০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ধুনটে বিবাদীদের কাণ্ডে ‘হতভম্ভ’ বাদি ও পুলিশ

 

দীর্ঘ ৪০ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ভোগদখলে গড়ে ওঠা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হঠাৎ করেই সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে বাঁশের বেড়া ও গাছ রোপণ করে যাতায়াত অবরুদ্ধ করে দেওয়া হলো। এতে চরম আর্থিক ও মানসিক দুর্ভোগে পড়েছেন বগুড়ার ধুনটের নলডাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ীরা। বন্ধ হয়ে পড়েছে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্রয়-বিক্রয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে জুমার নামাজের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে বিবাদীরা এই ঘটনা ঘটায়।

আদালতের মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর আগে উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের নলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা রুস্তম আলী মণ্ডল ধুনট মৌজার ৫০১ নম্বর দাগে পাকুড়িহাটা গ্রামের বাসিন্দা মোতরাজ, কাইনচা, জলিল, করিম ও আজিজার নামের পাঁচ ব্যক্তির কাছ থেকে ৭৭ শতক জমি ক্রয় করেন।

সেই থেকে রুস্তম আলীর ছেলে হাসান আলী ওই জমিতে নলডাঙ্গা বাজারে পাকা স্থাপনা তৈরি করে নানা ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। এ অবস্থায় দুই মাস আগে জমি বিক্রেতা পরিবারের লোকজন নকশায় জমি বেশি থাকার কথা বলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় গত ৩১ সেপ্টেম্বর রুস্তম আলীর ছেলে হাসান আলী বাদী হয়ে বিক্রেতা পরিবারের সদস্য রফিকুল ইসলাম ও বাদশা মিয়াসহ ১০ জনকে বিবাদী করে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা শুনানির পর আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি করে নিষেধাজ্ঞা দেন এবং থানা পুলিশকে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেন।

এরপর গত ১ আগস্ট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ঘটনাস্থলে যেতে নিষেধ করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার দুপুরে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে জুমার নামাজ আদায় করতে যান। সেই সুযোগে মামলার বিবাদীরা চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বাঁশের বেড়া ও গাছ রোপণ করে যাতায়াত অবরুদ্ধ করে ফেলে। এতে ওই সব প্রতিষ্ঠানে ক্রয়-বিক্রয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিষ্ঠানের সামনে বেড়া দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

শেরপুরে শহীদুর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

ধুনটে বিবাদীদের কাণ্ডে ‘হতভম্ভ’ বাদি ও পুলিশ

Update Time : ০৭:৫৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

দীর্ঘ ৪০ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ভোগদখলে গড়ে ওঠা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হঠাৎ করেই সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে বাঁশের বেড়া ও গাছ রোপণ করে যাতায়াত অবরুদ্ধ করে দেওয়া হলো। এতে চরম আর্থিক ও মানসিক দুর্ভোগে পড়েছেন বগুড়ার ধুনটের নলডাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ীরা। বন্ধ হয়ে পড়েছে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্রয়-বিক্রয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে জুমার নামাজের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে বিবাদীরা এই ঘটনা ঘটায়।

আদালতের মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর আগে উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের নলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা রুস্তম আলী মণ্ডল ধুনট মৌজার ৫০১ নম্বর দাগে পাকুড়িহাটা গ্রামের বাসিন্দা মোতরাজ, কাইনচা, জলিল, করিম ও আজিজার নামের পাঁচ ব্যক্তির কাছ থেকে ৭৭ শতক জমি ক্রয় করেন।

সেই থেকে রুস্তম আলীর ছেলে হাসান আলী ওই জমিতে নলডাঙ্গা বাজারে পাকা স্থাপনা তৈরি করে নানা ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। এ অবস্থায় দুই মাস আগে জমি বিক্রেতা পরিবারের লোকজন নকশায় জমি বেশি থাকার কথা বলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় গত ৩১ সেপ্টেম্বর রুস্তম আলীর ছেলে হাসান আলী বাদী হয়ে বিক্রেতা পরিবারের সদস্য রফিকুল ইসলাম ও বাদশা মিয়াসহ ১০ জনকে বিবাদী করে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা শুনানির পর আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি করে নিষেধাজ্ঞা দেন এবং থানা পুলিশকে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেন।

এরপর গত ১ আগস্ট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ঘটনাস্থলে যেতে নিষেধ করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার দুপুরে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে জুমার নামাজ আদায় করতে যান। সেই সুযোগে মামলার বিবাদীরা চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বাঁশের বেড়া ও গাছ রোপণ করে যাতায়াত অবরুদ্ধ করে ফেলে। এতে ওই সব প্রতিষ্ঠানে ক্রয়-বিক্রয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিষ্ঠানের সামনে বেড়া দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।