০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

শেরপুরে অটোরিকশা চালক হত্যা মামলায় নাতী-নানি গ্রেপ্তার

 

বগুড়ার শেরপুরে অটোরিকশা চালক আসাদুল ইসলাম (২৬) হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল ঘাতক রিয়াদ হোসেন (২১) ও তাঁর নানি রেহানা বেগমকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চকমুড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে শেরপুর থানা-পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া শহর থেকে অটোরিকশাটি এবং শেরপুরের রণবীরবালা এলাকার করতোয়া নদী থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আসাদুল ইসলাম শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের কাফুরা গ্রামের বাসিন্দা। গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন তাঁর মা আঞ্জোয়ারা বেগম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় শাহবন্দেগী ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর নামাপাড়া সংলগ্ন করতোয়া নদী থেকে আসাদুলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াদ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আর মরদেহ নদীতে ফেলে দিয়ে আলামত গোপনের কাজে সহায়তা করেন তাঁর নানি রেহানা বেগম।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, আসাদুলের অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে যাত্রীবেশে রিকশায় ওঠেন রিয়াদ। সন্ধ্যায় শেরপুরের রণবীরবালা গ্রামে রিয়াদের নানির বাড়িতে গিয়ে দুজন একসঙ্গে মাদক সেবন করেন। সেখানে ৫০ টাকার একটি নতুন নোট নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে ক্ষুব্ধ হয়ে রিয়াদ ধারালো ছুরি দিয়ে আসাদুলকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ চাদরে মুড়িয়ে করতোয়া নদীতে ফেলে দেন।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে অটোরিকশা চালক হত্যা মামলায় নাতী-নানি গ্রেপ্তার

Update Time : ০৬:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

 

বগুড়ার শেরপুরে অটোরিকশা চালক আসাদুল ইসলাম (২৬) হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল ঘাতক রিয়াদ হোসেন (২১) ও তাঁর নানি রেহানা বেগমকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চকমুড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে শেরপুর থানা-পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া শহর থেকে অটোরিকশাটি এবং শেরপুরের রণবীরবালা এলাকার করতোয়া নদী থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আসাদুল ইসলাম শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের কাফুরা গ্রামের বাসিন্দা। গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন তাঁর মা আঞ্জোয়ারা বেগম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় শাহবন্দেগী ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর নামাপাড়া সংলগ্ন করতোয়া নদী থেকে আসাদুলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াদ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আর মরদেহ নদীতে ফেলে দিয়ে আলামত গোপনের কাজে সহায়তা করেন তাঁর নানি রেহানা বেগম।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, আসাদুলের অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে যাত্রীবেশে রিকশায় ওঠেন রিয়াদ। সন্ধ্যায় শেরপুরের রণবীরবালা গ্রামে রিয়াদের নানির বাড়িতে গিয়ে দুজন একসঙ্গে মাদক সেবন করেন। সেখানে ৫০ টাকার একটি নতুন নোট নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে ক্ষুব্ধ হয়ে রিয়াদ ধারালো ছুরি দিয়ে আসাদুলকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ চাদরে মুড়িয়ে করতোয়া নদীতে ফেলে দেন।