০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুরে ৯৪ মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, চার স্তরের নিরাপত্তা

 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে ৯৪টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা সাজানো, মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী, ডেকোরেটর শ্রমিক এবং মন্দির কমিটির সদস্যরা। উৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ধোয়ামোছা এবং নারু-মোয়া তৈরিসহ নানা কাজে। পূজার দিনগুলোতে আত্মীয়স্বজনের আগমন ও আনন্দ-উৎসবকে ঘিরে প্রতিটি পরিবারেই চলছে নানা আয়োজন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শেরপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্যাম বলেন, শেরপুর উপজেলার ৯৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। উৎসব সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপ কমিটির স্বেচ্ছাসেবকেরাও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভবানীপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গামন্দিরের সভাপতি উত্তম সিং বলেন, শেরপুর উপজেলার মানুষ শান্তিপ্রিয়। তাই প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে, যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন।

পূজার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্দিরে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এবার ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৭ অক্টোবর শনিবার মহাসপ্তমী, ১৮ অক্টোবর রবিবার মহাষ্টমী, ১৯ অক্টোবর সোমবার মহানবমী এবং ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

৯৪টি পূজামণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, প্রশাসনের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং মন্দির কমিটিগুলোর তৎপরতায় শেরপুরে শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

শেরপুরে মাদকসহ ৪ জন গ্রেপ্তার, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

শেরপুরে ৯৪ মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, চার স্তরের নিরাপত্তা

Update Time : ০৬:৪১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে ৯৪টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা সাজানো, মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী, ডেকোরেটর শ্রমিক এবং মন্দির কমিটির সদস্যরা। উৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ধোয়ামোছা এবং নারু-মোয়া তৈরিসহ নানা কাজে। পূজার দিনগুলোতে আত্মীয়স্বজনের আগমন ও আনন্দ-উৎসবকে ঘিরে প্রতিটি পরিবারেই চলছে নানা আয়োজন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শেরপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্যাম বলেন, শেরপুর উপজেলার ৯৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। উৎসব সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপ কমিটির স্বেচ্ছাসেবকেরাও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভবানীপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গামন্দিরের সভাপতি উত্তম সিং বলেন, শেরপুর উপজেলার মানুষ শান্তিপ্রিয়। তাই প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে, যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন।

পূজার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্দিরে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এবার ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৭ অক্টোবর শনিবার মহাসপ্তমী, ১৮ অক্টোবর রবিবার মহাষ্টমী, ১৯ অক্টোবর সোমবার মহানবমী এবং ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

৯৪টি পূজামণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, প্রশাসনের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং মন্দির কমিটিগুলোর তৎপরতায় শেরপুরে শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।