১১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

সাঁথিয়ায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

 

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে রোমেনা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে প্রবাস থেকে ছুটিতে আসা স্বামী আব্দুর রহিম (৪৫)। আব্দুর রহিম চরপাড়া গ্রামের রইজ মোল্লার ছেলে এবং নিহত গৃহবধূ একই ইউনিয়নের কাশিনাথপুর গ্রামের মরহম আলীর মেয়ে।

গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার প্রবাসফেরত অভিযুক্ত স্বামী আব্দুর রহিমকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।

স্থানীয় ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে আব্দুর রহিম সৌদি আরবে যান। সেখানে ৬ বছর থাকার পর বর্তমানে মালয়েশিয়ায় থাকেন। প্রায় দুই মাস হলো ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। রোমেনা খাতুন তাঁর বাবার বাড়ি মাঝে মধ্যে টাকা পাঠান, এ নিয়ে তাঁর স্বামী আব্দুর রহিমের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আব্দুর রহিম তাঁর স্ত্রী রোমেনা খাতুনকে গলা টিপে হত্যা করে।

নিহতের স্বামী আব্দুর রহিম হত্যার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি প্রবাসে থাকা অবস্থায় আমার আয়ের বেশির ভাগ টাকা আমার স্ত্রী তাঁর বাবার বাড়ি পাঠায়। গত সোমবার সে আমাকে না জানিয়ে গচ্ছিত ১৩ হাজার টাকা আবারও তাঁর বাবার বাড়ি পাঠায়। টাকার কথা জিজ্ঞেস করলে তাঁর সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়। এ নিয়ে আমি তাঁকে গলা টিপে ধরলে সে মারা যায়। তবে আমি জানতাম না গলা টিপে ধরায় সে মারা যাবে।’

নিহত রোমেনা খাতুনের বাবা মরহম আলী জানান, সোমবার আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে সেখানে যাই। আমার মেয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে তারা আমাকে জানান এবং তাঁকে দাফনের প্রক্রিয়া করতে থাকেন। কিন্তু মেয়ের গোসলের সময় তাঁর গায়ে মারধর ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে আমার সন্দেহ হয়। তখন থানা-পুলিশকে খবর দিই। ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পায়। থানা-পুলিশ আব্দুর রহিমকে জিজ্ঞেস করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। আমার মেয়ের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমার নাতিদের এখন কী হবে? আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই। হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।’

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। নিহতের গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয়। তখন স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাঁকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সাঁথিয়ায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

Update Time : ০৭:২৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

 

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে রোমেনা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে প্রবাস থেকে ছুটিতে আসা স্বামী আব্দুর রহিম (৪৫)। আব্দুর রহিম চরপাড়া গ্রামের রইজ মোল্লার ছেলে এবং নিহত গৃহবধূ একই ইউনিয়নের কাশিনাথপুর গ্রামের মরহম আলীর মেয়ে।

গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার প্রবাসফেরত অভিযুক্ত স্বামী আব্দুর রহিমকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।

স্থানীয় ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে আব্দুর রহিম সৌদি আরবে যান। সেখানে ৬ বছর থাকার পর বর্তমানে মালয়েশিয়ায় থাকেন। প্রায় দুই মাস হলো ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। রোমেনা খাতুন তাঁর বাবার বাড়ি মাঝে মধ্যে টাকা পাঠান, এ নিয়ে তাঁর স্বামী আব্দুর রহিমের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আব্দুর রহিম তাঁর স্ত্রী রোমেনা খাতুনকে গলা টিপে হত্যা করে।

নিহতের স্বামী আব্দুর রহিম হত্যার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি প্রবাসে থাকা অবস্থায় আমার আয়ের বেশির ভাগ টাকা আমার স্ত্রী তাঁর বাবার বাড়ি পাঠায়। গত সোমবার সে আমাকে না জানিয়ে গচ্ছিত ১৩ হাজার টাকা আবারও তাঁর বাবার বাড়ি পাঠায়। টাকার কথা জিজ্ঞেস করলে তাঁর সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়। এ নিয়ে আমি তাঁকে গলা টিপে ধরলে সে মারা যায়। তবে আমি জানতাম না গলা টিপে ধরায় সে মারা যাবে।’

নিহত রোমেনা খাতুনের বাবা মরহম আলী জানান, সোমবার আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে সেখানে যাই। আমার মেয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে তারা আমাকে জানান এবং তাঁকে দাফনের প্রক্রিয়া করতে থাকেন। কিন্তু মেয়ের গোসলের সময় তাঁর গায়ে মারধর ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে আমার সন্দেহ হয়। তখন থানা-পুলিশকে খবর দিই। ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পায়। থানা-পুলিশ আব্দুর রহিমকে জিজ্ঞেস করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। আমার মেয়ের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমার নাতিদের এখন কী হবে? আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই। হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।’

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। নিহতের গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয়। তখন স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাঁকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।