১০:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষিকার রিল ভিডিও, গঠন করা হচ্ছে তদন্ত কমিটি

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত রিল ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধারণ করা ওই ভিডিও সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পালের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ‘Annabel Li Li’ থেকে গত (২৩ জুলাই) বৃহস্পতিবার কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল ভিডিও পোস্ট করা হয়।

ভিডিওতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে – ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে/ দূর অজানায় চায় হারাতে…’ গানের সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিউটি পাল চলতি বছর সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

রিলস ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিষয়টি নিয়ে নানা মতামত প্রকাশ করেন। একপক্ষ ভিডিওটি শেয়ার করে প্রধান শিক্ষিকার সমালোচনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে চলছে ট্রল ও সাইবার বুলিং। অন্যদিকে আরেকপক্ষ এসব ট্রল ও বুলিংয়ের নিন্দা জানিয়ে প্রধান শিক্ষিকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্ত শেষে দেখা হবে কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ে ধারণকৃত এমন ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের বিষয়ে কোনো বিধিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না- তা খতিয়ে দেখা হবে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষিকার রিল ভিডিও, গঠন করা হচ্ছে তদন্ত কমিটি

Update Time : ০৬:১৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত রিল ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধারণ করা ওই ভিডিও সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পালের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ‘Annabel Li Li’ থেকে গত (২৩ জুলাই) বৃহস্পতিবার কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল ভিডিও পোস্ট করা হয়।

ভিডিওতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে – ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে/ দূর অজানায় চায় হারাতে…’ গানের সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিউটি পাল চলতি বছর সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

রিলস ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিষয়টি নিয়ে নানা মতামত প্রকাশ করেন। একপক্ষ ভিডিওটি শেয়ার করে প্রধান শিক্ষিকার সমালোচনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে চলছে ট্রল ও সাইবার বুলিং। অন্যদিকে আরেকপক্ষ এসব ট্রল ও বুলিংয়ের নিন্দা জানিয়ে প্রধান শিক্ষিকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্ত শেষে দেখা হবে কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ে ধারণকৃত এমন ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের বিষয়ে কোনো বিধিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না- তা খতিয়ে দেখা হবে।