০৫:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুরে প্রধান অভিযুক্ত’র বাড়ি থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার

 

বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণের ৫ দিন পর দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী আঁখি মনিকে (১৬) উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার উপজেলার চকপোতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত রিয়াদ হোসেনের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রিয়াদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আঁঁখি মনি শেরপুর শহরের একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে চকপোতা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেন (২০) দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে রিয়াদের পরিবারকে জানানো হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮ টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বের হয় আঁখি মনি। চকপোতা গ্রামের একটি দোকানের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা রিয়াদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে কিংবা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে শনিবার রাতে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—চকপোতা গ্রামের রিয়াদ হোসেন (২০), তার মা ফরিদা বেগম (৪০), একই এলাকার হাফিজার রহমান (৫৫), রিয়াদের ভাই জিহাদ হোসেন (২৫) এবং কহিনুর বেগম ওরফে জেসমিন (৪০)। মামলা দায়েরের এক দিন পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোববার রিয়াদ হোসেনের বাড়ি থেকে আখি মনিকে উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলেছেন তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নিজ ইচ্ছায় মেয়েটি বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসেছে। এমনকি তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে সে এখন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাই তার এখন বিয়ের বয়স হয়নি।
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, বাদীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

সম্পাদক ও প্রকাশক: প্রভাষক নাহিদ আল মালেক, মুঠোফোন ০১৭১২ ২৬৬৩৭৪

উপদেষ্টা সম্পাদক: আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু ,মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৫৬৫

সহকারি সম্পাদক: আশরাফুল আলম পুরণ, মুঠোফোন ০১৭১১ ১৯৭৬৭৯

সম্পাদক কৃর্তক শান্তিনগর (টাউনকলোনী),শেরপুর,বগুড়া থেকে প্রকাশিত।

কার্যালয়: সাইফুল বারী কমপ্লেক্স, শান্তিনগর (টাউনকলোনী) শেরপুর ৫৮৪০, বগুড়া।
ইমেইল:

ই মেইল: sherpurnews2014@gmail.com

About Author Information

শেরপুরে প্রধান অভিযুক্ত’র বাড়ি থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার

Update Time : ০৮:০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

 

বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণের ৫ দিন পর দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী আঁখি মনিকে (১৬) উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার উপজেলার চকপোতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত রিয়াদ হোসেনের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রিয়াদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আঁঁখি মনি শেরপুর শহরের একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে চকপোতা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেন (২০) দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে রিয়াদের পরিবারকে জানানো হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮ টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বের হয় আঁখি মনি। চকপোতা গ্রামের একটি দোকানের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা রিয়াদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে কিংবা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে শনিবার রাতে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—চকপোতা গ্রামের রিয়াদ হোসেন (২০), তার মা ফরিদা বেগম (৪০), একই এলাকার হাফিজার রহমান (৫৫), রিয়াদের ভাই জিহাদ হোসেন (২৫) এবং কহিনুর বেগম ওরফে জেসমিন (৪০)। মামলা দায়েরের এক দিন পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোববার রিয়াদ হোসেনের বাড়ি থেকে আখি মনিকে উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলেছেন তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নিজ ইচ্ছায় মেয়েটি বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসেছে। এমনকি তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে সে এখন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাই তার এখন বিয়ের বয়স হয়নি।
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, বাদীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।