০২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

শাজাহানপুরে ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

৪৫ দিনের কোলের শিশুকে নিয়ে হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী ও স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়ার সদস্যরা গত রোববার বিকেলে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
ডিএনসি বগুড়ার উপপরিচালক মোহা.জিললুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় মহাসড়কে ঢাকা হতে বগুড়াগামী আর কে ট্রাভেলস্ এর একটি যাত্রীবাহী কোচ (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১২৯৫) থামানো হয়।
এরপর বাসের ঋ-১. ঋ-২ সিটে বসা ওই স্বামী-স্ত্রীর দেহ তল্লাশি করে ওই পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। ইয়াবাগুলো আসামি শারমিনের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটে লুকানো ছিল।
সোমবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য নিশ্চিত করেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সারমিন খানম ও তাঁর স্বামী সোহাগ মৃধা। তাঁদের বর্তমান ঠিকানা ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায়। ডিএনসির দাবি, সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়া জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে অভিযান চালানো হয়।
অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল নয়মাইল জামালপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় ঢাকা থেকে বগুড়াগামী আর কে ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাসটির এফ-১ ও এফ-২ আসনে বসা টিকিটবিহীন দুই যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসির ভাষ্য অনুযায়ী, সারমিন খানমের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটের সঙ্গে কালো স্কচটেপে মোড়ানো ২০টি নীল জিপারযুক্ত প্যাকেটে ৪ হাজার পিস এবং বাম পায়ের হাঁটুর নিচে একই কৌশলে লুকানো ১৯টি প্যাকেটে আরও ৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ছিল। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ৭৮০ গ্রাম।
এ ছাড়া তাঁদের কাছ থেকে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করা দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও সাদা রঙের দুটি অ্যাংলেট জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, চালানটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আরও জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

ঢাকা-টোকিওর যৌথ ঘোষণা: পাঁচ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্য জাপানের

শাজাহানপুরে ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

Update Time : ০৭:৪৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

৪৫ দিনের কোলের শিশুকে নিয়ে হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী ও স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়ার সদস্যরা গত রোববার বিকেলে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
ডিএনসি বগুড়ার উপপরিচালক মোহা.জিললুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় মহাসড়কে ঢাকা হতে বগুড়াগামী আর কে ট্রাভেলস্ এর একটি যাত্রীবাহী কোচ (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১২৯৫) থামানো হয়।
এরপর বাসের ঋ-১. ঋ-২ সিটে বসা ওই স্বামী-স্ত্রীর দেহ তল্লাশি করে ওই পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। ইয়াবাগুলো আসামি শারমিনের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটে লুকানো ছিল।
সোমবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য নিশ্চিত করেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সারমিন খানম ও তাঁর স্বামী সোহাগ মৃধা। তাঁদের বর্তমান ঠিকানা ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায়। ডিএনসির দাবি, সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়া জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে অভিযান চালানো হয়।
অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল নয়মাইল জামালপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় ঢাকা থেকে বগুড়াগামী আর কে ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাসটির এফ-১ ও এফ-২ আসনে বসা টিকিটবিহীন দুই যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসির ভাষ্য অনুযায়ী, সারমিন খানমের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটের সঙ্গে কালো স্কচটেপে মোড়ানো ২০টি নীল জিপারযুক্ত প্যাকেটে ৪ হাজার পিস এবং বাম পায়ের হাঁটুর নিচে একই কৌশলে লুকানো ১৯টি প্যাকেটে আরও ৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ছিল। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ৭৮০ গ্রাম।
এ ছাড়া তাঁদের কাছ থেকে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করা দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও সাদা রঙের দুটি অ্যাংলেট জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, চালানটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আরও জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।