০৯:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশনে বীর মুক্তিযোদ্ধা

 

নিজের বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা, হামলার ঘটনায় সুবিচার এবং বরাদ্দ পাওয়া সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশনে বসেছেন ৭৬ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজাহার আলী হাওলাদার।

রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই করুণ ও প্রতিবাদী অনশন শুরু করেন তিনি। অনশনরত এই বীর সন্তান পটুয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

অনশনে বসে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী হাওলাদার বলেন, ‘আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ নিজের বসতভিটায় নিরাপদে থাকতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও সন্ত্রাসীদের বাধায় ঘরের কাজ শেষ করতে পারছি না। আমি আমার বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চাই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলাও চালানো হয়েছে।

সংবাদ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় আজাহার আলীর বসতঘরে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় কামাল গাজী, ফারুক গাজী, শামীম ও লিটনসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

তবে হামলায় যুক্ত অভিযুক্তদের বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে সরকারি ঘর নির্মাণের জটিলতা প্রসঙ্গে পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু মুছা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধাকে যে জমিতে সরকারি ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেই জমির মালিক তিনি নন। জমিটি তার নিজস্ব না হওয়ায় সেখানে ঘর নির্মাণের কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিজস্ব জমি থাকলে সেখানে ঘরের জন্য আবেদন করতে তাকে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি আবেদন করেননি।’

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশনে বীর মুক্তিযোদ্ধা

Update Time : ০৭:০৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

 

নিজের বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা, হামলার ঘটনায় সুবিচার এবং বরাদ্দ পাওয়া সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশনে বসেছেন ৭৬ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজাহার আলী হাওলাদার।

রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই করুণ ও প্রতিবাদী অনশন শুরু করেন তিনি। অনশনরত এই বীর সন্তান পটুয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

অনশনে বসে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী হাওলাদার বলেন, ‘আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ নিজের বসতভিটায় নিরাপদে থাকতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও সন্ত্রাসীদের বাধায় ঘরের কাজ শেষ করতে পারছি না। আমি আমার বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চাই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলাও চালানো হয়েছে।

সংবাদ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় আজাহার আলীর বসতঘরে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় কামাল গাজী, ফারুক গাজী, শামীম ও লিটনসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

তবে হামলায় যুক্ত অভিযুক্তদের বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে সরকারি ঘর নির্মাণের জটিলতা প্রসঙ্গে পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু মুছা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধাকে যে জমিতে সরকারি ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেই জমির মালিক তিনি নন। জমিটি তার নিজস্ব না হওয়ায় সেখানে ঘর নির্মাণের কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিজস্ব জমি থাকলে সেখানে ঘরের জন্য আবেদন করতে তাকে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি আবেদন করেননি।’