০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নওগাঁয় স্কুলের মাঠ ভরাটে বিষাক্ত ছাঁই!

 

নওগাঁর মহাদেবপুরে একটি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ভরাট করা হচ্ছে চালকলের (রাইস মিল) বয়লারের বিষাক্ত ও প্রচণ্ড গরম ছাঁই দিয়ে। উন্মুক্ত ট্রাক্টরে করে এই ছাঁই পরিবহনের সময় তা বাতাসে উড়ে পথচারীদের চোখে-মুখে পড়ছে। আবার বিদ্যালয়ের মাঠেই এই ছাঁই স্তূপ করে রাখায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মহাদেবপুর উপজেলা সদরের জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় মেসার্স শিউলী চালকল থেকে এই ছাঁই এনে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একটি ভবনের পাশে ফেলা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চালকলের বয়লার থেকে গরম ছাঁই বের করে রাস্তায় জমা করা হচ্ছে। সেখান থেকে খোলা ট্রাক্টরে করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বিদ্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে। চলাচলের পথে বাতাসে ছাঁই উড়ে আশপাশের পরিবেশ বিষিয়ে তুলছে। বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালেই এসব ছাঁই মাঠে ফেলা হচ্ছে, যা নিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শরীরে প্রবেশ করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের চেয়ারম্যান স্বয়ং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠ ভরাটের জন্য সরকারি বরাদ্দ থাকলেও টাকা বাঁচাতে বিনামূল্যে পাওয়া বয়লারের ছাঁই ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি নতুন ভবনের ভিত্তি কাটার সময় পাওয়া মাটি মাঠে না ফেলে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘আমি প্রকল্পে আট ড্রামট্রাক বালু ফেলেছি। আর বয়লারের ছাঁইগুলো বিনামূল্যে এনে নতুন ভবনের পাশের গর্ত ভরাট করছি। এই ছাঁই প্রকল্পের কাজের অংশ নয়।’

তবে পরিবেশবিদেরা বলছেন, বয়লারের উড়ন্ত ছাঁই স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি মাটির ধারণক্ষমতাও কমিয়ে দেয়, যা ভবিষ্যতে ওই স্থানে ভবন নির্মাণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানান, প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান। তবে মাঠ ভরাটে ছাঁই ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এই বিষাক্ত ছাঁই অপসারণ করে বালু বা মাটি দিয়ে মাঠ ভরাটের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

নওগাঁয় স্কুলের মাঠ ভরাটে বিষাক্ত ছাঁই!

Update Time : ০৭:৪১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

 

নওগাঁর মহাদেবপুরে একটি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ভরাট করা হচ্ছে চালকলের (রাইস মিল) বয়লারের বিষাক্ত ও প্রচণ্ড গরম ছাঁই দিয়ে। উন্মুক্ত ট্রাক্টরে করে এই ছাঁই পরিবহনের সময় তা বাতাসে উড়ে পথচারীদের চোখে-মুখে পড়ছে। আবার বিদ্যালয়ের মাঠেই এই ছাঁই স্তূপ করে রাখায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মহাদেবপুর উপজেলা সদরের জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় মেসার্স শিউলী চালকল থেকে এই ছাঁই এনে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একটি ভবনের পাশে ফেলা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চালকলের বয়লার থেকে গরম ছাঁই বের করে রাস্তায় জমা করা হচ্ছে। সেখান থেকে খোলা ট্রাক্টরে করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বিদ্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে। চলাচলের পথে বাতাসে ছাঁই উড়ে আশপাশের পরিবেশ বিষিয়ে তুলছে। বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালেই এসব ছাঁই মাঠে ফেলা হচ্ছে, যা নিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শরীরে প্রবেশ করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের চেয়ারম্যান স্বয়ং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠ ভরাটের জন্য সরকারি বরাদ্দ থাকলেও টাকা বাঁচাতে বিনামূল্যে পাওয়া বয়লারের ছাঁই ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি নতুন ভবনের ভিত্তি কাটার সময় পাওয়া মাটি মাঠে না ফেলে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘আমি প্রকল্পে আট ড্রামট্রাক বালু ফেলেছি। আর বয়লারের ছাঁইগুলো বিনামূল্যে এনে নতুন ভবনের পাশের গর্ত ভরাট করছি। এই ছাঁই প্রকল্পের কাজের অংশ নয়।’

তবে পরিবেশবিদেরা বলছেন, বয়লারের উড়ন্ত ছাঁই স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি মাটির ধারণক্ষমতাও কমিয়ে দেয়, যা ভবিষ্যতে ওই স্থানে ভবন নির্মাণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানান, প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান। তবে মাঠ ভরাটে ছাঁই ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এই বিষাক্ত ছাঁই অপসারণ করে বালু বা মাটি দিয়ে মাঠ ভরাটের দাবি জানিয়েছেন।