৈঠক করেছি। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।”

চেতনা বেচাকেনার রাজনীতির পরিণাম স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “একাত্তরের চেতনাকে বিক্রি করতে করতে শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।”

জুলাইয়ের চেতনাকে সবার ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুলাই আমাদের সবার, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের। আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, যারা শহীদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা।”